বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২০, ০৩:১৯ অপরাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ
বৃদ্ধাশ্রম’ নিয়ে বাংলাদেশে প্রথমবারের মত র‌্যাপ গান নির্মাণ করছেন তরুণ নির্মাতা জাহিদ হাসান রাতুল প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে মহিলা কাউন্সিলর সৈয়দা রোকসানা ইসলাম চামেলীর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন স্বপ্নধরার চোখধাঁধানো সাইনবোর্ডে প্রতারণা! শেরপুরের শ্রীবরদীর নির্যাতিত শিশু গৃহকর্মী সাদিয়ার বাড়িতে এখনও চলছে শোকের মাতম : খুনির ফাঁসি দাবী এলাকাবাসীর হাটহাজারীতে চোরাই পাচারকৃত চিড়াই কাঠ জব্দ সুমন খানের বারুদে বোলিং, ১৭৩ রানেই আটকে গেল শান্তর দল মাস্ক না পরলে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সেবা নয় অন্যদিগন্ত এর সম্পাদককে হামলা মামলার হুমকি থানায় জিডি বানিয়াচংয়ে প্রেমিকার লাশ ফেলে পালিয়ে যাবার সময় ঘাতক প্রেমিক আটক দুঃসময়ে কারামুক্ত করতে এগিয়ে আসেন রফিক-উল হক : প্রধানমন্ত্রী

হেলপার থেকে পরিবহণের মাফিয়া!

স্টাফ রিপোর্টার॥
পরিবহন খাতে চাঁদাবাজির দৌরাত্ম্য থামানোর সাধ্য যেন কারও নেই। একশ্রেণির পরিবহন শ্রমিক, চিহ্নিত সন্ত্রাসী, পুলিশ ও সরকারি দলের আশীর্বাদপুষ্টদের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে চাঁদাবাজ চক্র। গুলিস্তানে পরিবহন মালিক শ্রমিকদের কাছে মূর্তিমান আতংকের নাম আব্দুর রহমান। নাম শুনলেই অনেকেরই গলা শুকিয়ে যাওয়ার অবস্থা। তার অস্ত্রের কাছে যানবাহন চালক, মালিকসহ সংশ্লিষ্ট সবাই জিম্মি হয়ে পড়েছে।

পরিবহন খাতে গাড়ির মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নামেই সিংহভাগ চাঁদাবাজি আদায় হয়। সড়ক, মহাসড়ক, টার্মিনাল-স্ট্যান্ডে বিভিন্ন নামে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গ্রুপও প্রকাশ্যেই চাঁদাবাজি রয়েছে। পরিবহন শ্রমিক সংগঠনগুলো চাঁদা নেয় শ্রমিক কল্যাণের নামে। ট্রাফিক সার্জেন্টরা যে চাঁদা তোলেন তা অভিহিত হয় মাসোয়ারা হিসেবে। গুলিস্তানে লাগামহীন চাঁদাবাজি পরিবহন খাতের নিয়তির লিখন হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজধানীর বাস টার্মিনালগুলোতে যে চাঁদাবাজি হয় তা এক কথায় অবিশ্বাস্য।

গুলিস্তান বাসস্ট্যান্ড থেকে আবদুর রহমান দিনরাত চাঁদা আদায়ের কাজটি করে থাকেন ‘লাঠি বাহিনী’, ‘যানজট বাহিনী’ ও ‘লাইন বাহিনী’। প্রতিদিন গুলিস্তান থেকে নারায়ণগঞ্জ, মদনপুর, নকাঁচপুর, মেঘনা, মুন্সিগঞ্জ, ডেমরা, রূপগঞ্জ, গাউছিয়া সড়ক দিয়ে শত শত গাড়ি চলাচল করে চাঁদা দিয়ে। চাঁদা দিলে ঘুরে গাড়ির চাকা।

প্রতিটি গাড়ির থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণে দৈনিক চাঁদা দিতে হয় রহমান বাহিনীকে। চাঁদা না দিলে চলেনা গাড়ির চাকা, চলে পাশবিক নির্যাতন, অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ ও শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেও জানান পরিবহন শ্রমিকরা।

ড্রাইভার রাসেল (ছদ্মনাম) বলেন, এই পেশায় জড়িত হয়ে জীবনে ভুল করেছি। প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাতে হয়।
সব ঠিক থাকলেও ঘাটে ঘাটে আমাদেরকে দিতে হয় টাকা। এছাড়াও নির্যাতনের ঘটনার শিকার হয়েছে অনেকবার।

তিনি আরও জানান গুলিস্তানে রহমানের কাছে অস্ত্রের কাছে পরিবহন মালিক-শ্রমিক আমরা এখন অসহায়। আমাদের রক্তে অর্জিত টাকা চাঁদাবাজরা নিয়ে সবাইকে ম্যানেজ করে আমাদেরকে জিম্মি করে রেখেছে। যারা পদক্ষেপ নিবে সেই পুলিশও তাদের নিয়ন্ত্রণে।

পরিবহনের শীর্ষ এক নেতার আশীর্বাদ পেয়ে
তিনি আরো বেপরোয়া ও চাঁদাবাজি টিকেট হাতে পেয়ে যায়। পরিবহনে চাঁদাবাজি করে রহমান বাড়ি গাড়ি অঢেল সম্পত্তির মালিকও বনে যান।

এ বিষয়ে আব্দুর রহমান ওরফে (মাউরা) রহমান মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অভিযোগ মিথ্যা আমরা চাঁদা তুলি না। শ্রমিকদের কল্যাণে কিছু টাকা তুলি।

এ বিষয়ে পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার, মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক মুঠোফোনে বলেন, গত মাসে রহমানসহ সাত জনের নামে একটি চাঁদাবাজি মামলা হয় পল্টন থানা। রহমান জামিন নিয়ে আসেন এবং অন্যদেরকে আমরা আটক করি। সে যদি আবার চাঁদাবাজি করে আমরা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।

Print Friendly, PDF & Email

Please Share This Post in Your Social Media

কপিরাইটঃ ২০১৬ দৈনিক অন্যদিগন্ত এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Design & Developed BY It Host Seba Mobile: 01625324144
Shares