বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০, ০৫:১১ অপরাহ্ন

ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী সাংবাদিক নামধারী চাঁদাবাজ জাহাঙ্গীর বাহিনীকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ভুক্তভোগী পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক:
ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী সাংবাদিক নামধারী ভ‚মিদস্যু, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী জাহাঙ্গীর হোসেন ও তার বাহিনীকে অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়ে নিরীহ এলাকাবাসীকে রক্ষার দাবি জানিযেছে এক ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য মো. ইব্রাহিম মিয়া। জাহাঙ্গীর হোসেনের বাড়ি টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর উপজেলার কুমারজানি গ্রামে। আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন।
লিখিত অভিযোগে মো. ইব্রাহিম মিয়া বলেন, সাংবাদিক নামধারী ভ‚মিদস্যু, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী জাহাঙ্গীর হোসেন ও তার বাহিনীর হাতে আমরা দীর্ঘদিনযাবৎ জিম্মি। তার বাহিনীতে যারা রয়েছে তারা হলো- জাহাঙ্গীর হোসেনের পিতা মো. সিরাজ মিয়া, মহিলা কাউন্সিলর আফরোজা আলম, তার স্বামী আলম মিয়া, নুরুল ইসলামগং। তারা সন্ত্রাসী বাহিনী সিন্ডিকেট করে এলাকার নিরীহ মানুষকে জিম্মি করে অত্যাচার-নির্যাতন ও মিথ্যা মামলা দিয়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায় ও জমি জবরদখল করে চলেছে। ইতোমধ্যে জমির দালালী, প্রহসনমূলক বিচারের নামে টাকা আদায়, আদম ব্যবসা ও অবৈধ গ্যাস সংযোগের নামে নিরীহ লোকজনকে জিম্মি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে জাহাঙ্গীর বাহিনী। এই ভ‚মিদস্যু ও চাঁদাবাজ জাহাঙ্গীর ও তার বাহিনীর কারো বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে তারা প্রাণনাশের হুমকি দেয় এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে। জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে প্রায় ডজন খানেক মামলা রয়েছে। কয়েকটি মামলার নম্বর হলো- ৭৭৭১/২০০৭, ৫৩/১৭-১৮, ১৬৯/২০১৬, সিআর নং-৩৬৯/১৮, ৩৭, ৫৩, ৫৭৮ ও নন জিআর ৩২/১৯ সহ আরো একাধিক মামলা। ইতোপূর্বে একটি মামলায় তার ৬ মাসের জেল হয় এবং ২৬৭৯ নং মামলায় জাহাঙ্গীর হোসেন ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে ২০১৯ সালে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি হয়। পরে তারা হাইকোর্ট থেকে জামিন নেয়। এছাড়া জাহাঙ্গীর হোসেন জাল দলিল করায় মির্জাপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভ‚মি) অফিসার মো. মঈনুল হকের কাছে ধরা পরে। রিভিউ মিস মোকদ্দমা নং ৫৩ ও নামজারী ও জমাভাগ মোকদ্দমা নং ২৭০৬ এর প্রেক্ষিতে জাল দলিলের নামজারী ও জমাভাগ মোকদ্দমাটি বাতিল করা হয়। বর্তমানে ৮২৮ নং জাল দলিলের ভিত্তিতে জাহাঙ্গীর হোসেন ও তার বাবা মো. সিরাজ মিয়া, মা মোছা. জাহিরন নেছা ও স্ত্রী মোছা. সেলিনা বেগমের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছে। গত ৩ অক্টোবর ৪৬৮/৪৭১/৩৪ দন্ডবিধি আইনে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি ওয়ারেন্ট জারী করা হয়। দুঃখজনক যে, জাহাঙ্গীরসহ অন্য আসামীরা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করলেও অদৃশ্য কারণে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছে না। এতে এলাকাবাসীর মনে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। তিনি বলেন, জন্মলগ্ন থেকেই তারা মূলত বিএনপির সক্রিয় সদস্য ছিলেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর মুখোশ পাল্টে আওয়ামী লীগের নাম ব্যবহার করে এলাকায় নানা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। এতে এলাকায় সরকারের ভাবমূর্তি ও সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে ইব্রাহিম মিয়া বলেন, আমি মির্জাপুর বাজার সংলগ্ন ‘মা সিএনজি ফিলিং স্টেশন লিঃ’ এর সত্ত¡াধিকারী। উক্ত মা সিএনজি ফিলিং স্টেশনের সমস্ত জমির বৈধ কাগজপত্র ও মা সিএনজি ফিলিং স্টেশনের সকলপ্রকার বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্তে¡ও জাহাঙ্গীর ও তার বাহিনীর সদস্যদের মোটা অঙ্কের চাঁদা না দেয়ায় তারা আমার ও আমার ফিলিং স্টেশনের সুনাম নষ্ট করার জন্য খাস জমি, অর্পিত সম্পত্তি ও সরকারের রাজস্ব ফাঁকির মিথ্যা, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করায়। যা অদৌ সত্য নয়। আমি সরকারকে নিয়মিত আয়কর, ট্যাক্স, গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করে সুনামের সাথে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছি। শুধু তাই নয়, জাহাঙ্গীর বাহিনী ইতোপূর্বে আমার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দেয়ায় তারা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা নারী নির্যাতনের মামলা দায়ের করে। সেই মামলায় আমি ৯ দিন জলে হাজতে থাকি। পরে স্বাক্ষী-প্রমানের ভিত্তিতে আমাকে সেই মামলা থেকে খালাস দেয়া হয়। সাংবাদিক নামধারী এই জাহাঙ্গীর নিজেকে বিভিন্ন পত্রিকা, অনলাইন ও টেলিভিশনের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে আসছে। একজন সাংবাদিক কি করে বিভিন্ন পত্রিকা, অনলাইন ও টেলিভিশনের সাংবাদিক হয় তা আমার জানা নেই। সাংবাদিকরা জাতির বিবেক। সেই জাতির বিবেকের পরিচয় দিয়ে জাহাঙ্গীর বলে, যতদিন ব্যবসা করবো ততদিন নাকি তাকে চাঁদা দিতে হবে। চাঁদা না দিলে নাকি শান্তিতে ব্যবসা করতে দিবে না। এই জাহাঙ্গীর বাহিনীর কবলে শুধু আমি নই, অনেকইে নির্যাতনের শিকার হয়েছে। সুবাস, মিজান, আজগর, শুকুরজান, হাতেম আলী, বারেক ও আনন্দসহ শতশত নিরীহ মানুষ এই জাহাঙ্গীর বাহিনী দ্বারা নির্যাতিত হয়েছে। এই বাহিনী প্রথমে চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দিলে ভ‚য়া দলিল বানিয়ে জমি জবরদখল করে। কেউ প্রতিবাদ করলে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে। এছাড়া তার বাহিনীতে রয়েছে নারী সিন্ডিকেট। যাদের মাধ্যমে বিভিন্ন অনৈতিক কার্যকলাপ করিয়ে থাকে জাহাঙ্গীর। জাহাঙ্গীর বাহিনীর মাধ্যমে আমি নানাভাবে নির্যাতিত হয়েছি। মিথ্যা মামলায় আমাকে জেলও খাটিয়েছে। জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যরা সিন্ডিকেট করে এ পর্যন্ত আমার কাছে থেকে নগদ ও চেকের মাধ্য ২ কোটি ৭ লাখ টাকা সন্ত্রাসী কায়দায় চাঁদা নিয়েছে। জীবন বাঁচাতে আমি চাঁদাগুলো দিতে বাধ্য হয়েছি। এছাড়া ৪টি ভ‚য়া ও জাল দলিল তৈরী করে প্রায় ২ কোটি টাকা মূল্যের ২৮ শতাংশ জমি জবরদখল করে রেখেছে। ভ‚য়া ও জাল দলিলগুলোর নাম্বার হলো- ২৬৭৯, ২৩৭৯, ৮২৮ ও ১১৮৬। জাহাঙ্গীর ও তার বাহিনী একটি স্ট্যাম্প করে নতুন করে ৩০ লাখ টাকা দাবি করেছে। যার স্ট্যাম্প নং- কট-৫২৮২৯৬৯ ও ৫২৮২৬৯৭। জমি দিবে বলে ৯ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা নগদ নিয়েছে এখন জমিও দেয় না টাকা ও দেয় না এ ব্যাপারে মামলাও করা হয়েছে। এই ৩০ লাখ টাকা চাঁদা না দেয়ায় জাহাঙ্গীর ও তার বাহিনী আমাকে বেধরক মারপিট করেছে। সে আমাকে ও আমার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে এবং আমার সিএনজি স্টেশন পুঁড়িয়ে দিবে বলে হুমকি দিয়েছে। এমতাবস্থায় আমি ও আমার পরিবারের তাদের ভয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি।
এমতাবস্থায় আমরা এই চাঁদাবাজ, ভ‚মি জবরদখলকারী ও সন্ত্রাসী জাহাঙ্গীর ও তার বাহিনীর কবল থেকে রক্ষা পেতে চাই। এজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট আকুল আবেদন জানাচ্ছি যে, অবিলম্বে জাহাঙ্গীর ও তার বাহিনীকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিন।
সংবাদ সম্মেলনে এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন- মোঃ আলমগীর, মোখলেছুর রহমান, জাহাঙ্গীর আলম।

Print Friendly, PDF & Email

Please Share This Post in Your Social Media

কপিরাইটঃ ২০১৬ দৈনিক অন্যদিগন্ত এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Design & Developed BY It Host Seba Mobile: 01625324144
Shares