পাথরঘাটা মাদক ব্যবসার হালচাল- পর্ব-১ | অন্যদিগন্ত

বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯, ০১:০৮ অপরাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ
পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণে এসেছে, দাবি শিল্পমন্ত্রীর  নারায়ণগঞ্জ টেকনিক্যাল স্কুলের সীমানা প্রাচীর ধসে প্রাণ হানির আতঙ্কে ৩ হাজার মানুষ লালমনিরহাট সদর উপজেলায় স্কুল ছাত্রীকে ৫দিন আটকে রেখে গনধর্ষণ ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সিনেমা ফিরিয়ে দিলেন পরিণীতি ট্রেন দুর্ঘটনায় আহত শিশুটির পরিচয় মিলেছে, নিখোঁজ মা-দাদি বসুন্ধরা পেপারের লেনদেন পূর্ব ৬৯ কোটি টাকার মুনাফা নামল ২৯ কোটিতে ইডেনের ইনডোর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রেন দুর্ঘটনায় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী শোক কসবার ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬, তদন্ত কমিটি শহীদ নুর হোসেনকে নিয়ে রাঙ্গার আপত্তিকর মন্তব্যে প্রতিবাদে ফুসে উঠেছে রংপুরের যুবলীগ

পাথরঘাটা মাদক ব্যবসার হালচাল- পর্ব-১

সাহেদুল ইসলাম সাগরঃ বিভাগীয় ব্যুরো চীফ,চট্টগ্রাম॥
বন্দর নগরী চট্টগ্রামের পাথরঘাটা ফিসারীঘাট এলাকাটি নগরবাসীর কাছে পরিচিত মাছের আড়তের জন্য।মূলতঃ দেশের মাছের চাহিদার সিংহভাগ পূরণে ফিসারীঘাট মূখ্য ভূমিকা পালন করে।চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৩৪ নং ওয়ার্ডটি প্রসিদ্ধ সেন্ট স্কলাসটিকাস গার্লস স্কুল,সেন্ট প্লাসিড স্কুল সহ ক্যাথলিক চার্চের জন্য।নগরীর ঐতিহ্যবাহী কোতোয়ালি থানাও এই ওয়ার্ডের আওতাধীন।এছাড়াও বিভিন্ন মসজিদ,মন্দির,চার্চ ছাড়াও ৩য় কর্ণফুলী সেতুর পশ্চিমে রিং রোড,নদীর পাশ ঘেষে গড়ে উঠা পর্যটন স্পটসহ সব মিলিয়ে নগরবাসীর নিকট এই এলাকাটি অতি গুরুত্বপূর্ণ।এমন গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকা আজ ভয়াবহ মাদকের হিংস্র থাবায় জর্জরিত।চট্টগ্রাম মহানগরীর সবচেয়ে নিরাপদ ও জমকালো মাদকের স্পট হিসেবেই আজ নগরবাসীর কাছে পরিচিত।চোলাই মদ,ইয়াবা,গাজা,ফেন্সিডিল সহ সব ধরনের মাদক এখানে হাত বাড়ালেই পাওয়া যায়।জনসম্মুখেই দিন রাত ২৪ ঘন্টা মাদকের ছড়াছড়ি চলছেই।বয়ষ্কদের পাশাপাশি আজ স্কুল-কলেজগামী ছাত্র-ছাত্রীরাও মাদকের আসক্তিতে নিজেকে সম্পৃক্ত করে ফেলছে অনেকটা নিজের অজান্তেই।যুব সমাজ ধীরে ধীরে ধ্বংসের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।সমাজপতিরাও এই ব্যাপারে অনেকটা নিশ্চুপ।বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা নিজেদের সুবিধার্থে উল্টো এসব মাদক ব্যবসায়ীদের আশ্রয়দাতা হিসেবে পরিগণিত হয়েছে।ফিসারীঘাটের মাদক ব্যবসার নেপথ্যে সবচেয়ে মূখ্য ভূমিকা পালন করেছে অনুপ বিশ্বাস নামক এক মাদক ব্যবসায়ী।ফিসারীঘাটের মাছের আড়তের পশ্চিমে উক্ত অনুপ বিশ্বাসের ৪ তলা বিল্ডিংয়ে ২য় ও ৩য় তলায় একটি মদের বার খুলেছে ওই মাদক ব্যবসায়ী।জনসমাজে রটিয়ে দিয়েছে সে,ওই মদের বারের লাইসেন্স রয়েছে তার কাছে।যা মাদকদ্রব্য অধিদপ্তর হতে সে পেয়েছে।কিন্ত,প্রকৃত অর্থে যে স্থানে বর্তমানে সে মদের বারটি খুলেছে,মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর উক্ত স্থানে মদের বারের লাইসেন্স তাকে দেওয়া হয়নি।ফিরিঙ্গিবাজার এলাকায় তার আরেকটি বিল্ডিংয়ে সে ওই মদের বার খোলার লাইসেন্স পেয়ে থাকলে ওই এলাকার সাধারণ মানুষজন নিজেরা একতাবদ্ধ হয়ে ওই মদের বারটি চালু করতে দেয়নি।শেষমেষ আর উপায়ন্তর না পেয়ে সে ফিসারীঘাটের মাছের আড়তের পশ্চিমে তার মদের বারটি চালু করেছে।মদের বারটির নিচে রয়েছে মদের গোডাউন। যেখান থেকে মধ্যরাতে বিভিন্ন গাড়ীতে করে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মদ সরবরাহ করা হয়।উক্ত ভূয়া লাইসেন্স দিয়ে মদের বার খুলেই ক্লান্ত হননি উক্ত মাদক ব্যবসায়ী অনুপ বিশ্বাস,তার পাশের বিল্ডিংয়ে ইয়াবা সম্রাট সাগর দাশ ও তার ভাই সবুজ দাশকেও মদের বার ও প্রকাশ্যে ইয়াবা,ফেন্সিডিল বিক্রির জন্য সুযোগ করে দিয়েছে।উক্ত মদের বারটির পাশেই রয়েছে ফিসারীঘাটের ঐতিহ্যবাহী মসজিদ ও কয়েকটি স্কুল।মাদকের আখড়ায় হর-হামেশা হৈ-হুল্লোড় ও মাতলামির দরুন মসজিদে মুসল্লীদের যেতে নানাবিধ অসুবিধা ও কোমলমতি স্কুল শিক্ষার্থীদের তাদের স্কুলে যেতে নানারকম ভোগান্তি পোহাতে হয়।এসব নিয়ে এলাকার মসজিদ কমিটি,বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষক ও ছাত্ররা এবং উক্ত এলাকার সাধারণ মানুষজন এই মদের বার ( ভুঁয়া লাইসেন্স ধারী) ও এলাকার এহেন ভয়াবহ মাদকাসক্তির ব্যাপারে বহুবার আপত্তি তুলে বিভিন্ন মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে।প্রশাসনের বিভিন্ন উচ্চ পর্যায়ে বহুবার স্মারকলিপি প্রদান করেছে।চট্টগ্রামের সন্তান শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার নওফেল এর কাছে গিয়ে নালিশ দিয়েছে।কিন্ত,সব কিছুই লাল ফিতার ফাইলে আটকা পড়ে আছে।স্থানীয় কোতোয়ালি থানার একাধিক কর্মকর্তা ওইসব লাইসেন্স বিহীন মদের বার হতে নিয়মিত চাঁদা গ্রহণ করছে বলেও জানিয়েছে এলাকাবাসী।তাদের অভিযোগ,এমন প্রকাশ্যে মাদকের রমরমা ব্যবসা পুলিশ চাইলে যে কোন মুহূর্তে বন্ধ করে দিতে পারে,কিন্ত মাসিক চাঁদা হারানোর ভয়ে তারা তা দেখেও না দেখার ভান করে আছে।মাদক ব্যবসায়ী অনুপ বিশ্বাস তার মাদক ব্যবসার পাশাপাশি অনেকটা কৌশলে নিজেকে আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িয়ে সিটি কর্পোরেশন এর নির্বাচনে কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হিসেবেও প্রতিদন্ধিতা করেন।মাদক ব্যবসায় নেপথ্যের মূল কারিগর অনুপ বিশ্বাস,ইয়াবা সম্রাট সাগর দাশ ও তার ভাই সবুজ দাশ সহ এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ অতীব জরুরী হয়ে পড়েছে বলে মনে করেন এলাকার আপামর জনসাধারণ।প্রশাসনের নীরব ভূমিকায় তারা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে একাধিকবার প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানব বন্ধন করেন।কিন্ত,তাতেও টনক নড়েনি স্থানীয় কোতোয়ালি থানাসহ মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কিংবা প্রশাসনের অন্য কোন সংস্থার।তাই এলাকাবাসী এই ব্যাপারে বঙ্গবন্ধু কন্যা ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করেন এবং অতি শীঘ্রই এই মাদক ব্যবসা নির্মূলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্য্যালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইজিপির বরাবরে মাদক ব্যবসার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য,ভিডিও ডকুমেন্ট সরবরাহ করে মাদকের ভয়াবহ হিংস্র থাবা হইতে পাথরঘাটার ফিসারীঘাট এলাকাকে রক্ষার্থে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করবেন

Print Friendly, PDF & Email

Please Share This Post in Your Social Media


কপিরাইটঃ ২০১৬ দৈনিক অন্যদিগন্ত এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Design & Developed BY Seskhobor.Com
Shares
CrestaProject