রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২০, ০৮:২৫ পূর্বাহ্ন

মার্সী হাসপাতালতো নয় যেন অস্বাস্থ্য পরিবেশের কারখানা

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
ঢাকা মহানগর দক্ষিন এর শ্যামপুর থানাধীন উত্তর জুরাইনে অবস্থিত মার্সী জেনারেল হাসপাতাল ডি. ল্যাব এন্ড কনসালটেশন সেন্টার। এই হাসপাতাল ও কনসালটেশন সেন্টারটির যে পরিবেশ তা দেখলেই যে কেউ বলে দিতে পারবে এটি হাসপাতাল বা কনসালটেশন সেন্টার নয়, মার্সী জেনারেল হাসপাতাল ডি. ল্যাব এন্ড কনসালটেশন সেন্টার একটি অস্বাস্থ্য পরিবেশের কারখানা।
হাসপাতালে রুগীরা আসেন তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা অর্থাৎ সু-চিকিৎসার জন্য অথচ মার্সী জেনারেল হাসপাতাল ডি. ল্যাব এন্ড কনসালটেশন সেন্টারের চিত্র পুরোপুরি ভিন্ন, সেখানে সুস্বাস্থ্য সেবা প্রদানের বিপরীতে অস্বাস্থ্য পরিবেশে চিকিৎসা সেবা প্রদানের নামে প্রতিনিয়ত অসহায় দরিদ্র রুগীদের প্রতারনার নামে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা।
বর্তমান বিশ্ব তথা বাংলাদেশও কোভিক-১৯ অর্থাৎ করোনা ভাইরাস এর কারনে এক কঠিন করুন সময় অতিবাহিত করছে এমন সময়ে অন্যদিগন্ত পত্রিকার এক অনুসন্ধানী সংবাদকর্মী দল মহামারী সময়ে সঠিক চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে কি-না তা অনুসন্ধানে গিয়ে ক্যামেরাবন্দী করে আনেন মার্সী জেনারেল হাসপাতাল ডি. ল্যাব এন্ড কনসালটেশন সেন্টারের এক ভয়াবহ চিত্র। যেখানে দেখা যায়, হাসপাতালের প্রবেশ পথে কোন প্রকার স্যানিটাইজার ব্যবস্থা নেই, দোতলায় যাওয়ার সিঁড়িপথ অপরিস্কার-অপরিচ্ছন্ন। দোতলায় প্রবেশ করতেই দেখা যায় চিকিৎসা সেবা নেওয়ার জন্য অপেক্ষারত অসংখ্য রুগী গাদাগাদী অবস্থায় বসা।মানা হচ্ছেনা সামাজিক দুরত্ব।
যেখানে সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় ঘোষনা করেছেন একজন ব্যক্তি থেকে অপরজন ব্যক্তির দুরত্ব নূন্যতম ২/৩ ফুট থাকতে হবে অথচ মার্সী জেনারেল হাসপাতাল ডি. ল্যাব এন্ড কনসালটেশন সেন্টার কর্তৃপক্ষ সরকারী নির্দেশনা তোয়াক্কা না করেই সেখানে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রুগীদের এমন পরিবেশে বসার ব্যবস্থা রেখেছেন সেখানে একজন রুগীর শরীরের সাথে অপরজন রুগীর শরীর স্পর্শ করে যাচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নেয়নি এমন কোন উদ্যোগ, করেনি এমন কোন অসন বিন্যাস যেখানে সামাজিক দুরত্ব বজায় থাকে।
এতো গেলো রুগীদের অপেক্ষার অবস্থান, মার্সী জেনারেল হাসপাতাল ডি. ল্যাব এন্ড কনসালটেশন সেন্টারের ওয়ার্ড ও কেবিনের অবস্থা আরো ভয়াবহ। কোন কেবিন এর সাথে একক বাথরুমের ব্যবস্থা নেই। দুটি কেবিন এর সাথে একটি বাথরুম তাও আবার এমন নোংরা ও দূর্গন্ধযুক্ত যে, যেকোন সুস্থ্য মানুষ সেই বাথরুম ব্যবহার করলে অসুস্থ হয়ে যাবেন।ওয়ার্ড ও কেবিনের পরিবেশের কথা বিস্তারিত নাইবা বললাম তা স্থীরচিত্রে প্রদর্শন করা হলো।
সার্বিক বিষয় নিয়ে মার্সী জেনারেল হাসপাতাল ডি. ল্যাব এন্ড কনসালটেশন সেন্টার কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলতে চাইলে উক্ত হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক(এমডি) পরিচয়দানকারী ডা. মো. এমদাদুল হক এর অফিস কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয় আমাদের। সার্বিক অবস্থা নিয়ে ডা. মো. এমদাদুল হক এর সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি আমাদের জানান, আমরা হাসপাতাল রক্ষনাবেক্ষন থেকে শুরু করে চিকিৎসা সেবায় সার্বিকভাবে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টার কোন ত্রুটি রাখিনা, আমরা চেষ্ট করি।
ডা. মো. এমদাদুল হককে তাদের হাসপাতালের সার্বিক অব্যবস্থাপনা-নোংরা পরিবেশ, ওটি-কেবিন-ওযার্ড এর দুরাবস্থার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সাথে সাথে একজন স্টাফকে ডেকে তার উপর এমন উত্তেজিত ভাব নিয়ে চড়াও হন এবং এমন এক ভয়াবহ পরিবেশ সৃষ্টি করেন যেন আমরা তার সাথে আর কোন কথা বলতে না পারি। (চলবে…….)

Print Friendly, PDF & Email

Please Share This Post in Your Social Media

কপিরাইটঃ ২০১৬ দৈনিক অন্যদিগন্ত এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Design & Developed BY It Host Seba Mobile: 01625324144
Shares