বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ০২:৪৮ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ
হাটহাজারীতে র‌্যাবের অভিযানে ৭ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার আটক  ১ হাটহাজারীতে তাল গাছের বীজ বপন করেছে উপজেলা প্রশাসন শেরপুরে দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মাঝে সংঘর্ষ শেয়ারবাজারে লেনদেনের গতি বেড়েছে  সশরীরে হবে ঢাবির ভর্তি পরীক্ষা ট্রাম্প-বাইডেনের চূড়ান্ত বিতর্কে থাকছে মাইক্রোফোন বন্ধের সুযোগ বিশিষ্ট সাংবাদিক শরিফুল ইসলাম খানের মার ইন্তেকাল, বিভিন্ন মহলের শোক ঢাকাস্থ গোপালগঞ্জ সাংবাদিক সমিতির কমিটি গঠন সভাপতি মামুন, সা: সম্পাদক বাবুল, সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল সাত কর্মদিবসেই ধর্ষণ মামলার রায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী সাংবাদিক নামধারী চাঁদাবাজ জাহাঙ্গীর বাহিনীকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ভুক্তভোগী পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

ধর্ষণের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলুন- ধর্ষকদের শাস্তি নিশ্চিত করুণ

নিজস্ব প্রতিবেদক ।।

আজ ০৯অক্টোবর ২০২০ ইং রোজ শুক্রবার সকাল ১০.৩০ জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ কনফেডারেশন অব লেবার (ইঈখ)’র উদ্যোগে বাংলাদেশে সম্প্রতি ধর্ষণ-গণধর্ষণ, যৌনহয়রানী প্রবণতা বৃদ্ধির প্রতিবাদে সামাজিক প্রতিরোধের দাবীতে শ্রমিক সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ কনফেডারেশন অব লেবার (ইঈখ)’র সভাপতি নারীনেত্রী সুলতানা বেগম। বক্তব্য রাখেন বিসিএল’র সাধারণ সম্পাদক নাজিমউদ্দিন, কোষাধ্যক্ষ মাহাতাব উদ্দিন সহিদ,সদস্য মোঃবাহারানে সুলতান বাহার, মোঃবিল্লাল, আরাফাত জাকারিয়া সঞ্চয়, মোঃ ইলিয়াস, মোঃমোস্তফা, মোঃ সিরাজুল ইসলাম বাবু, রোজিনা আক্তার সুমি, খাদিজা রহমান, সামছুল হক, আশরাফুজ্জামান প্রমুখ।

সমাবেশে সংহতি বক্তব্য রাখেন টেক্সটাইল গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সভাপতি আবুল হোসাইন, সম্মিতিলত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি নাজমা আক্তার, উবিনীগ এর পরিচালক সিমা দাস সিমু, সম্মিতিলত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুল ইসলাম নয়ন।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নে গৃহবধূকে শ্লীলতাহানি, ধর্ষণচেষ্টা ও নির্যাতন, সিলেটের এমসি কলেজে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে গণ-ধর্ষণ, লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে বিধবা নারীকে গণধর্ষণ, ভোলার চরফ্যাশনে গৃহবধূকে ধর্ষণ, গোপালগঞ্জের কোটালি পাড়ায় স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ, কুষ্টিয়ার মিরপুরে মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ধর্ষণ, রাজশাহীর গির্জায় ধর্ষণ, কিশোরগঞ্জর কিশোরীকে ধর্ষণ, বরিশালের বাখেরগঞ্জে শিশুধর্ষণ, আশুলিয়ায় ২কিশোরীকে গণ-ধর্ষণ, রাজধানীর খিলগাওয়ে ৪ শিক্ষার্থীকে যৌনহয়রানী,খাগড়াছড়ি ও সাভারে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে, নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে এবং এ সকল ঘটনার সাথে জড়িদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের দাবি জানান।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ৩০লাখ শহিদ এবং ২লাখ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে অর্জিত ৭১’র মহান স্বাধীনতা। স্বাধীন দেশের স্বাধীন পতাকা আজ খামছে ধরেছে শকুনের দল। স্বাধীনতার ৫০ বছরেও নারীতার প্রকৃত স্বাধীনতা পায়নি। সারাদেশে নারীধর্ষণ ও নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, ধর্ষণের গঠনায় গোটাজাতি হতবাক-স্তম্বিত। অনেকদিন ধরেই এই ঘটনা বাংলার বুকে ঘটে চলেছে। শাসকগোষ্ঠী এই ঘটনাগুলোর বিষয়ে দায়সারা কর্মকান্ড করে চলেছে।

সরকারের দায়িত্বশীল মন্ত্রীদের কথাউল্লেখ করে বলেন, ‘মন্ত্রীরা বলেন, আমেরিকা-ইউরোপের থেকে বাংলাদেশে নারী নির্যাতন কম হয়। ধর্ষণের ঘটনায় মন্ত্রীর এই ধরনের কথা বলেন। তাহলে আমরা কোনো দেশে বাস করছি? তিন বছরের কন্যাশিশু থেকে ৭০ বছরের বৃদ্ধা ধর্ষণকারীদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেননা। এরকম একটি ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে দেশে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কারণেএখন মানুষ বেশী জানতে পারছে। বাংলাদেশে শতকরা ৮০টি ধর্ষণের কথা প্রকাশই পায়না। বাকী শতকরা ২০টি ধর্ষণের মধ্যে আদালতে মামলা পর্যন্ত গড়ায় ১০টা। তারমধ্যে শতকরা ৫টা ক্ষেত্রে ধর্ষকের শাস্তি হয়।

সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে সুলতানা বেগম বলেন‘আর কত? কেন? নারীর জন্য এ রাষ্ট্র নয়? নারীর নিরাপত্তা দেখার দায় রাষ্ট্রের নয়? যদি না হয় তাহলে বলে দিন, গণহারে নারী অগ্নিপ্রবেশ করুক। আরযদি রাষ্ট্রটি নারীরও হয় তাহলে তাকে তার অধিকার নিয়ে বাঁচার পথ করেদিন। বাংলাদেশ ক্রমশ বিকৃত মানুষের দেশ হয়ে যাচ্ছে। আর কত দেখতে হবে নারীরও পর অত্যাচারের দৃশ্য। মানুষ পৈশাচিকতায় যে কোনও হিং¯্র প্রাণীকে অনেক আগেই হার মানিয়েছে। কেউ কি ছিলনা মেয়েটার জন্য। এ কয়টা দানবের কাছে হার মেনে গেলো সবকিছু। বহু দিনের চলে আসা বিচারহীনতার সংস্কৃতি আমাদের আরেকটা বর্বর ঘটনার সাক্ষী করে দিলো।শ্রমজীবি নারী শ্রমিকদের প্রতিষ্ঠানে, কারখানায় খারাপ ব্যবহার, গালা-গালী,মানষিক ও শারিরিক নির্যাতনসহ যৌননির্যাতন করা হয় তাহা বন্ধে ২০০৯ সালের মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়ন সময়ের দাবী সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌননির্যাতন প্রতিরোধে কমিটি গঠন ও যৌননির্যাতন প্রতিরোধে কঠোর শাস্তি রেখে আইন প্রণয়ন করতে হবে।

সমাবেশে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষিত ধর্ষনের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ডকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণাকে দ্রুত আইনে রূপান্তরের দাবী জানান।সমাবেশ শেষে গার্মেন্টেসহ বিভিন্ন সেক্টরের প্রায় ৪শতাধিক শ্রমিক ও নারী শ্রমিক নিয়ে একটি বণ্যার্ঢ্য মিছিল তোপখানা রোড, পল্টন ময়দান হয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এসে সমাপ্ত হয়।

Print Friendly, PDF & Email

Please Share This Post in Your Social Media

কপিরাইটঃ ২০১৬ দৈনিক অন্যদিগন্ত এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Design & Developed BY It Host Seba Mobile: 01625324144
Shares