রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২০, ০৮:৫৯ পূর্বাহ্ন

সুরের ভুবনে সম্ভাবনা এক শিল্পীর নাম লাইজু

যোবায়ের হোসাইন ॥

প্রতিটি মানুষের জীবনে একটি লক্ষ্য বা স্বপ্ন থাকে। সেই লক্ষ্যে পৌচ্ছাতে বা সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপান্তরিত করতে হলে প্রয়োজন কঠোর সাধনা। সেই কঠোর সাধনায় মগ্ন হয়ে স্বীয় মেধা ও মননকে কাজে লাগিয়ে নিজেকে যোগ্য হিসাবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করেন। তারা খুব সহজেই জীবনে স্বপ্ন পূরনে কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌছাতে সক্ষম হন। তেমনি একজন সংগীত শিল্পী আনোয়ার লাইজু।

বহুগুণে গুণান্বিত এই শিল্পী একাধানে রেডিও টেলিভিশনের তালিকাভূক্ত শিল্পী ও বিভিন্ন স্যাটেলাইট চ্যানেলে দীর্ঘদিন যাবৎ ভালো ভালো গান উপহার দিয়ে আসছে। তার গান অন্য শিল্পীদের চেয়ে একটু ভিন্ন আঙ্গিকে। তিনি অনেক গানের গীতিকার, সুরকার ও মিউজিক কম্পোজার। তার দৃষ্টি শক্তিও প্রখর। এ পর্যন্ত তিনি ৫০০ টি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতারের ‘ক’ গ্রেডের শিল্পী। উচ্চ বংশীয় এই শিল্পীর জন্মস্থান নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর উপজেলায়। বাবা স্বনামধন্য দীর্ঘসময়ের চেয়ারম্যান। বাবার উৎসাহ ও উদ্দীপনায় শিল্পীর শৈশব কেটেছে গানের পরিবেশের মধ্য দিয়ে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের তীর্থস্থান লাঙ্গল বন্দর ইতিহাস প্রসিদ্ধ স্থান। সেখানকার সাধু সন্যাসীদের কীর্তন, ভোজন, রামপ্রসাদী গান শুনে এবং শরীয়তি মারফতি বাউল গানের মধ্যে শিল্পীর বেড়ে ওঠা। বাবার সঙ্গে সেই সমস্ত অনুষ্ঠানগুলি দেখতে দেখতে, শুনতে শুনতে শিল্পী কখন যে, আত্মহারা হয়ে অচেতন মনে সঙ্গীতকে লালন করেছেন মনের অজন্তে। মাও সঙ্গীত প্রিয় ছিলেন। গুনগুন করে গাইতেন সেই পঞ্চাশের দশমের সেই ভারতীয় বাংলা গান। শৈশবের হাতেখড়ি ধীর আলীর নিকট পর্যায়ক্রমে ওস্তাব আকতার সাদমানি, নিলুফার ইয়াসমিন এবং আবু বকর সিদ্দিকের কাছে। ছোটবেলা থেকেই শিল্পী খেলাধুলার পাশাপাশি বন্ধু-বান্ধবীদের প্রিয় পাত্রী ছিলেন। বন্ধু-বান্ধবীদের মাতিয়ে রাখা, সবার সুবিধা ও অসুবিধাার দিকে নজর রাখতেন সবসময়।

ছোটবেলা থেকেই গরীব দুখীদের সাহায্য করা এবং তার দানশীল মননে পরিচয় বহন করে। সেই ধারাবাহিকতায় তিনি বিভিন্ন সমাজ কল্যাণমূলক কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি দীর্ঘদিন আধা সরকারী হাইস্কুলের ম্যানিজিং কমিটির সভাপতি হিসাবে সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তাছাড়া তিনি মেট্রোপলিটন ডিগ্রী কলেজ, লালবাগ এর ডিজি প্রতিনিধি হিসাবে দুইবার সাফল্যের সাথে পরিচালনা করেন। শুধু তাই নয়, সামাজিক কর্মকান্ডের অংশ হিসাবে হিউম্যান রাইটস কমিশনের সভাপতি হিসাবে তিনি গুলশান থানার দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় হতে বাংলা বিভাগ থেকে বাংলা সাহিত্যে অনার্স সহ মাস্টার্স ডিগ্রী অর্জন করেন। কিছুকাল পরে তিনি টঙউঅ বিশ্ব বিদ্যালয় হতে সঙ্গীতে মাস্টার্স ডিগ্রী অর্জন করেন। বাঙালি জাতির শেখর লোকসঙ্গীত বিভিন্ন ধারার সঙ্গীতে পদচারণা করলেও লোকসঙ্গীত-ই শিল্পীর প্রথম পছন্দ। তাই তিনি মন-প্রাণ ঢেলে লোক সঙ্গীতকেই আকড়ে রেখেছেন বেশি। মিষ্টি কণ্ঠের অধিকারীনী শিল্প সবসময় মা-মাটির গান, পল্লীগীতি, ভাটিয়ালি, ভাওয়াইয়া, বিচ্ছেদ, আধ্যাত্মিক, জারিসারি, মুর্শিদি, দেশের গান গেয়ে থাকেন।

এ পর্যন্ত তার অসংখ্য গানের অ্যালবাম বের হয়েছে। যা আজকে শিল্পীকে এনে দিয়েছে বিরল সম্মাননা। তিনি অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। এ পর্যন্ত ইউটিউব চ্যানেলে ১০০টি গান আপলোড হয়েছে। যার ভিউয়ার্স ইতিমধ্যে ১০ লক্ষ ছাড়িয়েছে এবং সাইসক্রাইব প্রায় ৫ হাজারের উপরে। তিনি আশা করেন ভবিষ্যতে গান আপলোড করলেই তার দর্শকশ্রোতা এবং ভক্তবৃন্দ প্রতিটি গানে এক লক্ষ্যের উপর ভিউয়ার্স ছাড়িয়ে যাবে।

শিল্পীর নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল খওতট ্ গটঝওঈ অই মাত্র তিনমাসে তার চ্যানেলের মনিটাইজেশন হয়েছে। এত অল্প সময়ে কোন শিল্পীর মনিটাইজেশন হয়নি। তার গানের একটা দর্শক গ্রহণযোগ্যতা তৈরী হয়েছে। যে কারনে ইউটিউবে তার গান আপলোড করলে বিশ বা ত্রিশ হাজার ভিউ হয় অল্প সময়ে। এটা একটা শিল্পীর জন্য বিরাট পাওনা। তিনি যে পুরস্কার গুলো পেয়েছেন তা হলো-

০১। প্রেসিডেন্ট. বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস কমিশন,
০২। ভাইস প্রেসিডেন্ট. বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস কমিশন, ঢাকা উত্তর।
০৩। সভাপতি, মালিবাগ কেরামতি উচ্চ বিদ্যালয়, বন্দর।
০৪। ফরমার প্রেডিডেন্ট শেরে বাংলা শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদ।
০৫। ফরমার ডিজি প্রতিনিধি মেট্রোপলিটন ডিগ্রী কলেজ, লালবাগ।
এছাড়াও অনেক প্রতিভার অধিকারী শিল্পী আনোয়ার লাইজু বেঁচে থাকবেন তার সামাজিক কর্মকান্ড ও গানের মাঝে এবং জয় করুক বিশ্ব কে ॥

Print Friendly, PDF & Email

Please Share This Post in Your Social Media

কপিরাইটঃ ২০১৬ দৈনিক অন্যদিগন্ত এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Design & Developed BY It Host Seba Mobile: 01625324144
Shares