শনিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ১২:২৫ অপরাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ

সিএএবি কর্মী মেজবাহ এখন কোটিপতি!

স্টাফ রিপোর্টার॥
শরীরে স্বর্ণ, দামী ধাতব, মুদ্রা কিংবা অর্থ বেঁধে আইনের চোখ ফাঁকি দিয়ে পাচার করে কোটিপতি হওয়ার অভিযোগ উঠেছে রাজধানীর হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের সিভিল এভিয়েশনের (সিএএবি) এক কর্মীর বিরুদ্ধে। তিনি হলেন, কর্মী (অপারেটর) মেজবাহ উদ্দিন। বিমানবন্দরে ‘বডি ফিল্টার’ নামে পরিচিত ছিলেন এই মেজবাহ।

জানা যায়, দীর্ঘদিন ঢাকার বিমানবন্দরে চাকরি করার সুবাদে সব রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীর সঙ্গে মেজবাহর সুসম্পর্ক রয়েছে। তবে বর্তমান ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী এক নেতার অলিখিত প্রটোকল দিচ্ছিলেন তিনি। এর বদৌলতে বিমানবন্দরের ভেতরে সংরক্ষিত এলাকায়ও তার ছিল অবাধ যাতায়াত। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে অপারেটর পদে থেকেও রাজধানীতে অঢেল সম্পদের মালিক হন মেজবাহ। তার রয়েছে বহুতল বাড়ি, দামী ফ্লাট ও গাড়ি। তার নেতৃত্বে বিমানবন্দর স্বর্ণপাচারে ১২ সদস্য বিশিষ্ট একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠে বলে সংশ্নিষ্ট তদন্ত সূত্রে জানা গেছে।

পুলিশ জানায়, এরইমধ্যে শরীরে প্রায় অর্ধকোটি টাকার স্বর্ণবারের চালান পাচারের অভিযোগে বিমানবন্দরে সিভিল এভিয়েশনের বডিফিল্টার মেজবাহ উদ্দিনকে আটক করা হয়েছে। তাকে বিমানবন্দর থানায় সোপর্দ করেছে ঢাকা কাষ্টমস কর্তৃপক্ষ। পরে আদালতের মাধ্যমে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে সে পুলিশের কাছে বিমানবন্দরে স্বর্ণপাচারের চাঞ্চল্যকর বিভিন্ন তথ্য দেয়। তার দেওয়া এসব তথ্য গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে সিভিল এভিয়েশনের কয়েকজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী এক নেতার আস্থাভাজন এই কর্মী মেজবাহ উদ্দিন। প্রায়ই বিমানবন্দরে তাকে প্রটোকল দিতেন তিনি। ডিউটি ছাড়াই তিনি অবৈধভাবে সিভিল এভিয়েশনের নিরাপত্তা পাশ ব্যবহার করে বিমানবন্দরে বিভিন্ন নেতা-কর্মীকে প্রটোকল দেন।

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ওই কর্মকর্তারা বলেন, ‘কর্মী মেজবাহ যেসব নেতাদের প্রটোকল দিতেন তাদেরকে সালাম দেওয়া ছাড়া সামনে দাঁড়িয়ে থাকার সুযোগ নেই আমাদের। এ কারণে চাকরি বাঁচাতে বা শাস্তির ভয়ে কর্মী মেজবাহকে বিমানবন্দরের কর্মকর্তারা মেজবাহকে কিছু বলতেন না।’

এ ব্যপারে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার পরিদর্শক (তদন্ত)  বলেন, শরীরে স্বর্ণবার পাচারের অভিযোগে সিভিল এভিয়েশনের কর্মী অপারেটর মেজবাহ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতের মাধ্যমে তিন দিনের রিমান্ডে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তার দেওয়া স্বর্ণপাচারে চাঞ্চল্যকর বেশকিছু তথ্য অনুযায়ী গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

Please Share This Post in Your Social Media

কপিরাইটঃ ২০১৬ দৈনিক অন্যদিগন্ত এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Design & Developed BY It Host Seba  
Shares