কচুয়ায় ভূয়া মাজার তৈরী করে প্রতারনার ফাঁদ | অন্যদিগন্ত

বুধবার, ২২ জানুয়ারী ২০২০, ০৫:৪৮ অপরাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ
আসন্ন সরস্বতী পুজা উপলক্ষে গাইবান্ধায় সরস্বতী দেবীর প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা হাটহাজারীতে সাজাপ্রাপ্ত আসামী ও মাদক বিক্রেতা সহ আটক ২ রাজধানীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে তিন শ্রমিকের মৃত্যু সিনেটে ট্রাম্পের অভিশংসন শুনানি শুরু মহেশকে ছেড়ে সুশান্তে মজেছেন এই অভিনেত্রী বাংলাদেশের টানা দ্বিতীয় জয় বোলারদের নৈপুন্যে  ৩২৯টি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপনে ২০ হাজার ৫২৬ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন নবীনগরে অবৈধভাবে কৃষি জমি থেকে বালু উত্তোলন করায় ড্রেজার ধ্বংস করলেন এসিল্যান্ড হাটহাজারীতে মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে উচ্ছেদ অভিযানে বাধা ট্রেলার প্রকাশের পর সমালোচনার শিকার সারা-কার্তিক

কচুয়ায় ভূয়া মাজার তৈরী করে প্রতারনার ফাঁদ

কচুয়া উপজেলার ১২নং আশ্রাফপুর ইউনিয়নের চক্রা গ্রামে ভূয়া মাজার তৈরি করে এক দম্পতির বিরুদ্ধে প্রতারনা করার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ২ মাস আগে ওই গ্রামের মৃত টুকু মিয়ার ছেলে আ: মমিন খন্দকার, তার ২য় স্ত্রী রোকেয়া বেগম চক্রা গ্রামের বেনুচো নতুন বাড়িতে ঘরের সমানে দু’টি নতুন কবর তৈরি করে চারদিকে লালসালু ও কয়েকটি ছবি টানিয়ে দেন। এ সংবাদ এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সাধারন লোকজনের মাঝে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিনে গেলে ওই গ্রামের আনোয়ার হোসেন,আহসান হাবীব, সোহেল, আবু হানিফ, রফিক, ফরহাদ হোসেনসহ একাধিক লোকজন জানান, এই স্থানে পূর্বে কোনো মাজার কিংবা কবর ছিল না। আ: মমিন খন্দকার তার ২য় স্ত্রী রোকয়ো বেগমের প্ররোচনায় গত ২৯ নভেম্বর রাতে মমিন ও রোকেয়ার সহযোগী সুফিয়া বেগম,আফিয়া বেগম ও রাহেলা বেগমসহ কিছু অতি উৎসাহী লোকের সহায়তা তার ঘরের সামনে মাটি দিয়ে দুটি নতুন কবর তৈরি করে আধ্ম্যতিক ভাবে মাজার হয়েছে বলে প্রচার চালায়। এটি এলাকার সাধারন মানুষকে ধোঁকা দেয়ার জন্য কবরের মতো তৈরি করেছে বলে এলাকাবাসী দাবি করেন। এলাকাবাসী এটিকে ভূয়া মাজার দাবি করে, এটি নিয়ে তারা স্বামী স্ত্রী যাতে কোনো প্রতারনা কিংবা ফায়দা লুটতে না পারে অচিরেই তা বন্ধ করতে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

আ: মমিনের ১ম স্ত্রী নাছিমা বেগম জানান, এই বিষয়ে মুখ খুলতে নিষেধ রয়েছে। এটি কোনো আধ্ম্যাতিক ব্যক্তির নামে মাজার কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি আমার স্বামী ও তাঁর ২য় স্ত্রী রোকেয়া বেগম ভালো জানেন। তবে এখানে পূর্বে কোনো কবর ছিলনা বলে তিনি জানান এবং মাঝে মধ্যে এখানে হালকা জিকির ওয়াজের ব্যবস্থা করা হয়।

এ ব্যাপারে রোকেয়া বেগম মুঠোফোনে জানান, আমার স্বামী আ.মমিন ও আমি ফরিদপুরের আটরশির মুরিদ (ভক্ত)। আমার স্বামী আ: মমিন খন্দকার কচুয়া-ঢাকা সড়কের সুরমা বাসের সুপারভাইজার। আমরা নারায়নগঞ্জে বসবাস করি। আমি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মাজারে যাই। আমাকে স্বপ্নে দেখানোর ফলে আমি এটি করে তাদের আশ্রয় দিয়েছি। তবে কোন ধরনের প্রতারনার উদ্দেশ্য এটি করি নাই। শুধু মাত্র স্বপ্নে দেখানোর ফলে তাদের আশ্রয় দেয়ার জন্য করেছি। এগুলো কি জানতে চাইলে তিনি বলেন, এগুলো আলগা (জিন) জাতীয়। এগুলো দিয়ে কারো কাছ থেকে কোনো টাকা পয়সা নেয়নি বলে তিনি দাবী করেন।

আশরাফপুর ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদ এলাহী সুবাস জানান, চক্রা গ্রামে আধ্ম্যতিক মাজার উঠার বিষয়ে আমার জানা নেই।

কচুয়া থানার ওসি মো. আতাউর রহমান ভূঁইয়া বলেন, চক্রা গ্রামে আধ্ম্যাতিক মাজার উঠার বিষয়ে জানা নেই, তবে এখানে কোন প্রতারনা হয় কিনা তা খোজ খবর নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Print Friendly, PDF & Email

Please Share This Post in Your Social Media


কপিরাইটঃ ২০১৬ দৈনিক অন্যদিগন্ত এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Design & Developed BY Seskhobor.Com
Shares
CrestaProject