বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২০, ০৩:২৭ অপরাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ
বৃদ্ধাশ্রম’ নিয়ে বাংলাদেশে প্রথমবারের মত র‌্যাপ গান নির্মাণ করছেন তরুণ নির্মাতা জাহিদ হাসান রাতুল প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে মহিলা কাউন্সিলর সৈয়দা রোকসানা ইসলাম চামেলীর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন স্বপ্নধরার চোখধাঁধানো সাইনবোর্ডে প্রতারণা! শেরপুরের শ্রীবরদীর নির্যাতিত শিশু গৃহকর্মী সাদিয়ার বাড়িতে এখনও চলছে শোকের মাতম : খুনির ফাঁসি দাবী এলাকাবাসীর হাটহাজারীতে চোরাই পাচারকৃত চিড়াই কাঠ জব্দ সুমন খানের বারুদে বোলিং, ১৭৩ রানেই আটকে গেল শান্তর দল মাস্ক না পরলে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সেবা নয় অন্যদিগন্ত এর সম্পাদককে হামলা মামলার হুমকি থানায় জিডি বানিয়াচংয়ে প্রেমিকার লাশ ফেলে পালিয়ে যাবার সময় ঘাতক প্রেমিক আটক দুঃসময়ে কারামুক্ত করতে এগিয়ে আসেন রফিক-উল হক : প্রধানমন্ত্রী

রাঙ্গাবালীর চরমোন্তাজে ভূমিদস্যুর দখলে সুলিজ সংলগ্ন খাল ভোগান্তির কোন শেষ নেই জনমনে ক্ষোভ

স্টাফ রিপোর্টারঃ
রাঙ্গাবালীর চরমোন্তাজে ভূমিদস্যুর দখলে সুলিজ সংলগ্ন খাস খাল। এর ফলে ভোগান্তিতে পরেছে স্থানীয় কৃষকেরা।
পটুয়াখালী জেলার রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডে সুলিজ সংলগ্ন একটি খাস খাল রয়েছে। উক্ত খালটি চরমোন্তাজ ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ড এর ওয়ার্ড কুখ্যাত ভূমিদস্যু
(বশির খান) গত ১০ বৎসর যাবৎ অবৈধ ভাবে দখল করে আসছে। উক্ত খালটির স্মারক নং ৫১।তার দখলে থাকাকালীন তিনি স্থানীয় জনগণকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভাবে নির্যাতন নিপিড়ন করতো। এমনকি খালটির দুই তীরে যারা বসবাস করে তাদের ঘুম থেকে উঠিয়ে খাল পাড়ে নিয়ে নির্যাতন করে।তার পিতার মাত্র ২০ শতাংশ জমি ছিল।বর্তমানে বশির খান কোটি কোটি টাকার মালিক। অভিযুক্ত বশির খান এর এলাকায় একটি সন্ত্রাসী বাহিনী রয়েছে, যাদের কাজ হচ্ছে ভূমি দখল,ঘাট দখল,বন দখল, নদী দখল,খাল দখল। চাঁদাবাজি করে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পত্তির মালিক অবৈধ স্থাপনা বিল্ডিং নির্মাণ করেছেন। এখন পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় নাই। খালের দুই পাশের রেকর্ডীয় সম্পত্তির মালিক কৃষি জমি চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু বশির খান তার ভাই মোশাররফ খান, কুদ্দুস খান, নাসির খান ও তাদের সাথে প্রভাবশালী কিছু ব্যাক্তিদের নিয়ে প্রায় ৫০০ একর খালে এককভাবে মাছের ঘের করে ভোগ দখল করে এবং বর্ষার মৌসুমে উক্ত খালে পানি জমা করে জনগণের প্রায় ১৫০০ একর জমির ফসল নষ্ট করে দেয় এবং শীতের মৌসুমে লোনা পানি দিয়ে কৃষকদের রবি শষ্য নষ্ট করে দেয়। খালের পাড়ে কিছু গরীব মানুষ মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু খালটির দখলকারীদের জুলুম অত্যাচারের কারণে কোন গরীব মানুষ মাছ ধরতে পারে না। অনেক মানুষ কে তারা পথে ঘাটে মান সম্মান নষ্ট করে এবং বর্ষার মৌসুমে জনগণ খালের পানি কমাইতে বলিলে তারা কর্নপাত করেনি তারপর জনগণ উক্ত জুলুমবাজদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে খালটি মুক্ত করার জন্য সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মহিব্বুর রহমান মহিব এর নিকট দরখাস্ত করেন। তারপর এম পি মহিব ২০১৯ সালের ১৮ ই এপ্রিল চরমোন্তাজ ইউনিয়ন এর বিশাল গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সুস্পষ্ট ভাষায় জনগণের সম্মুখে অবৈধ খাল জনগণের জন্য উন্মুক্ত ঘোষণা করছেন। তারপর ৫ নং ওয়ার্ড এর জনগণ এম পি মহিবের নির্দেশক্রমে উক্ত খালের বাধ কাটিয়া উন্মুক্ত করে দেয়। তারপর খালটির দখলকারী বশির খান স্থানীয় জনগণের নামে পটুয়াখালী আইন শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী দ্রুত বিচার ট্রাইবুনাল আইনে ৪/৫ ধারায় ২৫/০৪/২০১৯ তারিখ মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ৫৫/১৯।উক্ত মামলায় ১৯ জন আসামি ৪২ দিন যাবৎ জেল হাজতে কারাবন্দী থেকে জামিনে মুক্ত হয়।
উক্ত খালটি ১ বছর যাবৎ উন্মুক্ত ছিল। কিন্তু কয়েক মাস ধরে বশির খান আবার খালটি দখল করে জনগণকে হয়রানি শুরু করছে।
এবিষয়ে খালটির দু পাশে বসবাসকারী জনগণের অনেকেই পূনরায় খালটি ভূমিদস্যু বশির খান এর দখলে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে। জানান বিগত এক বছর খালটি উন্মুক্ত থাকায় আমরা খুব সুন্দর জীবনযাপন করেছি, এই খালটি আমাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজ সহ জীবিকা নির্বাহের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ, খালটি ভূমিদস্যু (বশির খান) পুনরায় লিজ নেয়ায় আমরা মানবেতর জীবনযাপন করছি তিনি আমাদের পুনরায় বিভিন্ন নির্যাতন শুরু করেছেন
জনগণ আরও জানান তার অত্যাচারে আমরা অতিষ্ঠ এবং এই খালটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাপনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ তাই আমরা সকল জনগণ ভূমিদস্যুর কবল থেকে বাঁচতে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের নিকট লিজ বাতিলের জন্য দরখাস্ত করি পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক মোঃ মতিউল আলম চৌধুরী বিষয়টি আমলে নিয়ে আগস্ট মাসের ৬ তারিখ তার স্বাক্ষরিত জনগণের পক্ষে সুপারিশ পত্র দাখিল করেন। এবং রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট ডাকযোগে প্রেরণ করেন কিন্তু আজও পর্যন্ত আমরা এর সুষ্ঠু সমাধান পাই নাই। তাই আমরা ১৪-১০-২০২০ তারিখ দ্বিতীয় বার জেলা প্রশাসক এর বরাবর দরখাস্ত করি।
এসকল বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ হানিফ মিয়া বলেন “অভিযুক্ত বশির খান একজন ভূমিদস্যু। তিনি অবৈধ ভাবে অনেক কিছু দখল করে আসছে। তারা সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করে, এমনকি তারা আমার উপরে ও অনেক সময় হামলা করেছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক দূর্নীতির অভিযোগ তুলে জনগণ সংসদ সদস্যর বরাবর দরখাস্ত করে আমি অভিযোগ এর সত্যতা যাচাই করে দূর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেওয়ার জন্য জোর সুপারিশ করেছি। আমি চাই উক্ত খাস খালটি জনগণের জন্য উন্মুক্ত থাকুক। আমরা জনগণের পক্ষে কাজ করি, কোন সন্ত্রাসীর পক্ষে নয়।”

Print Friendly, PDF & Email

Please Share This Post in Your Social Media

কপিরাইটঃ ২০১৬ দৈনিক অন্যদিগন্ত এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Design & Developed BY It Host Seba Mobile: 01625324144
Shares