বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২০, ০৫:৪৯ অপরাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ
গিদারীর কলেজ ছাত্রী সেতু হত্যার আসামীদের গ্রেফতার -দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবীতে নারীমুক্তি কেন্দ্র বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল  গাইবান্ধা ব্রীজরোড দূর্গাবাড়ী মন্দিরে আসন্ন দূর্গাপুজার প্রস্তুতিমূলক সভা ও জন্মাষ্টমী উতসব অনুষ্ঠিত পুলিশি বাধার অভিযোগ কোকোর কবর জিয়ারতে লেবানন থেকে দেশে ফিরলেন ৭১ বাংলাদেশি সিনহা হত্যা : ৭ দিনের রিমান্ডে চার পুলিশ ও তিন সাক্ষী  রাশিয়ার ভ্যাকসিনের অনুমোদন দিলেন পুতিন ভাণ্ডারিয়া পৌরসভায় অবৈধভাবে হাইওয়ে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ যশোরে কাভার্ডভ্যান চাপায় ২ মোটরসাইকেল আরোহী নিহত জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বেনাপোল বন্দরে আমদানি-রফতানি বন্ধ সেপ্টেম্বরে এইচএসসি পরীক্ষা

প্রতিবাদেও প্রতারণা 

যোবায়ের হোসাইন ঃ

গত কয়েক দিন যাবৎ, উত্তরার প্রক্ষাত দুই এমএলএম ব্যাবসায়ী আনোয়ার ও রবিউল সরদারকে নিয়ে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকা ও অনলাইন পোর্টালে প্রতারনার বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়ে আসছে।উক্ত প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদে আনোয়ার (তন্ময় ) ও রবিউল সরদার নিজেদেরকে নির্দোষ দাবি করে একটি দৈনিক পত্রিকায় বক্স আকারে প্রতিবাদের নামে প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

যে কারনে প্রতিবাদটি প্রতিবেদন ঃ

 প্রকাশিত প্রতিবাদের ২৯ নং লাইনে উল্লেখকরা হয়েছে, ‘আমরা প্রতিষ্ঠানটির একজন মালিক ব্যাবস্থাপনা পরিচালক শাহিন দেওয়ান এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি রবিউল সরদারকে তার প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান হিসেবে পরিচয় দেন’। প্রতিবাদের ১৬ নং লাইনে বলা হয়েছে, ‘রাজধানী উত্তরার ৫১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জনাব শরীফুর রহমান এসএম রবিউল আলমকে একজন ভালো মানুষ হিসেবে আখ্যায়িত করেন’। প্রতিবাদে উল্লেখিত এ ধরনের বক্তব্য কোনভাবেই প্রতিবাদ হতে পারেনা। শুধুমাত্র সরে জমিন অনুসন্ধানে প্রতিবেদক তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করতে পারেন।

কাউন্সিলর শরীফুর রহমান এর প্রতিবাদ ঃ

প্রতিবাদের ১৬ নং লাইনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘রাজধানী উত্তরার ৫১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জনাব শরীফুর রহমান এসএম রবিউল আলমকে একজন ভালো মানুষ হিসেবে আখ্যায়িত করেন’, উক্ত ভাষ্যের ব্যাপক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন কাউন্সিলর শরিফুর রহমান। তিনি প্রতিবেদক যোবায়ের হোসাইনকে বলেন, আনোয়ার ও রবিউল সরদারের বিষয়ে বিভিন্ন দৈনিক প্রত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ আমার নজড়ে এসেছে। আমি রবিউল সরদারকে ভালো মানুষ হিসেবে আখ্যায়িত করে বক্তব্য দিবো তা কখনো হয়না।

প্রতিবাদে প্রতারনার আশ্রয় ও প্রতিবেদকের বক্তব্য ঃ

প্রতিবাদে উল্লেখ করা হয়েছে, আনোয়ার বেটার বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন এর হেড অব কমিউনেকেশন,

(১) প্রতিবেদক যোবায়ের হোসাইন,

বেটার বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন এর চেয়ারম্যান জনাব মাসুদ এ খান এর সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আনোয়ার আমাদের বেটার বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন এর কোন পদে নেই। আনোয়ারের ফেসবুক পেজে তিনি নিজেকে বেটার বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন এর ফরমার বা সাবেক হেড অব কমিউনেকেশন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এটাই তার প্রতারনার জলজ্যান্ত প্রমান

(২) ইকো স্টাইল সোর্সিং লিঃ এর চেয়ারম্যান,

প্রতিবেদক অনুসন্ধানে জানতে পারেন, ইকো স্টাইল সোর্সিং লিঃ হলো, কয়েক ব্যাক্তির সমন্ময়ে গঠিত একটি মৌখিক কোম্পানীর নাম, যার কোন বাস্তব মূল্য নেই।

 (৩) ইন্সপিরেশন ট্রেইনিং ইনস্টিটিউটের পরিচালক,

প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে উঠে আসে, উত্তরা ১৩ নং সেক্টরের গরীবে নেওয়াজ রোডের ১ নং বাড়ীর ৩য় তলায়, ইন্সপিরেশন নামের একটি কোচিং সেন্টার রয়েছে। উক্ত কোচিং সেন্টার ছিল আনোয়ার এর প্রতারনার মূল হাতিয়ার। কোচিং সেন্টারকে কাগজে কলমে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল বানিয়ে ২ ব্যাক্তির কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে, যার কিছু টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। এর সকল প্রমাণপত্র প্রতিবেদকের হাতে রয়েছে।

(৪) “আত্মপক্ষ সমর্থনের সময়ও দেওয়া হয়নি” এ বিষয়ে প্রতিবেদকের বক্তব্য হল,

প্রতিবেদক যোবায়ের হোসাইন সহ আরো তিন দৈনিক পত্রিকার সাংবাদিক আনোয়ার গংদের সাথে কথিত কোচিং সেন্টারে সরে জমিন অনুসন্ধানে দীর্ঘ এক ঘন্টা বন্ধু সূলভ আলোচনা হয়। উক্ত আলোচনায় তারা আমাদের প্রশংসা করতে বাধ্য হয়েছিল। আলোচনায় তারা তাদের এমএলএম ব্যাবসাকে বৈধ আউট সোর্সিং হিসেবে দাবি করে, এবং তা সরকার অনুমোদিত বলে প্রতিবেদকদের জানায়। প্রতিবেদক তাদের কাছ থেকে বৈধ কাগজ পত্র দেখতে চাইলে, তারা কয়েক দিনের সময় দাবি করে। কয়েক দিন পর সাংবাদিক রফিক ও এইচ আর হাবিব আনোয়ারকে ফোন দিলে সে তাদের সাথে অশুভনীয় আচরন এবং থানা পুলিশের উদ্ধৃতি দিতে থাকে, যা নিউজের প্রথম পর্বে তুলে ধরা হয়েছিল। আনোয়ারের ভাই, বাংলাদেশ বেতারের ডিডি ( উপসচিব ) জনাব মনিরুজ্জামান এর অনুরোধে প্রতিবেদক নিউজ প্রকাশ স্থগিত রাখে। এরই মধ্যে ধূর্ত আনোয়ার একটি পত্রিকায় প্রতিবেদকদের লক্ষ্য করে গোপনে একটি নিউজ  প্রকাশ করে, যা প্রতিবেদক ও অন্যান্য সাংবাদিকদের জন্য মানহানির প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়। এর পর আনোয়ার ও রবিউলের অপকর্মের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন পত্রিকা ও অনলাইর পোর্টালে নিউজ প্রকাশিত হতে থাকে। আনোয়ার উত্তরা প্রেস ক্লাব এর সম্মানিত সভাপতি সেলিম কবির এর মাধ্যমে একটি প্রতিবাদ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করে,  যার বর্গ ইঞ্চি মিলিয়ে ২৫ হাজার টাকা ধার্য হয়। কিন্তু ঐ প্রতিবাদ লিপিতে সাংবাদিকদেরকে আনোয়ারের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমার কথা বলা হয়েছে, যে কারনে তা সাংবাদিকরা প্রত্যাখান করে। লিখিত ঐ কপি প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত আছে।

জামাত – বিএনপির রাজনীতি ঃ

প্রতিবেদক, এমএলএম ব্যাবসায়ী আনোয়ার ও রবিউলের রাজনৈতিক জীবন বৃত্তান্ত নিয়ে প্রতিবেদনে কোন তথ্য উল্লেখ করেননি, কিন্তু তারা জামাত বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নয় মর্মে প্রতিবাদে উল্লেখ করেছেন।বিষয়টি এমন নয়তো যে,  ঠাঁকুর ঘরে কে রে ? আমি কলা খাইনা।

প্রতিবেদকের বক্তব্য ঃ

জিউনেস পণ্য বিক্রি করে আউট সোর্সিং হিসেবে মাসে মিলিয়ন ডলার আয়ের সুযোগ কোর্সে প্রশিক্ষনার্থীদের উদ্বুদ্ধ করার জন্য মডেল হিসেবে উপস্থাপন করা হয় কতিত “জিরো থেকে হিরো” মোঃ রবিউল সরদারকে। রবিউল সরদার নিজেকে সিলবার ওয়ার্ল্ড বিডি এর অঙ্গ প্রতিষ্ঠান সিলবার গ্যালারি লিঃ এর  চেয়ারম্যান এবং মন্ডল গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান দাবি করেন। রবিউলের দাবি অনুযায়ী মন্ডল গ্রুপর জনসংযোগ কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করলে তারা প্রতিবেদককে বলেন, এই নামে তাদের কোন ডিরেক্টর বা ভাইস চেয়ারম্যান নেই এবং সিলভার ওয়ার্ল্ড বিডি এর ওয়েব সাইটে প্রবেশ করে দেখা যায়, তাদের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান সিলভার গ্যালারি লিঃ এ কোন চেয়ারম্যান পদ নেই। মূল প্রতিষ্ঠান সিলভার ওয়ার্ল্ড বিডি এ তাকে একজন সাধারন ডিরেক্টর হিসেবে দেখানো হয়েছে। রবিউল নিজেকে সিলভার গ্যালারি লিঃ এর চেয়াম্যান হিসেবে ভিজিটিং কার্ড বিতরন করেন সেমিনারে আগত প্রশিক্ষনার্থীদের মাঝে।

সিলবার ওয়ার্ল্ড বিডি এর ওয়েব পেজের এক ক্যাটাগরিতে দেখা যায়, গার্মেন্স সেক্টর ভিত্তিক ইংরেজী নিউজ পেপার “ দ্যা এ্যাপারেল নিউজ ” এ রবিউলকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। যেখানে তাকে মন্ডল গ্রুপের ওয়ার্কিং পার্টনার ( বিনোয়োগ বিহীন নির্বাহী অংশীদার, ) হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। উক্ত নিউজ পেপারের প্রতিবেদনে বলা হয়, রবিউলের কঠোর পরিশ্রম, সততা ও স্বপ্ন ছিল মূলধন, আজ সে শ্রমিক থেকে মালিক। কিন্তু মন্ডল গ্রুপের ওয়েব সাইটের কোন ক্যাটাগরিতে তার নাম পাওয়া যায়নি। একটি সূত্রে জানা যায়, মন্ডল গ্রুপে রবিউলের বিরুদ্ধে ভিবিন্ন অনিয়মের অভিযোগ জমা হলে, তার সব ধরনের সুযোগ সুবিধা কেড়ে নিয়ে প্রতিষ্ঠান থেকে বহিস্কার করা হয়। এই রবিউল এখন গ্লোবাল সোর্সিং নামক প্রতারনা ব্যবসার মূল হাতিয়ারে ( মডেল হিসেবে উপস্থাপন ) পরিনত হয়েছে। এ বিষয়ে রবিউলের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি উত্তেজিত কন্ঠে প্রতিবেদককে বলেন, এই প্রতিবেদন প্রকাশ হলে আমি মানহানি মামলা করব। প্রতিবেদক তাকে তার প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাটে দেওয়া, তার পরিচিতির সঙ্গে ভিজিটিং কার্ডে ব্যবহৃত পদবির মধ্যে অসঙ্গতির কথা তুলে ধরলে, তিনি প্রতিবেদককে তার হেড অফিসে গিয়ে তার সাথে দেখা করতে বলেন।

আনোয়ার ও রবিউল সরদারের বিরুদ্ধে জিওনেস নামের বিদেশি হারবাল পন্য মালোশিয়া থেকে অবৈধ পথে শ্রমিকদের লাগেজের মাধ্যমে আমদানি করার অভিযোগ রয়েছে। উক্ত পন্য ইন্সপিরেশন কোচিং সেন্টারের আড়ালে এমএলএম আকারে বিক্রি করে থাকে এবং এমএলএম এর বড় আকারের একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে এর সকল তথ্য প্রমাণ প্রতিবেদকের হাতে রয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

Please Share This Post in Your Social Media

কপিরাইটঃ ২০১৬ দৈনিক অন্যদিগন্ত এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Design & Developed BY It Host Seba Mobile: 01625324144
Shares