বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২০, ০৬:২৪ অপরাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ
গিদারীর কলেজ ছাত্রী সেতু হত্যার আসামীদের গ্রেফতার -দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবীতে নারীমুক্তি কেন্দ্র বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল  গাইবান্ধা ব্রীজরোড দূর্গাবাড়ী মন্দিরে আসন্ন দূর্গাপুজার প্রস্তুতিমূলক সভা ও জন্মাষ্টমী উতসব অনুষ্ঠিত পুলিশি বাধার অভিযোগ কোকোর কবর জিয়ারতে লেবানন থেকে দেশে ফিরলেন ৭১ বাংলাদেশি সিনহা হত্যা : ৭ দিনের রিমান্ডে চার পুলিশ ও তিন সাক্ষী  রাশিয়ার ভ্যাকসিনের অনুমোদন দিলেন পুতিন ভাণ্ডারিয়া পৌরসভায় অবৈধভাবে হাইওয়ে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ যশোরে কাভার্ডভ্যান চাপায় ২ মোটরসাইকেল আরোহী নিহত জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বেনাপোল বন্দরে আমদানি-রফতানি বন্ধ সেপ্টেম্বরে এইচএসসি পরীক্ষা

চট্টগ্রামে শ্বাসকষ্টে মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যু,চিকিৎসা সেবা না পাওয়ার অভিযোগ

সাহেদুল ইসলাম সাগরঃ বিভাগীয় ব্যুরো চীফ,চট্টগ্রাম॥
‘ধন্যবাদ বাংলাদেশ,আইসিইউ আর লাগবে না!” কথাটি সত্যিই কতটা আবেগ তাড়িত তা না জানলে তার মর্ম উপলব্ধি করা যাবে না। চট্টগ্রামে এক মুক্তিযোদ্ধার চিকিৎসা না পেয়ে করুণ মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া গিয়েছে। আর,সেই মৃত মুক্তিযোদ্ধা চিকিৎসাহীন মৃত্যুর পর পেলেন গার্ড অফ অনার।মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমানের বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া মেয়ে মারিয়া তাহা গত শুক্রবার (১২ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় তার মুমূর্ষু বাবার জন্য একটি আইসিইউ বেড চেয়ে আকুতি জানিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। এর ঠিক তিন ঘন্টা পর রাত সাড়ে দশটায় ছোট্ট আরেকটি স্ট্যাটাস দেন—”আইসিইউ আর লাগবে না!”।সেদিন এই মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের স্বজনরা রাস্তায় পা লাগাতে দেননি। এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত হন্যে হয়ে ছুটে বেড়িয়েছেন একটি আইসিইউ বেডের জন্য। চট্টগ্রাম নগরীর এমন কোনো সরকারি বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক নেই, যেখানে তারা একটি আইসিইউ বেডের জন্য আকুতি-মিনতি জানাননি। সারা দিনের সমস্ত চেষ্টা বিফলে যাওয়ার পর স্বজনদের চোখের সামনেই ৭০ বছর বয়সী মানুষটি তিলে তিলে এগোতে থাকেন মৃত্যুর দরজার দিকে। পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধ করে জেতা সেই বাবা মাত্র একটি আইসিইউ বেডের কাছে হেরে যাচ্ছেন—সবারই তখন জানা হয়ে গেছে। অন্যদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া মেয়েটিও বুঝে যান,তার বাবাকে আর কেউ ফেরাতে পারবে না। ফেসবুকটা খুলে কাঁপা কাঁপা হাতে তিনি লিখলেন শুধু একটি লাইন_’‘আইসিইউ আর লাগবে না।’’ গত বুধবার (১০ জুন) রণাঙ্গনে জীবনবাজি রেখে যুদ্ধ করা মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমানের হালকা জ্বর ও শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। পরদিন হঠাৎ করে বেড়ে যায় শ্বাসকষ্ট। বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় পরিবারের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয় নগরের সিএসসিআর হাসপাতালে। ভর্তির আশ্বাস পেয়ে সেখানে তাকে নিয়ে যান স্বজনরা। কিন্তু রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার পর শ্বাসকষ্ট দেখামাত্রই মুখ ফিরিয়ে নেয় সিএসসিআর। মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় দিলেও সেগুলোকে পাত্তাই দেয়নি হাসপাতালটি। এরপর ওই রাতেই বাধ্য হয়ে মিজানুর রহমানকে আবার বাসায় নিয়ে আসেন তার স্বজনেরা। পর দিন শুক্রবার (১২ জুন) সকাল থেকেই তীব্র হতে থাকে তার শ্বাসকষ্ট। বিকেল তিনটার দিকে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ভর্তির পর শ্বাসকষ্ট আরও বাড়তে থাকলে তাকে আইসিইউ বেডে নেওয়ার জন্য স্বজনরা শত আকুতি জানালেও কোন লাভ হয়নি। বরং তাকে অনেকটা বিনা চিকিৎসায় ফেলে রাখা হয়। মুমূর্ষু মিজানুর রহমানকে অক্সিজেন দিয়ে সাধারণ একটি বেডে রাখা হলেও কোনো চিকিৎকের দেখা মেলেনি। পরে ওই পরিবারের সদস্যরা বের হয়ে একটি আইসিইউ বেডের খোঁজে ছুটলেন বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে। কেউ গেলেন পার্কভিউ হাসপাতালে,কেউবা মা ও শিশু হাসপাতাল। অন্যদিকে কেউ গেলেন ম্যাক্স হাসপাতালে। কেউবা আবার সার্জিস্কোপ হাসপাতাল ও শেভরণে গিয়েও আকুতি জানালেন। কিন্তু না,শ্বাসকষ্টের কথা শুনে কেউ রাজি হল না।শেষমেশ নগরীতে ক্লিনিক সিন্ডিকেটের গড়া করোনার কথিত হাসপাতাল হলি ক্রিসেন্টেও গেলেন স্বজনরা। নাহ্! সেখানেও নিলো না। পরে নিরূপায় হয়ে স্বজনরা পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তা,রাজনৈতিক নেতা,চিকিৎসক নেতাসহ অনেকের কাছেই ফোনে একজন মুক্তিযোদ্ধার জন্য একটি আইসিইউ বেডের ব্যবস্থার জন্য আকুতি মিনতি করেন। কিন্তু তাতেও কোনো কাজ হয়নি। মুমূর্ষু মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান দীর্ঘ ৯ ঘন্টা জীবনটা বাঁচানোর লড়াই করে শুক্রবার রাত ১১টায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। শনিবার (১৩ জুন) তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। ওই দিন মিজানুর রহমানের মেয়ে মারিয়া তাহা ফেসবুকে লিখেছেন—”আপনাদেরকে তো আব্বু একটা স্বাধীন দেশ উপহার দিয়েছে,সেই দেশের হয়ে একটা আইসিইউ তাকে দিতে পারলেন না। ধন্যবাদ বাংলাদেশ।” মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমানের পৈত্রিক বাড়ি ব্রাক্ষণবাড়িয়া নবীনগরের রতনপুর হলেও তিনি আগ্রাবাদের নাজিরপুল এলাকার নিজ বাসায় থাকতেন। তিনি নিজের মুক্তিযোদ্ধা পেনশনের টাকাটাও দাতব্য হাসপাতালে দান করে গেছেন। একজন মুক্তিযোদ্ধার নগরের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা না পাওয়া এবং চট্টগ্রাম মেডিকেলে অনেকটা বিনা চিকিৎসায় মারা যাওয়ার ঘটনায় পুরো চট্টগ্রাম ক্ষোভে ফুসছে।অনেকেই বলছে,এমন ঘটনায় সত্যিই আমাদের পুরো জাতির জন্যই বড়ই লজ্জার।

Print Friendly, PDF & Email

Please Share This Post in Your Social Media

কপিরাইটঃ ২০১৬ দৈনিক অন্যদিগন্ত এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Design & Developed BY It Host Seba Mobile: 01625324144
Shares