বৃহস্পতিবার, ০৪ মার্চ ২০২১, ১১:৪৪ পূর্বাহ্ন

শ্রীবরদী পৌরসভা নির্বাচনের শেষ মূহুর্তে উত্তপ্ত

শেরপুর  প্রতিনিধি ।।

শেরপুরের শ্রীবরদী পৌরসভা নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থীদের কর্মী সমর্থকদের মধ্যে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। একই সাথে আওয়ামীলীগের নির্বাচনী অফিস, মোটর সাইকেল ও নৌকার প্রতীক পোড়ানো এবং দুই কর্মীর আহত হওয়ার ঘটনা নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করছে আওয়ামলীগ, বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। বৃহস্পতিবার (১১ ফ্রেব্রুয়ারী) সকালে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী তার নিজ বাসভবনে, বিকেল তিনটায় আওয়ামীলীগ প্রার্থী তার প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে এবং বিকেলে স্বতন্ত্র প্রার্থী পৃথক পৃথকভাবে সাংবাদিকদের কাছে এ একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন।

বিএনপি প্রার্থী আব্দুল হাকিম বলেন, নির্বাচনে ছাত্রলীগ, যুবলীগ নেতাকর্মীদের হুমকি, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর দমন পীরনের জন্য আমি ও আমার দলের সমর্থকরা নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা করতে বাঁধার সম্মুখিন হচ্ছি। সরকারি দলীয় প্রার্থী প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে আমার নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করছে। গত ০৩ ফেব্রুয়ারী পোড়াগড় বাজারে উদ্দেশ্যমূলকভাবে নিজেরাই নৌকা প্রতীকের তোরণে অগ্নিসংযোগ করে বিএনপি ও অংগসংগঠনের ২৪ জন নেতাকর্মীর নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করে। এ ঘটনায় উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক রাজু আহাম্মেদ, শ্রমিকদলের সদস্য সচিব ফজলুল করিম লাকি ও সদস্য আহাম্মদ আলীকে গ্রেফতার করেছে। এছড়াও গতকাল বিভিন্ন ওয়ার্ডে নৌকা প্রতীকের তোরণ ও মোটর সাইকেল পুড়িয়ে বিএনপি কর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা দেওয়ার পায়তারা করছে। এ সময় তিনি ভোট গ্রহণের পূর্বেই নির্বাচনের সুষ্ঠ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি জোড় দাবী জানান। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সাবেক এমপি ও জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদুল হক রুবেল, উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক আব্দুর রহিম দুলাল, যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল্লাহ আল মামুন দুলাল, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর নুরুজ্জামান বাদল প্রমুখ।

অপরদিকে আ’লীগ মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ আলী লাল মিয়া ককটেল বিস্ফোরণ, মোটর সাইকেল পোড়ানো ও নেতাকর্মীদের আটকে রেখে মারধরের অভিযোগ তুলে একই দিন দুপুরে নিজ নির্বাচনী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বিএনপি মনোনিত প্রার্থী আব্দুল হাকিম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হাবিবুল্লাহ হাবি আমার নেতাকর্মীদের উপর হামলা, মোটরসাইকেল ও নৌকা প্রতীকের তোরণে অগ্নিসংযোগ করে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। আমার নেতাকর্মীরা নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘন করে নাই। আমার বিশ্বাস নির্বাচনে সুষ্ঠ পরিবেশ বজায় থাকবে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগ সদস্য বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুল্লাহ ছালেহ, জেলা কৃষক লীগের সভাপতি আব্দুল কাদির, উপজেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহবায়ক ফেরদৌস আলী প্রমূখ। এতে জেলা ও উপজেলার গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ গ্রহণ করেন।

এদদিকে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী সাবেক কাউন্সিলর ও স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী হাবিবুল্লাহ হাবি বলেন, আওয়ামীলীগের জনবিচ্ছিন্ন প্রার্থী কারচুপি করতে নানা মিথ্যা নাটক সাজিয়ে আমাদেরকে হয়রানী করার জন্য মিত্যা অভিযোগ করছে। তারা তাদের নৌকা প্রতীক পুড়ানোর জন্য চেষ্টা করলে জনগন তাদেরকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পরে তারা নিজেরাই তাদের অফিস পুড়িয়ে আহত হওয়ার ভান করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

এদিকে স্থানীয় ভোটাররা নিরপেক্ষ ভোট গ্রহনের দাবী করেন। তারা তাদের ভোট তারাই দিতে চান। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শানিয়াজ্জামান তালুকদার জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একটু উত্তেজনা থাকবেই। আমরা নিরপেক্ষ নির্বাচনের সব ব্যবস্থা করেছি।

Print Friendly, PDF & Email

Please Share This Post in Your Social Media

কপিরাইটঃ ২০১৬ দৈনিক অন্যদিগন্ত এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Design & Developed BY It Host Seba  
Shares