সোমবার, ০৬ Jul ২০২০, ০৪:৫৯ অপরাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ
করোনাভাইরাসে আরও মারা গেলেন ২৯ জন জালিয়াতির অভিযোগে ৫০ নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পাভেল আহমেদ ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার। আরও ৪২ জনের প্রাণ কাড়ল করোনাভাইরাস বানিয়াচংয়ে শিক্ষিকার সাথে ইভটিজিং করায় বখাটের কারাদন্ড গজারিয়া উপজেলার প্রাক্তন ছাত্রলীগ ফাউন্ডেশন এর উদ্যোগে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে পালিত হল আওয়ামী লীগের ৭১তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী সমাজ সেবক হাজী খায়ের আহামদ’র ৬ষ্ট মৃত্যুবার্ষিকীতে অসহায়দের মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান ও দোয়া মাহফিল দৈনিক অন্যদিগন্ত’র সহকারী সম্পাদক জাহিদকে হত্যার হুমকি দইখাওয়ার জননন্দীত ইয়াবা জামাই মমিনপুরের রুবেল রংপুরে এ পর্যন্ত করোনায় মৃত্যু ৩৯, আক্রান্ত ২২৪৮ করোনাভাইরাসে আরও ৩৯ জন মৃত্যুর মিছিলে 

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবি সম্পাদক পরিষদের

মোহাম্মদ মাসুদ॥
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দেয়ায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গ্রেফতার সাংবাদিক, কার্টুনিস্ট ও লেখকের মুক্তি চেয়েছে সম্পাদক পরিষদ। একই সঙ্গে এই আইন বাতিলের দাবিও জানিয়েছে দেশের সম্পাদকদের এ সংগঠন।

সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক মামলা ও গ্রেফতার মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য স্পষ্ট হুমকি
গতকাল সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম এবং সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ দাবি করা হয়।

সম্প্রতি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় ‘রাষ্ট্রচিন্তা’ নামে একটি সংগঠনের ঢাকার সমন্বয়ক দিদারুল ভুইয়া, কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোর ও লেখক মুশতাক আহমেদকে গ্রেফতার করা হয়। তার আগে ভিন্ন মামলায় গ্রেফতার করা হয় ফটোসাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজলকে। এরও আগে অনলাইন নিউজপোর্টাল জাগো নিউজের সম্পাদক মহিউদ্দিন সরকার ও বিডিনিউজের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদীসহ চারজনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করা হয়।

সম্পাদক পরিষদের বিবৃতিতে বলা হয়, সাংবাদিক, কার্টুনিস্ট ও লেখকের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক মামলা ও তাদের গ্রেফতার আমরা উদ্বেগের সাথে পর্যবেক্ষণ করছি। গ্রেফতার করার আগে অভিযোগের বিষয়গুলোকে তেমন গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে না। ‘ভাবমূর্তি নষ্ট করা’, ‘গুজব ছড়াতে’ বা ‘সরকারের সমালোচনা’ করার কারণ দেখিয়ে সাংবাদিকদের কারাগারে পাঠানোর বিষয়টি যথেষ্ট যুক্তিযুক্ত বলে মনে হয় না। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অধীনে যে কোনো অভিযোগে প্রায়শই স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রেফতার পরিচালিত হচ্ছে। সম্প্রতি ফটোসাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজলকে আদালতে হাজির করার সময় হাতকড়া পরানো হয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে বেশিরভাগ মামলার কারণ ক্ষমতাসীন, জেলা প্রশাসন এবং ক্ষমতায় থাকা লোকদের সম্পর্কে সমালোচনা।

আইন প্রণেতারা ঐতিহ্যগতভাবে সর্বদা মুক্ত গণমাধ্যম, চিন্তার স্বাধীনতা এবং সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনার পক্ষে ছিলেন। দুঃখজনকভাবে তাদের কেউ কেউ এখন মিডিয়ার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করছেন। তারা বিদ্যমান মানহানির আইনের পরিবর্তে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অধীনে মামলা করছেন। এটি সুস্পষ্ট যে, সাংবাদিকদের ভয় দেখানো ও হয়রানির জন্যই এই আইনে মামলা করা হচ্ছে। বিবৃতিতে বলা হয়, দুর্নীতি ও অনিয়ম প্রকাশ করা এবং প্রশাসনের ব্যর্থতা তুলে ধরা মিডিয়ার সহজাত কর্তব্য ও দায়িত্ব। মহামারি এবং এর বিপর্যয়কর পরিণতির বিরুদ্ধে লড়াই করতে সরকার যখন হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করছে, তখন এটি আরও প্রয়োজনীয়। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা দমনে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হবে, এই ভয়ে সম্পাদক পরিষদ শুরু থেকেই এর বিরোধিতা করছে। গণমাধ্যমের জন্য আমাদের সেই ভয় এখন দুঃস্বপ্নের মতো বাস্তবতা। সম্পাদক পরিষদের পক্ষ থেকে বলা হয়, আমরা সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক মামলা ও গ্রেফতারকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য স্পষ্ট হুমকি হিসেবে বিবেচনা করি। আমরা অবিলম্বে সব সাংবাদিকের মুক্তি এবং তাদের বিরুদ্ধে সব মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাই। আমরা মিডিয়া এবং সাধারণ নাগরিকদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ঘন ঘন এবং নির্বিচার ব্যবহারের নিন্দা জানাই এবং এই আইনটি বাতিলের দাবি জানাই। বিবৃতিতে বলা হয়, মহামারি ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়ার জন্য পুরো জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সাংবাদিকদের ঘন ঘন গ্রেফতারই সেই ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রয়াসকে বাধা দেয়। এই জাতীয় গ্রেফতার মুক্তচিন্তা ও মুক্ত গণমাধ্যমবিরোধী কাজ।

Please Share This Post in Your Social Media

কপিরাইটঃ ২০১৬ দৈনিক অন্যদিগন্ত এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Design & Developed BY It Host Seba Mobile: 01625324144
Shares