বৃহস্পতিবার, ০৪ মার্চ ২০২১, ১২:১৯ অপরাহ্ন

মন্ত্রীর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন চায় মূলধারার সাংবাদিকরা

মন্ত্রীর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন চায় মূলধারার সাংবাদিকরা। গাজীপুর প্রেসক্লাবে অচলাবস্থা জিইয়ে রাখতে চায় স্বার্থান্বেষী মহল। দুই মন্ত্রীর দেয়া সমঝোতা ফর্মূলার পরও গাজীপুর প্রেসক্লাবে অচলাবস্থা কাটছে না ।

স্টাফ রিপোর্টার ।।

২০২০-২০২১ বর্ষের কমিটি নিয়ে গাজীপুর প্রেসক্লাবে অচলাবস্থা বিরাজ করছে। সংকট নিরসনে প্রশাসনের উদ্যোগে একাধিক বৈঠক হয়েছে। এমনকি জেলার মুরুব্বি হিসেবে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ. ক. ম. মোজাম্মেল হক নিজে উদ্যোগী হয়ে দু’পক্ষের সাথে বৈঠক করে সমঝোতার ফর্মূলা দিয়েছেন। অথচ মন্ত্রীর সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করেই এক পক্ষ দখলদারিত্ব অব্যাহত রাখছে। এ নিয়ে স্থানীয় মূলধারার সাংবাদিকদের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বৈশ্বিক মহামারী করোনাকালীন লকডাউনের সুযোগে প্রভাবশালীদের মদদে একটি গ্রুপ ক্লাবের দখল নেয়। এরপর থেকেই তারা নানা টালবাহানায় দখলদারিত্ব অব্যাহত রাখতে চাইছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী সংকট নিরসনে গাইডলাইন নির্ধারণ করে দিলেও দখলদাররা সেটিও মানতে চাইছেন না। ফলে তাদের ক্ষমতার উৎস নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, গাজীপুর প্রেসক্লাবের সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৯ সালের এপ্রিলের শেষার্ধে। ওই নির্বাচনে ২০১৯-২০২০ সালের কার্যনির্বাহী পরিষদের সভাপতি পদে মো. মুজিবুর রহমান (দৈনিক ইত্তফাক) এবং সাধারণ সম্পাদক পদে শাহ সামসুল হক রিপন (দৈনিক যুগান্তর) নির্বাচিত হন। নির্বাচনে ৮২ জন ভোটারের মধ্যে ৮১ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এ কমিটি মেয়াদ শেষের আগে নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী নির্বাচনের প্রস্তুতিও শুরু করে। এ জন্য কালেরকণ্ঠ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার শরীফ আহমেদ শামীমকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার করে ৩ সদস্যের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন হয়। তবে বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে সরকার ২৬ মার্চ থেকে দেশব্যাপী ছুটি এবং ক্লাবসহ সব ধরনের জমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করলে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে নির্বাহী পরিষদ ক্লাবের সাধারণ সভা স্থগিত এবং অন্তর্বর্তীকালীন ক্লাবের কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয় এবং নির্বাচন কমিশন নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন স্থগিত করেন। পাশাপাশি করোনাকালে সদস্যদের পাশে থেকে আর্থিক সহায়তার কার্যক্রম পরিচালনা করতে থাকে নির্বাহী পরিষদ।

অন্যদিকে এ অস্বাভাবিক অবস্থায় নিবন্ধিত সংগঠন হিসেবে পরবর্তী করণীয় জানতে দিগনির্দেশনা চেয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গত বছরের ১৯ ও 20 এপ্রিল জেলা প্রশাসক বরাবর পৃথক আবেদন করেন। কিন্তু দশ মাসেও সেই আবেদনের নিষ্পত্তি হয়নি। আর এ সুয়োগ নিয়েই একটি পক্ষ কথিত আহ্বায়ক কমিটি’র নামে ক্লাবের দখল নিয়ে স্বেচ্ছাচারিতা চালাচ্ছে। অধ্যাপক মাসুদুল হককে (বাংলাদেশ বেতার) আহ্বায়ক করে সাত সদস্য বিশিষ্ট কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, রুহুল আমিন সজিব, (দৈনিক খবর), এম নজরুল ইসলাম (দেশটিভি ও দৈনিক ভোরের কাগজ), রাহিম সরকার (দৈনিক জনতা), মাহতাব উদ্দিন আহম্মেদ (দৈনিক দিনের শেষে), মনিরুজ্জামান (সাপ্তাহিক ভাওয়াল) ও মীর মোহাম্মদ ফারুক (বাংলাভিশন)।

গত বছরের ২৪ মে এক বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়, প্রেসক্লাবের গঠনতন্ত্রের ১৯ (ট) ধারা অনুযায়ী এ কমিটি গঠন করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ‘প্রাক্তন সভাপতি অধ্যাপক এনামুল হকের সভাপতিত্বে প্রেসক্লাবে সাধারণ সভা’ অনুষ্ঠানের দাবি করা হলেও সেটি ছিল কাগুজে। মূলতঃ লকডাউনের কারণে ওই সময়ে সভা অনুষ্ঠানের কোন পরিবেশই ছিলো না। বিষয়টি প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা অবহিত থাকা সত্ত্বেও রহস্যজনক কারণে থানায় জিডি হওয়ার পরও দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

আরো বিস্ময়কর তথ্য হচ্ছে, বিজ্ঞপ্তিতে সভার সভাপতিত্বকারী হিসেবে অধ্যাপক এনামুল হকের পরিচয় ‘প্রাক্তন সভাপতি’ বলা হলেও তিনি ছিলেন নির্বাহী পরিষদের ১নং সদস্য। এছাড়া আহ্বায়ক কমিটির একাধিক সদস্য নির্বাচিত হিসেবে নির্বাহী পরিষদে ছিলেন। নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্ত সংক্রান্ত কার্যবিবরণীতে তাদের সকলের স্বাক্ষর রয়েছে। এদিকে দখলদারিত্ব পোক্ত করতেই তারা গাইড লাইন ঘোষণার পরও মুক্তিযোদ্ধাসহ ২৭জন সদস্যের নাম বাদ দিয়ে ক্লাবের সদস্য তালিকা প্রকাশ করা হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাহী পরিষদ যথাসময়ে নির্বাচন দিতে ব্যর্থ হলে নির্বাহী পরিষদের মেয়াদ পূর্তির ৭দিন পূর্বে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ক্লাবের সাধারণ সভা হবার বিধান রয়েছে। ওই সভায় পরবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য ৭ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হবে। এক্ষেত্রে প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতিতে নির্বাচনের পরিবেশ না থাকলে কি করা হবে তার কোন ব্যাখ্যা গঠনতন্ত্রে নেই। তবে গঠনতন্ত্রে যা-ই থাকুক না কেন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হিসেবে এর কার্যক্রম ১৯৬১ সনের ৪৬ নং অধ্যাদেশের আওতায় পরিচালিত হবে বলে আইনী বিধান রয়েছে। অথচ বর্তমান আহ্বায়ক কমিটি সেই বিধানের তোয়াক্কা করেনি।

অন্যদিকে জবরদস্তি আহ্ববায়ক কমিটি’ গঠনের পর থেকেই সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে প্রতিকার চেয়ে বিভিন্ন মহলে ধর্ণা দেয়া হয়। কোন সুরাহা হয়নি। মাসের পর মাস অতিবাহিত হয়েছে আশ্বাসের চক্করে। এ ধারাবাহিকতায় গত ১০ জানুয়ারি গাজীপুর সার্কিট হাউজে উভয় পক্ষের প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ. ক. ম. মোজাম্মেল হক। বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম, জেলা প্রশাসক এস এম তরিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। উভয় পক্ষের বক্তব্য পাল্টা বক্তব্য শুনে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ. ক. ম. মোজাম্মেল হক সমঝোতার জন্য একটি গাইডলাইন তৈরি করে দেন। সে অনুযায়ী ক্লাবের একটি সমঝোতামূলক কমিটি হবে। কমিটির মেয়াদ হবে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত ৬ মাস। কমিটিতে এনামুল গ্রুপ থেকে ৯ জন এবং মজিবুর গ্রুপ থেকে ৮জন থাকবেন। সিটি মেয়র জাহাঙ্গীর আলম এবং জেলা প্রশাসক এস এম তরিকুল ইসলাম উপস্থিত থেকে ‘সমঝোতা কমিটি’কে ১ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব বুঝিয়ে দিবেন। এ কমিটি গঠনতন্ত্র মোতাবেক নির্বাচনের ব্যবস্থা করবেন। এক্ষেত্রে ২০১৯-২০২০ সালের সাধারণ সদস্য তালিকা অর্থাৎ ৮২জন ঠিক থাকবে।

গাইডলাইনে আরো বলা হয়, ৩০ জানুয়ারির মধ্যে বকেয়া চাঁদা পরিশোধের মাধ্যমে সদস্যপদ নিয়মিত করা যাবে। ২৩ জানুয়ারি সকল সদস্য ক্লাবের বার্ষিক পিকনিকে অংশগ্রহণ করবে এবং সেখানে মন্ত্রী গাইড লাইন ঘোষণা দিবেন।

কিন্তু ২১ ফেব্রুয়ারী দখলদাররা দায়িত্ব হস্তান্তর করেন নি। বরং ১০ জানুয়ারী মন্ত্রীর গাইড লাইন দেয়ার পর ২৭জন সদস্যের নাম বাদ দিয়ে ক্লাবের একটি সদস্য তালিকা প্রকাশ করেছে। এ নিয়ে সদস্যদের মধ্যে আবারো তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

Please Share This Post in Your Social Media

কপিরাইটঃ ২০১৬ দৈনিক অন্যদিগন্ত এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Design & Developed BY It Host Seba  
Shares