রবিবার, ২৫ Jul ২০২১, ০৮:৫৯ অপরাহ্ন

কদমতলীতে ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় ৪ দিনের রিমান্ডে মেহজাবিন

এস এম কামাল পারভেজ॥

রাজধানীর কদমতলীতে ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় মেহজাবিন মুনের বিরুদ্ধে ১০ দিনের রিমান্ডে চায় পুলিশ। আদালত ৪ দিনের রিমান্ড মুন্জুর করেন।

গত শুক্রবার দিবাগত মধ্য রাতে রাজধানীর কদমতলী থানাধীন ২৭৪/১ মুরাদপুরের লাল মিয়া সরকার রোডে নিজ বাসায় খুন হন সৌদি প্রবাসী মোঃ মাসুদ রানা (৫০) তার স্ত্রী মৌসুমী ইসলাম (৪৫) ও ছোট মেয়ে জান্নাতুল ইসলাম (২০)। আর এই খুনের কথা স্বীকার করেছেন তার আরেক মেয়ে মেহজাবীন মুন। এই ঘটনায় আশংঙ্কা অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে মুনের স্বামী শফিকুল ইসলাম ও তার পাচ বছরের একমাত্র মেয়ে ইফতিয়া।

পুলিশ বলছেন ক্ষোভের বশিভূত হয়ে এ খুন করেছে বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন আটক মুন। তবে তার কথায় কিছু অসংগতি আছে বলে পরবর্তীতে যাচাই-বাছাই করে জানা যাবে আসল ঘটনা কি।

এলাকাবাসী জানায় নিহত মাসুদ রানা প্রবাসী থাকায় এই পরিবার অনৈতিক কাজে জড়িত ছিল তারা শুনেছেন। আর এই কাজে সামিল থাকার জন্য প্রায় মেহজাবীনকে তার মা মৌসুমী চাপ প্রয়োগ করত। এতে করে চাপা ক্ষোভে মেহজাবীন এই খুনের ঘটনা ঘটাতে পারে।

কিন্তু নিহতর পরিবার বলছে ভিন্ন কথা। মুনের তিন খালা অভিযোগ করে বলেন, মুনের স্বামী শফিকুল ইসলাম একজন নেশাগ্রস্থ ও চরিত্রহীন। সে মুনের ছোট বোন নিহত জান্নাতুল ইসলামকে বিয়ে করতে চেয়েছিল যা মুন চায়নি তাই শফিকুল সকলকে খুন করেছে।

এদিকে মামলার এজাহার বলছে অন্য কথা। নানা ধরনের কথা বের হচ্ছে এই খুনের ঘটনায়।মামলার বাদী সাখাওয়াত হোসেন এজাহারে উল্লেখ করেন, তার ছোট ভাই ২৬ বছর সৌদি প্রবাসী ছিলেন। সে মাঝে মাঝে দেশে আসত। আসামীদ্বয় বিবাহের পর নিহত মাসুদ রানার কাছে বিভিন্ন সময় টাকা পয়সা ও সম্পতি লিখে দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করত। এতে নিহত আমার ভায়ের স্ত্রী মৌসুমী ইসলাম রাজী না হওয়ায় প্রায় ৬ মাস ধরে বিভিন্ন উপায় হত্যার পরিকল্পনা করে আসছিল তারা। এর মধ্য প্রায় তিন মাস আগে আমার ছোট ভাই দেশে ফিরে ২৭৪/১ কদমতলী থানাধীন মুরাদপুরের লাল মিয়া সরকার রোডে বসবাস করতে থাকেন। কিন্তু গত শুক্রবার আসামীদ্বয় বিকালে তাদের বাসায় বেড়াতে আসে। ঐদিন রাতের কোন এক সময় আসামীদ্বয় চা,কফি,পানির সাথে ঘুমের ঔষধ মিশিয়ে অচেতন করে হাত পা বেঁধে শ্বাসরুদ্ধ করে তাদের হত্যা নিশ্চিত করে।

কদমতলী থানা অফিসার ইনচার্জ জামাল উদ্দিন মীর জানান, ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় নিহত মাসুদ রানার বড় ভাই সাখাওয়াত হোসেন বাদী হয়ে মেহজাবীন মুন ও স্বামী শফিকুল ইসলামকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।যার মামলা নং ৬৪। আসামী মেহজাবীন মুন গ্রেফতার রয়েছে। অন্য আসামী শফিকুল ইসলাম চিকিৎসাধীন অবস্থায় মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। সে সুস্থ হয়ে ফিরে আসলে তাকে গ্রেফতার দেখানো হবে। মেহজাবীন মুন তার স্বামী শফিকুল ইসলাম ও নিহত মা মৌসুমী কেরানীগঞ্জ থানায় ২০১৬ সালের একটি হত্যা মামলার আসামী বলে জেনেছেন।

উল্লেখ গত শনিবার ভোরে মেহেজাবীন মুন ৯৯৯ ফোন করে বলেন তিনি তার মা,বাবা ও ছোট বোনকে খুন করেছেন। দ্রুত পুলিশ না আসলে তার স্বামী ও তার একমাত্র শিশু সন্তানকে খুন করবে। খবর পেয়ে পুলিশ ৩ জনের মরাদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মিটফোর্ড হাসপাতালে পাঠায়। বাকি দুইজনকে অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। আর মেহেজাবিনকে গ্রেপ্তার করে।

Please Share This Post in Your Social Media

কপিরাইটঃ ২০১৬ দৈনিক অন্যদিগন্ত এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Design & Developed BY It Host Seba