বুধবার, ১৯ মে ২০২১, ০৮:১২ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ
দুর্নীতির রিপোর্ট করায় রোজিনা ইসলাম আক্রোশের শিকার প্রথম আলোর সাংবাদিকের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতিবাজদের মামলা স্বাস্থ্যে ১৮শ জনকে নিয়োগ॥ জনপ্রতি ১৫-২০ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ নিয়োগ কমিটির দুই সদস্যের সচিবালয়ে পাঁচ ঘণ্টা আটকে রেখে থানায় নেওয়া হলো সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে ডিএমপির ১১ কর্মকর্তাকে বদলি ও পদায়ন অতিরিক্ত আইজিপি হলেন পুলিশের ৪ কর্মকর্তা ইসরাইলি বর্বর আগ্রাসনের প্রতিবাদে ক্ষোভে উত্তাল বিশ্ব প্রশাসনের নাকের ডগায় রমরমা মাদক পতিতাদরে হাট, নেপথ্যে মানিক ও তারেক মুনিয়ার মামলা নিয়ে পরিবারের অসন্তোস কুমিল্লা-৫ আসনের উপনির্বাচন সাজ্জাদের পক্ষে গনজোয়ার

চিকিৎসকের আচরণ অসৌজন্যমূলক, কুরুচিকর: পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন

মোঃ মনিরুজ্জামান॥

চলমান লকডাউনে রাজধানীর এলিফেন্ট রোড এলাকায় চেকপোস্টে কর্তব্যরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডা. সাঈদা শওকত জেনির আচরণ অসৌজন্যমূলক, কুরুচিকর ও লজ্জাজনক ছিল উল্লেখ করে এর প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। একইসঙ্গে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাছে দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

সোমবার বিকালে অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক ও নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ জায়েদুল আলম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতি এসব কথা বলা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক মহামারি করোনার সংক্রমণ রোধে সরকারি আদেশ বাস্তবায়নের এই চলমান কার্যক্রমে গত ১৮ এপ্রিল (রোববার) ঢাকা মহানগরীর এলিফেন্ট রোড এলাকায় মাঠ পর্যায়ে কর্মরত পুলিশ সদস্যদের প্রতি অসৌজন্যমূলক আচরণ, হয়রানি ও অসহযোগিতার কিছু চিত্র গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে। এটা বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের দৃষ্টিগোচর হয়েছে।

‘ঘটনা পর্যালোচনায় দেখা যায়, ওই স্থানে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের উপস্থিতিতে চেকপোস্ট চলাকালে জনৈক চিকিৎসককে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার জন্য পরিচয়পত্র দেখাতে বলা হয়। এতে তিনি অত্যন্ত ন্যাক্কারজনকভাবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। যা একজন পেশাদার ও সচেতন নাগরিকের কাছ থেকে কোনোভাবেই কাম্য নয়।’

বিবৃতিতে বলা হয়, তিনি শুধু ওই পুলিশ সদস্যদেরই অপমান করেননি, গোটা পুলিশ বাহিনীকেই কটাক্ষ ও হেয়প্রতিপন্ন করেছেন, যা মিডিয়াচিত্রে প্রতীয়মান। শুধু তাই নয়, তিনি নিজ পেশার পরিচয় বাদ দিয়ে অপ্রাসঙ্গিক পরিচয় তুলে ধরে পুলিশ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেছেন এবং জাতির সামনে পেশাজীবী সংগঠনগুলোকে মুখোমুখি দাঁড় করানোর অপচেষ্টা করেছেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, গত ১৪ এপ্রিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে জারি করা প্রজ্ঞাপনে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসাসেবাসহ অন্য কার্যক্রমে জড়িত সবি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাপ্তরিক পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড) আবশ্যিকভাবে ব্যবহারের নির্দেশনা থাকলেও তিনি তা অমান্য করেছেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তার পরিচয় না দিয়ে নিজ মন্ত্রণালয়ের আদেশ লঙ্ঘন করেছেন। ওই চিকিৎসক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাদানুবাদকালে যে শব্দ প্রয়োগ করেছেন তা অত্যন্ত কুরুচিকর ও লজ্জাজনক।

‘এক পেশার সদস্য হয়ে আরেক পেশার কর্মকর্তাদের তিনি কী ভাষা প্রয়োগ করেছেন তা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত ও প্রকাশিত হয়েছে। তিনি কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের তুই বলে সম্বোধন করেছেন এবং ‘আর আমি কি, সেটা এখন তোদের দেখাচ্ছি হারামজাদা’ বলে হুমকি দিয়েছেন।

মহান মুক্তিযুদ্ধসহ জাতির প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নে বিশেষত চলমান বৈশ্বিক মহামারির এই দুঃসময়ে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর স্বেচ্ছায় আত্মত্যাগ সর্বজন স্বীকৃত। এই পর্যন্ত কর্তব্যরত অবস্থায় কোভিড-১৯ আক্রান্ত ৯১ জন বীর পুলিশ সদস্য শাহাদত বরণ করেছেন এবং ২০ হাজারের বেশি আক্রান্ত হয়েছেন।’

পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদের নির্দেশে দেশ মাতৃকার সেবায় সরকারের যথাযথ নির্দেশনা পালনে বাংলাদেশ পুলিশের প্রতিটি সদস্য বদ্ধপরিকর। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষের জীবন রক্ষার্থে বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যরা বৈশাখের এ তীব্র তাপদাহে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় দাঁড়িয়ে কাজ করছেন। পেশাগত বৈচিত্র্যের কারণে পুলিশের এ চ্যালেঞ্জিং দায়িত্ব পালনকালে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। করোনা সংকটে দেশের স্বার্থে ও মানুষের জীবন রক্ষার্থে ও করোনার বিভীষিকা থেকে মুক্তি পেতে পুলিশের কাজে সবাই সহযোগিতা করবেন, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশে করোনা সংকট এবং করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসায় মেডিক্যাল সার্ভিসে নিয়োজিত চিকিৎসক, নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের অব্যাহত কার্যক্রমের জন্য বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন সর্বদা কৃতজ্ঞ। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ সদস্যদের প্রতি জনৈক চিকিৎসকের এহেন অপেশাদার ও অরুচিকর আচরণে বাংলাদেশ পুলিশের প্রতিটি সদস্য অত্যন্ত মর্মাহত। বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন উক্ত ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।

একজন গর্বিত পেশার সদস্য হয়ে অন্য একজন পেশাদার বাহিনীর সদস্যদের প্রতি কটাক্ষ বা অসৌজন্যমূলক আচরণ কখনোই কাম্য নয়। নিজ মন্ত্রণালয়ের বৈধ আদেশ লংঘন এবং কর্তব্যরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাছে উক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন জোর দাবি জানাচ্ছে।

 

Print Friendly, PDF & Email

Please Share This Post in Your Social Media

কপিরাইটঃ ২০১৬ দৈনিক অন্যদিগন্ত এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Design & Developed BY It Host Seba  
Shares