রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২০, ০৭:৫৮ পূর্বাহ্ন

পুলিশের হাতে মা-বোন লাঞ্চিত হওয়ায় কিশোরের আত্মহত্যা; ডবলমুরিং থানার অভিযুক্ত এস আই ক্লোজড।

সাহেদুল ইসলাম সাগর, বিভাগীয় ব্যুরো চীফ,চট্টগ্রাম।
চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ বাদামতলী এলাকায় মা বোনকে পুলিশ আটক করে নিয়ে গেছে শুনে এক কিশোর আত্মহত্যা করেছে। কিশোরের নাম সালমান ইসলাম মারুফ (১৪)। এ ঘটনার জেরে ডবলমুরিং থানার একজন এসআইকে ক্লোজ করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে এই ঘটনাটি ঘটে।স্থানীয়রা জানিয়েছে, পুলিশের এক সোর্সকে মারধরের ঘটনার জের ধরে পুলিশ মারুফকে আটক করতে অভিযান চালায়। মারুফকে আটক করতে না পেরে মারুফের মা বোনকে আটক করে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন। এই খবর শুনে চাচার বাসায় গিয়ে মারুফ ফ্যানের সাথে ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করে বলে জানান তারা। তবে পুলিশ বলছে, মারুফের মা বোনকে আটক করা হয়নি। অভিযানের সময় মারুফের বোন অজ্ঞান হয়ে গেলে তাকে নিয়ে হাসপাতালে গিয়েছিলো পুলিশ। এদিকে এই ঘটনায় স্থানীয়দের প্রতিবাদের মুখে পুলিশের অভিযানে নেতৃত্বদানকারী ডবলমুরিং থানার এসআই হেলাল খানকে ক্লোজড করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (পশ্চিম) এএএম হুমায়ুন কবির। জানা গেছে, আগ্রাবাদ বাদামতলী এলাকায় গলির ভিতর অন্ধকারে অপরিচিত এক ব্যাক্তিকে দেখতে পেয়ে চোর সন্দেহে মারধর করে মারুফসহ স্থানীয় কয়েকজন। পরে ওই ব্যাক্তি নিজেকে পুলিশের সোর্স পরিচয় দেয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই সাদা পোশাকের একদল পুলিশ মারুফসহ সোর্সের উপর হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করতে অভিযান চালায়। এই সময় পুলিশ প্রথমে মারুফকে আটক করলে মারুফের মা ও বোনের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি হয়। মারুফ পুলিশের কাছ থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। কিন্তু পুলিশের হাতে আটক থাকে তার মা ও বোন। কিছুক্ষণের মধ্যে পুলিশ মারুফের মা ও বোনকে নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। মা ও বোনকে পুলিশ আটক করে নিয়ে গেছে শুনে মারুফ পার্শ্ববর্তী তার চাচার বাসায় গিয়ে ফ্যানের সাথে ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করে। ঘটনার বিষয়ে অভিযান পরিচালনাকারী এসআই হেলাল খান জানান, তিনি আসামি মারুফকে আটক করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু অভিযানের সময় তার মা ও বোন বাধা দেয় এবং এক পর্যায়ে তার এক বোন অজ্ঞান হয়ে যায়। তাকে সুস্থ করতেই দ্রুত পার্শ্ববর্তী মা ও শিশু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো। এর পরে জানতে পারেন মারুফ আত্মহত্যা করেছে। মারুফের আত্মহত্যার ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ মারুফের লাশ উদ্ধার করতে গেলে স্থানীয়রা বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানায়। নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (পশ্চিম) এএএম হুমায়ুন কবির তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত এসআই হেলাল খানকে ক্লোজড করার ঘোষণা দিলে স্থানীয়রা শান্ত হয়।এই ঘটনায় পুলিশের কোন গাফিলতি আছে কি-না তা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন উপ-কমিশনার হুমায়ুন কবির।

Print Friendly, PDF & Email

Please Share This Post in Your Social Media

কপিরাইটঃ ২০১৬ দৈনিক অন্যদিগন্ত এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Design & Developed BY It Host Seba Mobile: 01625324144
Shares