সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:০৮ পূর্বাহ্ন

বেপরোয়া মাদক সিন্ডিকেট!! ধরাছোঁয়ার বাইরে মুল হোতারা

বিশেষ প্রতিনিধি॥
মাদকের ভয়াবহ আগ্রাসন ঠেকাতে বর্তমান সরকারের কঠোর অবস্থানের কারনে “চলো যাই যুদ্ধে মাদকের বিরুদ্ধে” এই স্লোগানে দেশব্যাপী শুরু হয়েছিলো মাদকের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান। দেশজুড়ে অভিযান চলাকালীন ক্রসফায়ারে নিহত হয় তালিকাভুক্ত সহ চিহ্নিত অনেক মাদক কারবারি। তবে সে সময় দিশেহারা হয়ে শীর্ষ মাদক কারবারিদের অনেকেই গা’ঢাকা দেয়। ক্রসফায়ার থেকে বাঁচতে বৈধ অবৈধ পথে পাড়ি জমায় বিদেশে। এরপর বিতর্কিত ক্রসফায়ার ও নানা কারনে মাদক বিরোধী কঠোর অভিযান কিছুটা শিথিল হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে নিজের অবস্থানে ফিরে এসেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকা পুরোনো ও শীর্ষ মাদক কারবারিরা। এদের সাথে যোগ হয়েছে নতুন নতুন কারবারিরাও।

বর্তমান করোনায় বিপর্যস্ত পরিস্থিতিতে দেশে আবারো মাদকের অবাধ সাম্রাজ্য গড়ে উঠেছে। সর্বত্রই মাদকের সরবরাহ, কেনাবেচা এমনকি দেশ থেকে বিদেশেও মাদক পাচারের সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের বেপরোয়া তৎপরতা চলছে। বছরের পর বছর ধরে সরকারের সব প্রশাসনকে চ্যালেঞ্জ করে দেশ ও বিদেশে অপ্রতিরোধ্য মাদকের বাজার পরিচালনা করে তারা একেকজন হয়ে উঠেছেন মাদক মাফিয়া। পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব, মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর থেকে শুরু করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকায়ও তারা ডাকসাইটে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে চিহ্নিত, থানা-আদালতে আছে ডজন ডজন মামলা। আবার এদের অনেকে অবৈধ টাকার জোর কতিপয় অসাধু প্রশাসনীক কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে কিংবা বড় নেতাদের তদ্বিরে সবসময়ই রয়ে যায় অধরা। এদের সাঙ্গ পাঙ্গ বা কেরিং করা লেবাররা ধরা পরলেও তাদের বিরুদ্ধ নানা করনেই হয়না কোন তদন্তও। ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে নির্বিঘ্নে দেশে এবং দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশেও চালিয়ে যাচ্ছেন মাদকের রমরমা কারবার।

তৈরি পোশাকের আড়ালে গত বছর অস্ট্রেলিয়ায় ইয়াবা তৈরির কাঁচামাল অ্যামফিটামিন পাচার করছিল একটি চক্র। ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ থেকে ১২ কেজি অ্যামফিটামিন উদ্ধারের পর পাচারের সহযোগিতা করায় একটি বহুজাতিক কুরিয়ার সার্ভিসের তিন কর্মকর্তাসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।

পরে অধিদপ্তরের তদন্তেই এই আসামিদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে তাঁদের সবাইকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। আদালতে জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে এ-ও বলা হয়, মাদক পাচারে কুরিয়ার সার্ভিসের দায় নেই।
গত বছরের জুনের শুরুতে সৌদি আরবে পাঠানোর সময় এক হাজার ইয়াবা এবং পরে একই মাসে এই চক্রের ২ হাজার ৩০০ এবং ১ হাজার ২৫০টি ইয়াবার দুটি চালান ধরা পড়ে। এ চক্রের মূল হোতা সেসময় সৌদিতে থাকা ধনুয়াখলার শাহ আলম। তাঁর দুই সহযোগী মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া এলাকাট ইউসুফ মোল্লা ও কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার সাদ্দাম হোসেন সহ তিন জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক আবদুস সবুর মণ্ডল বলেন, কুরিয়ার সার্ভিসে মাদকের চোরাচালান রোধে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। পার্সেলে মাদক শনাক্তে কুরিয়ার সার্ভিসের কর্মীদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হচ্ছে। কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবহার করে মাদক পাচারে জড়িত পুরো নেটওয়ার্ক শনাক্তে কাজ চলছে।

এত কিছুর পরেও কোনো কিছুতে কিছুই যেন হচ্ছে না তাদের। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর রুটিন তৎপরতা, বিভিন্ন বাহিনীর বিশেষ অভিযান, চিরুনি অভিযান, সাঁড়াশি অভিযান, ক্রসফায়ার, গোয়েন্দা তৎপরতার সবকিছুকে ব্যর্থ করে দিয়ে মাদক মাফিয়ারা গড়ে তুলেছে আলাদা সাম্রাজ্য ও নিজস্ব বলয়। সারা দেশে রয়েছে তাদের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। অপ্রতিরোধ্য এ সরবরাহ ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে দেশের বিভিন্ন স্থানে অন্তত ৫৬ জন জনপ্রতিনিধি, শতাধিক প্রভাবশালী স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় সরকার দলীয় নেতা, আইনজীবী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নানা পর্যায়ের কয়েক’শত লোভী সদস্যকে মাদক বাণিজ্যে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে লোভনীয় টোপ দিয়ে জড়িয়ে নেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে রাজনৈতিক নেতৃত্বের আড়ালে মাদক বাণিজ্যে নেপথ্যে পৃষ্ঠপোষকতার ঘৃণ্য ও জঘন্য চিত্র বেরিয়ে আসে। প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের ইউনিয়ন, ওয়ার্ড, থানা, জেলা ও মহানগর পর্যায়ের নেতা থেকে শুরু করে খোদ সংসদ সদস্য পর্যন্ত সম্পৃক্ত রয়েছেন এসবের সাথে। আছেন ভিআইপি সিআইপি খেতাব পাওয়া ধনাঢ্য ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সরকারি বেসরকারী ও আইন প্রয়োগকারী প্রশাসনের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারীরাও ।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের প্রতিবেদনে এমন প্রভাবশালী ব্যক্তিকে ১৪১ মাদক মাফিয়ার নেপথ্যশক্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ইতিমধ্যে সে তালিকা দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকে পাঠানো হয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, মাফিয়া হিসেবে পরিচিতরা সবাই মাদক বাণিজ্যের সুবাদে শত কোটি টাকার মালিক ও হয়েছেন। কারও কারও সহায়সম্পদ হাজার কোটি টাকাও ছাড়িয়েছে। দেশে বসেই অনলাইনে মধ্যেপ্রাচ্য সহ বিভিন্ন দেশে পরিচালনা করেন মাদক ব্যবসা। আবার অনেকে বিদেশে বসেও দেশের মাদকের বাজার নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন।

বিদেশের কেমিক্যালে ঢাকায় ইয়াবা!
এদিকে প্রশাসনিক কড়াকড়ির মুখে মাদক সিন্ডিকেটগুলো পাচারঝুঁকি এড়াতে বাংলাদেশেই একাধিক কারখানা বসিয়ে দেদার ইয়াবা প্রস্তুত করছে বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে। রাজধানীর অভিজাত এলাকার ধানমন্ডি, গুলশান, বনানী, উত্তরার সুরক্ষিত বাসাবাড়িতে এবং মিডিয়াপাড়ায় এ ধরনের কারখানা থাকার ব্যাপারে গোয়েন্দাদের কাছেও তথ্য রয়েছে। এর আগে ঢাকা মহানগর ডিবি একাধিক অভিযানে চলন্তপথে ইয়াবা তৈরির সরঞ্জাম, রাসায়নিক দ্রব্যাদিসহ কয়েক ব্যক্তিকে আটক করতে সক্ষম হয়। তবে তাদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করেও গোয়েন্দারা কোনো কারখানার অবস্থান শনাক্ত করতে পারেননি। দীর্ঘদিন ইয়াবা সরবরাহ ও পাইকারি ব্যবসা পরিচালনার সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন এমন একাধিক ব্যক্তির সাথে কৌশলে আলাপ করে জানা যায়, প্রায় দুই বছর ধরে প্রশাসনিক ঝুঁকি এড়াতে ট্যাবলেটের পাশাপাশি তরল পদার্থ হিসেবেও ইয়াবা প্রবেশ করেছে ঢাকায়। মিয়ানমারসহ দেশের ভারত সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবাধে ঢুকছে এটি। কুমিল্লা, টেকনাফ কক্সবাজার এলাকার মাদক বাণিজ্য নিয়ে অনুসন্ধান চালানো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তা ও সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, মূলত তিনটি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই সীমান্ত গলিয়ে আসা মাদক ছড়িয়ে পড়ছে সারা দেশে।

এর একটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একশ্রেণির অপরাধী কর্মকর্তাদের বিশেষ ব্যবস্থাপনা এবং অন্যটি হচ্ছে বিভিন্ন মাদক গডফাদারের নিয়ন্ত্রিত ব্যবসায়ীদের মাদক সরবরাহ ব্যবস্থা। এছাড়া ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে কেবল আর্থিক লেনদেন করা মুল হোতা মাদক সম্রাটদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়া, মামলা ও চার্জশিট থেকে কৌশলে বাদ দেয়া। এসব ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের মাদক চালান মাঝেমধ্যে ধরা পড়লেও তখন কর্মকর্তাদের সমন্বিত মাদক সরবরাহ ব্যবস্থা যথারীতি চলতেই থাকে। এ কারণেই বিভিন্ন অভিযানে লাখ লাখ এমনকি কোটি কোটি পিস ইয়াবা আটক হলেও সারা দেশে ইয়াবার কোনো সংকট হয় না, দামেও হেরফের হয় না। ধরাপড়া চালের সংখ্যা প্রকৃত মাদক চালানের সামান্য কিছু অংশ মাত্র।

অতিসম্প্রতি সৌদি আরবের ইয়াবা ডন খ্যাত কুমিল্লা সদর উপজেলার ধনুয়াখলার শাহ আলমের নেতৃত্বাধীন কুমিল্লা সিন্ডিকেটের মাদক ব্যবসায়ীরা সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ইয়াবা ও গাঁজার চালান পাঠিয়ে ব্যাপক আলোচিত হয়ে উঠেছে। এর মধ্যেই গত ২৮জুলাই ভোরে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শাহআলমের ড্রাইভার সাদ্দাম আটক হয়। এরপর ৭আগষ্ট ভোরে কুমিল্লায় তার সহযোগীদের ৬জনকে প্রায় ২৮ হাজার পিস ইয়াবা , নগদ টাকা মদ ও গাঁজা সহ আটক করে র‌্যাব ১১ সিপিসি২, প্রবাসে ইয়াবা কারবারে জড়িত থাকার তথ্য থাকায় এসময় জব্দ করা হয় বেশকিছু পাসপোর্ট। তবে বরাবরের মতই অধরা থেকে যায় মুল হোতা শাহআলম, লিটন ও বরুড়া উপজেলার বাসীন্দা কক্সবাজারের হোটেল ব্যবসায়ী মঞ্জু।
আর তাই কুরিয়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় তাদের মাদকের চালান পাঠানো কোনোভাবেই বন্ধ হচ্ছে না। এসব ক্ষেত্রে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের গোয়েন্দা উইং সবচেয়ে ঢিলেঢালা হয়ে পড়ায় পরিস্থিতি দিন দিনই চরম আকার ধারণ করছে। নতুন নতুন রুটে নিত্যনতুন যেসব পদ্ধতিতে মাদক সরবরাহ ঘটছে সেসব ব্যাপারে মাদকের গোয়েন্দা উইং পুরোপুরি অজ্ঞ থাকায় সফল অভিযান চালানোও সম্ভব হচ্ছে না। মাঝেমধ্যে সংবাদপত্রে এসব নিত্যনতুন কৌশলের খবর প্রকাশ হলে কিছুটা নড়েচড়ে বসেন সংশ্লিষ্টরা।

অনুমোদনহীন বারে মদ বিক্রি :
রাজধানীর গুলশান, বনানী, উত্তরার অভিজাত এলাকার বিভিন্ন ক্লাব ও রেস্ট হাউসের আড়ালে দেদারসে চলছে মদ, জুয়া ও অসামাজিক কার্যকলাপ। অভিজাত এলাকা হিসেবে নানারকম বাড়তি সুবিধায় এ এলাকাগুলোয় ক্লাব, রেস্ট হাউস ঘিরে হরদম বসছে মদ-জুয়ার রমরমা আসর, গড়ে তোলা হয়েছে অসামাজিক কার্যকলাপের আখড়া। এসব আস্তানায় নিরাপদ ভেবে শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষের আনাগোনা চলে। বিভিন্ন ঘটনায় হইচই সৃষ্টি হলেই লোক দেখানো দু-একটি অভিযান চলে, পরক্ষণেই সবকিছু ম্যানেজও হয়ে যায়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের পক্ষ থেকে গুলশান-বনানীর অবৈধভাবে মাদক বিক্রির দায়ে অভিযুক্ত রেস্টুরেন্টগুলোর তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এসব রেস্টুরেন্ট মালিককে ডেকে সতর্ক করে দেওয়াসহ নোটিস প্রদান করা হয়েছে।

চাঁদাবাজির টাকা ইয়াবা ব্যবসায় :
যাত্রাবাড়ী থানার মোড়ে যানবাহন থেকে বেপরোয়াভাবে আদায় করা চাঁদাবাজির টাকা এখন ইয়াবা বাণিজ্যের পুঁজি হিসেবে ব্যবহারের চাঞ্চল্যকর খবর পাওয়া গেছে। লকডাউনের ধকলে গাড়ি চলাচল প্রায় বন্ধ হওয়ায় বিকল্প আয়ের পথ হিসেবে মাদক বাণিজ্যে নেমেছেন কিছুসংখ্যক শ্রমিক। এ সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে ধলপুর, যাত্রাবাড়ী, কাজলা, শনিরআখড়া, শহীদ ফারুক রোড, ইলিশ কাউন্টার, জুরাইনসহ আশপাশ এলাকায় অন্তত ৩০ জন নতুনভাবে মাদক ব্যবসা শুরু করেছেন। ফলে ওই এলাকাসমূহের পুরনো মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রায়ই তাদের মারামারি, হামলা-পাল্টা হামলাসহ নানারকম মহড়া ঘটে বলেও স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন।

মাদকের যত সিন্ডিকেট :
অনুসন্ধানে জানা গেছে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর, জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা- এনএসআই, সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা-ডিজিএফআই, পুলিশ, র‌্যাব, কোস্টগার্ড, বিজিবি, আনসার-ভিডিপির তালিকা থেকে একটি সমন্বিত প্রতিবেদন তৈরির পর প্রধানমন্ত্রীর দফতরে দাখিল করা হয়। ওই প্রতিবেদনের বিবরণ সূত্রেই জানা যায়, মাদক পাচার ও সরবরাহ বাণিজ্যে কক্সবাজারের পরই অবস্থান রয়েছে ভারত সীমান্তবর্তী কুমিল্লা জেলার। অন্যদিকে থানা পর্যায়ে মাদকের আধিক্যতায় টঙ্গী ও আশুলিয়া থানা এলাকা শীর্ষে অবস্থান করছে। এ দুটি এলাকায় প্রতিদিন গড়ে কোটি টাকার মাদক কেনাবেচা চলে বলে তথ্য রয়েছে। কুমিল্লা জেলার তালিকায় সেখানে ৮৯ জন ডাকসাইটে মাদক ব্যবসায়ীর নাম থাকলেও গডফাদার পর্যায়ের রয়েছেন ১৬ জন। কুমিল্লার বুড়িচং বি-পাড়া, সদর দক্ষিণ, চৌদ্দগ্রামের অন্তত ৪০টি অরক্ষিত পয়েন্ট এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার ৭ টি রুট মাদক পাচার ও সরবরাহে সীমান্তের অন্যতম প্রবেশ পথ। সেখানে সকল প্রকার মাদক ও পণ্যের অবাধ চোরাচালান চলে অবাধে। তালিকায় রাজশাহী- চাঁপাইনবাবগঞ্জ- নাটোরের সীমান্ত কেন্দ্রিক মোট ২১ জন মাদক গডফাদারের নাম রয়েছে। এরা সীমান্তের ওপার থেকে বড় বড় মাদক চালান এনে ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাইকারি সরবরাহ দেন। এদিকে মাদক সংক্রান্ত আন্তঃসংস্থার সমন্বিত প্রতিবেদনে সিলেট অঞ্চলকে এখন হেরোইন চালানের নিরাপদ রুট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সিলেট কেন্দ্রিক এ হেরোইন বাণিজ্যের মাফিয়া লন্ডনে অবস্থান করলেও তার ভাই-ভাতিজারা ঢাকাসহ আট জেলায় নিজস্ব নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তুলেছেন। লন্ডনি মাফিয়ার হেরোইনের চালান বাংলাদেশ পেরিয়ে পাকিস্তানেও যায় বলে জানা গেছে। মাফিয়া নিয়ন্ত্রিত হেরোইন চক্র ছাড়াও সিলেট অঞ্চলে ইয়াবা ও ফেনসিডিলের একচ্ছত্র বাজার নিয়ন্ত্রণ করছেন ১২ জন গডফাদার। এ ছাড়া দেশের ১৬টি সীমান্ত পয়েন্ট যথা দিনাজপুরের হাকিমপুর-হিলি; রাজশাহীর গোদাগাড়ী, চারঘাট; চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ-মনাকষা; চুয়াডাঙ্গার দর্শনা; সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ; ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট; সিলেটের গোয়াইনঘাট-জাফলং; হবিগঞ্জের সাতছড়ি; ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া; ফেনীর ছাগলনাইয়া; খাগড়াছড়ির রামগড়; বান্দরবানের রুমা-নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত পয়েন্টে পৃথক গডফাদারের নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ মাদক চক্র সদাতৎপর। এসব চক্র বরাবরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্থানীয় পর্যায়ের একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে মাদক বাণিজ্য নির্বিঘ্ন রাখে।

Please Share This Post in Your Social Media

কপিরাইটঃ ২০১৬ দৈনিক অন্যদিগন্ত এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Design & Developed BY It Host Seba