বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ০২:৫৬ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ
হাটহাজারীতে র‌্যাবের অভিযানে ৭ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার আটক  ১ হাটহাজারীতে তাল গাছের বীজ বপন করেছে উপজেলা প্রশাসন শেরপুরে দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মাঝে সংঘর্ষ শেয়ারবাজারে লেনদেনের গতি বেড়েছে  সশরীরে হবে ঢাবির ভর্তি পরীক্ষা ট্রাম্প-বাইডেনের চূড়ান্ত বিতর্কে থাকছে মাইক্রোফোন বন্ধের সুযোগ বিশিষ্ট সাংবাদিক শরিফুল ইসলাম খানের মার ইন্তেকাল, বিভিন্ন মহলের শোক ঢাকাস্থ গোপালগঞ্জ সাংবাদিক সমিতির কমিটি গঠন সভাপতি মামুন, সা: সম্পাদক বাবুল, সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল সাত কর্মদিবসেই ধর্ষণ মামলার রায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী সাংবাদিক নামধারী চাঁদাবাজ জাহাঙ্গীর বাহিনীকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ভুক্তভোগী পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

ডব্লিউএফপি শান্তিতে নোবেল পেল 

অন্যদিগন্ত ডেস্ক ।।

সংঘাত ও যুদ্ধকবলিত এলাকাগুলোতে ক্ষুধা নিরসনে অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরুপ এ বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেল জাতিসংঘের অঙ্গ সংস্থা বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি বা ডব্লিউএফপি।শুক্রবার নরওয়ের স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় (বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩ টা) রাজধানী অসলো থেকে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি এবারের শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণা করে।

নোবেল কমিটি বলছে, ক্ষুধার বিরুদ্ধে লড়াই, শান্তি প্রতিষ্ঠায় যুদ্ধ-সংঘাত কবলিত এলাকার পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং যুদ্ধ ও সংঘাতের অস্ত্র হিসেবে ক্ষুধাকে ব্যবহার রোধ করতে চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করার জন্য ক্ষুধার বিরুদ্ধে অব্যাহত লড়াই প্রচেষ্টার স্বীকৃতিস্বরুপ সংস্থাটিকে এবার শান্তিতে নোবেল দেয়া হলো।

আরও বলেছে, ২০২০ সালের নোবেল বিজয়ী বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি খাদ্য সুরক্ষাকে শান্তির উপকরণ হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বহুপাক্ষিক সহযোগিতায় মূল ভূমিকা পালন করেছে এবং যুদ্ধ ও সংঘাতের অস্ত্র হিসাবে ক্ষুধার ব্যবহারকে মোকাবেলায় জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রসমূহকে একত্রিত করার জন্য জোরালো অবদান রেখেছে।

নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির চেয়ারম্যন বেরিট রেইস- অ্যান্ডারসন শান্তিতে নোবেল বিজয়ীর নাম ঘোষণা করে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সংহতি ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতার প্রয়োজন আগের তুলনায় আরও স্পষ্ট ও দৃশ্যমান হওয়া প্রয়োজন।’

সংগঠন ও সংস্থার মধ্যে সর্বোচ্চ তিনবার নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছে আন্তর্জাতিক রেডক্রস। ১৯১৭, ১৯৪৪ ও ১৯৬৩ সালে রেডক্রসকে শান্তিতে নোবেল দেয়া হয়। এ ছাড়া ১৯৫৪ ও ১৯৮১ সালে শান্তিতে নোবেল পেয়ে এ তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর।

বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি জাতিসংঘের খাদ্য সহায়তা সংক্রান্ত সংস্থা। এটি ক্ষুধা ও খাদ্য নিরাপত্তার সাথে জড়িত বিশ্বের বৃহত্তম সংস্থা। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির নিজস্ব তথ্যমতে সংস্থাটি প্রতি বছর ৮৮টি দেশে ৯৭ কোটি মানুষকে খাদ্য সহায়তা দেয়। সংস্থাটির সদর দফতর রোমে অবস্থিত। সারা বিশ্বে এর ৮০টিরও বেশি শাখা আছে।

নোবেল পুরস্কারের অর্থমূল্য এখন এক কোটি সুইডিশ ক্রোন; যা প্রায় ১১ লাখ মার্কিন ডলার অর্থাৎ বাংলাদেশি মুদ্রায় ৯ কোটি ৩২ লাখ টাকারও বেশি। আগামী ১০ ডিসেম্বর নরওয়ের রাজধানী অসলোতে পুরস্কার প্রদান করা হবে।

২০১৯ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পান ইথিওপিয়ার সংস্কারপন্থী প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ। মূলত দুই দশক ধরে প্রতিবেশী ইরিত্রিয়ার সঙ্গে চলা যুদ্ধের অবসান ও দেশটির মধ্যে জাতিগত সংঘাত নিরসনের ইথিওপিয়ার আমূল সংস্করের কারিগর হিসেবে তাকে শান্তিতে নোবেল দেয়া হয়।

বিজয়ী বাছাইয়ের কাজে নিয়োজিত কমিটিতে কয়েক বছরের বিতর্ক এবং যৌন কেলেঙ্কারির ঘটনার পর সাহিত্যে চলতি বছরের নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন মার্কিন কবি লুইস গ্লুক। গতকাল বৃহস্পতিবার সুইডেনের স্থানীয় সময় দুপুর ১টায় সুইডিশ একাডেমি বিশ্বের সম্মানজনক এ পুরস্কারের বিজয়ীর নাম ঘোষণা করে।

ডিএনএ সম্পাদনায় ক্রিসপার বা ক্যাস-৯ নামের নতুন একটি প্রযুক্তি উদ্ভাবনের জন্য এ বছর রসায়নে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ফ্রান্সের ইমানুয়েল শরপেনটির ও যুক্তরাষ্ট্রের জেনিফার এ দোনা। গত বুধবার রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস ওই তিন রসায়নবিদের নাম ঘোষণা করে।

কৃষ্ণ গহ্বর সম্পর্কে নতুন আবিষ্কারের গবেষণায় পদার্থে নোবেল পেয়েছেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞানী রজার পেনরোস, মার্কিন জ্যোতির্বিদ রেইনহার্ড গেঞ্জেল ও জার্মান পদার্থবিদ আন্দ্রিয়া ঘেজতিন বিজ্ঞানী। গত মঙ্গলবার রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি এ বছরের পদার্থে নোবেলজয়ীদের নাম ঘোষণা করে।

গত সোমবার হেপাটাইটিস সি ভাইরাস আবিষ্কার এবং এর চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য মার্কিন বিজ্ঞানী হার্ভে জে আল্টার ও চার্লস এম রাইস এবং ব্রিটিশ বিজ্ঞানী মাইকেল হাউটন দুই মার্কিন বিজ্ঞানীকে চিকিৎসায় নোবেল জয়ী হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়।

ডিনামাইট আবিষ্কারক আলফ্রেড নোবেল ৩ কোটি ১০ লাখ ক্রোনার রেখে গিয়েছিলেন, আজকের বাজারে যা প্রায় ১৮০ কোটি ক্রোনের সমান। তার রেখে যাওয়া ওই অর্থ দিয়েই ১৯০১ সাল থেকে মর্যাদাপূর্ণ এ নোবেল পুরস্কারের প্রচলন করা হয়। এতদিন এ নোবেল পুরস্কারের অর্থমূল্য ছিল ৯০ লাখ সুইডিশ ক্রোনার।

আলফ্রেড নোবেলের উপার্জিত অর্থ দিয়ে ১৯০১ সালে পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, চিকিৎসাবিজ্ঞান, সাহিত্য ও শান্তিতে নোবেল পুরস্কারে গোড়াপত্তন ঘটে। ১৯৬৮ সালে এ তালিকায় যুক্ত হয় অর্থনীতি। আগামী ১২ অক্টোবর অর্থনীতিতে এ বছরের নোবেল বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে।

পদার্থবিদ্যা, রসায়নবিদ্যা এবং অর্থনীতিতে নোবেল বিজয়ী বা বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে দ্য রয়্যাল ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স। দ্য রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি থেকে সাহিত্য এবং নরওয়ের রাজধানী অসলো থেকে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী কিংবা বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়।

Print Friendly, PDF & Email

Please Share This Post in Your Social Media

কপিরাইটঃ ২০১৬ দৈনিক অন্যদিগন্ত এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Design & Developed BY It Host Seba Mobile: 01625324144
Shares