সোমবার, ০৬ Jul ২০২০, ০৬:২৮ অপরাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ
করোনাভাইরাসে আরও মারা গেলেন ২৯ জন জালিয়াতির অভিযোগে ৫০ নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পাভেল আহমেদ ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার। আরও ৪২ জনের প্রাণ কাড়ল করোনাভাইরাস বানিয়াচংয়ে শিক্ষিকার সাথে ইভটিজিং করায় বখাটের কারাদন্ড গজারিয়া উপজেলার প্রাক্তন ছাত্রলীগ ফাউন্ডেশন এর উদ্যোগে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে পালিত হল আওয়ামী লীগের ৭১তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী সমাজ সেবক হাজী খায়ের আহামদ’র ৬ষ্ট মৃত্যুবার্ষিকীতে অসহায়দের মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান ও দোয়া মাহফিল দৈনিক অন্যদিগন্ত’র সহকারী সম্পাদক জাহিদকে হত্যার হুমকি দইখাওয়ার জননন্দীত ইয়াবা জামাই মমিনপুরের রুবেল রংপুরে এ পর্যন্ত করোনায় মৃত্যু ৩৯, আক্রান্ত ২২৪৮ করোনাভাইরাসে আরও ৩৯ জন মৃত্যুর মিছিলে 

ছেলেই যখন মায়ের আতঙ্ক!

মো: আনোয়ার হোসেন:

গর্ভধারিণী মায়ের আতঙ্ক তারই নাড়ি ছেড়া ধন। বিশ্ব মা দিবসে সব সন্তানরা যখন মায়ের ত্যাগ, নিঃস্বার্থ ভালোবাসাকে বিশেষভাবে স্মরণ করে, ঠিক এই সময়ে এক অভাগীনী মা তার তার বখে যাওয়া সন্তানের ছেলের নির্যাতন থেকে বাঁচার আকুতি জানিয়েছেন। কোন উপায় না পেয়ে দ্বারস্থ হয়েছেন থানা-পুলিশের কাছে। তবে ছেলে গ্রেপ্তার না হওয়ায় মায়ের মুহূর্ত কাটছে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠায়। ঘটনাটি রাজধানীর গ্রিন রোডের সরকারি আবাসিক এলাকার। জানা গেছে, সরকারি কর্মকর্তা মেয়ের নামে বরাদ্ধকৃত একটি সরকারি ডরমেটরীতে ছেলে খাল মিল্লাত হোসেনকে (২৫) নিয়ে থাকেন নুরুন্নাহার রুনু (৫১)। তার গ্রামের বাড়ি বাগেরহাটে। স্বামী কয়েক বছর আগে মারা যায়। মেয়ে লেখাপড়া শিখে ভালো চাকরি করলে দুসন্তানের মধ্যে ছেলে অষ্টম শ্রেনি পর‌্যন্ত পড়ালেখা করেই উচ্ছন্নে যায়। জড়িয়ে পড়ে মাদক সেবন ব্যবসাসহ নানা অপরাধে। মাঝেমাঝেই মাদকের টাকার জন্য হামলে পড়ে অভাগিনী মায়ের উপর। ভাঙচুর করে ঘরের সব দামি আসবাবপত্র। গত ৭ মে মধ্য রাতে মা রুনুকে মাদকের টাকার জন্য কে মেরে রক্তাক্ত করে মিল্লাত। আর সহ্য না করতে পেরে মেয়ে উর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তার পরামর্শে পরদিন দুপুরে কলাবাগান থানায় ছেলের নামে মামলা করেন অসহায় মা। দৈনিক অন্যদিগন্তে এ বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন অভাগিনী মা। একপর্যায়ে নিজেকে সামলে নিয়ে বলেন,গত ৭ মে মধ্যরাতে মাদক কেনার টাকার জন্য প্রথমে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে, এরপর আমাকে কাঠের একটি লাঠি দিয়ে মারধর করে। আমি মাথায় এবং কানে আঘাত পাই। আমি মেঝেতে পরে গেলে আমাকে লাথি মেরে ঘর থেকে জিনিসপত্র ও নগদ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। ভবিষ্যতে মাদকের টাকা না পেলে সে আমাকে আবার জানে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে গেছে।’ তিনি আরো বলেন, মিল্লাত অষ্টম শ্রেনি পন্ত পড়ালেখা করে। এর পর থেকেই সে বখে যায়। পাড়ার বিভিন্ন খারাপ ছেলেদের সঙ্গে মিশে মাদক সেবন করে। সে মাদকের টাকার জন্য প্রায়েই ঘরে ভাংচুর ও আমাকে মারধর করে। তাকে ভালো করার জন্য বহুবার চেষ্টা করা হয়েছে। রিহ্যাবে নেয়া হয়েছে। কিন্তু তাকে ভালো করা যায়নি। ২০১৭ সালে ওর বাবা মারা যাবার পর থেকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। ওই রাতের বর্ণনা দিতে গিয়ে অভাগিনী মা বলছিলেন, আমি ভেবেছিলাম ওই রাতে আমাকে খুনই করে ফেলবে। প্রায় দুই ঘন্টা আমাকে বেদম পেটাতে থাকে বেদম পেটাতে থাকে। একপর্যায়ে রাত পৌনে একটার দিকে বাথরুমে যাবার কথা দরজা খুলে দৌড়ে নীচে যাই। নীচ তলার ফ্ল্যাটের লোকজন পুলিশকে খবর দেয়। ওই মা বলছিলেন, মৃত্যুর আগেই আমি আজরাইল কে দেখেছি। এরপর থেকে আমি এক মুহুর্তও ঘুমাতে পারিনি। মনে হয় এই বুঝি জানালার গ্রিল কেটে বাসায় ঢুকে আমার খাটের সামনে দাড়িয়ে আছে মিল্লাত। যেদিন মামলা করেছি, সেদিন সন্ধ্যায় এসেই হুমিকি দিয়েগেছে, আামকে আবার এসে খুন করবে।’ এ বিষয়ে কলাবাগান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পরিতোষ চন্দ্র বলেন, ওই ছেলেকে গ্রেফতার করতে আমরা একাধিকবার অভিযান চালিয়েছি। আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

কপিরাইটঃ ২০১৬ দৈনিক অন্যদিগন্ত এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Design & Developed BY It Host Seba Mobile: 01625324144
Shares