ঈদের আগে মসলার বাজারও গরম | অন্যদিগন্ত

বুধবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ০৫:৩২ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ

ঈদের আগে মসলার বাজারও গরম

অন্যদিগন্ত প্রতিবেদক ॥

প্রতিবছর ঈদ এলে বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ে। তবে এবার এখনও সেভাবে নিত্যপণ্যের দাম বাড়েনি। কারণ ব্যবসায়ীরা উৎসবের ২০-২৫ দিন আগে পণ্যের দাম অল্প অল্প করে বাড়িয়ে রেখেছেন।

নিত্যপণ্যের দাম না বাড়লেও গরম মসলার বাজার গরম। এ পণ্য আমদানিনির্ভর বলে কেউ সেভাবে এর দাম নিয়ে মাথাও ঘামায় না। ব্যবসায়ী, ক্রেতা ও বিক্রেতারা এ তথ্য জানিয়েছেন। জানা গেছে, ঈদ আসার বেশ আগে থেকেই গরম হয়ে আছে গরম মসলার বাজার। কোরবানির সময় চাহিদা বেশি থাকার সুযোগকে কাজে লাগান ব্যবসায়ীরা।

এবার রোজার ঈদের পরই গরম মসলার দাম বাড়িয়েছেন তারা। কারণ ওই সময়ে সরকারি বা বেসরকারি কোনও সংস্থার কিংবা গণমাধ্যমের নজরদারি থাকে না। এই সুযোগটি নিয়েছেন মসলা ব্যবসায়ীরা।

রাজধানীর চকবাজার, কাওরান বাজার ও খুচরা বাজার সুত্রে জানা গেছে, রোজার ঈদের সময় প্রতিকেজি এলাচ বিক্রি হয়েছে ১৮৫০ টাকা দরে। সেই এলাচের দাম ঈদের পর তিন দফায় বেড়ে বর্তমানে ২৭৫০ টাকায় এসে দাঁড়িয়েছে।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, গত ১৫ দিন এলাচের দাম বাড়েনি। কোরবানির সময় আর বাড়বেও না। ব্যবসায়ীরা তাদের মতো করে প্রতি কেজিতে ৯০০ টাকা বাড়িয়েছেন।

ব্যবসায়ীরা জানান, ভালো মানের জাম্বু (বড় দানা) সাইজের এলাচ বর্তমানে পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২৫৫০ টাকা কেজিদরে। খুচরা বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ২৭৫০ টাকা কেজি দরে।

এই এলাচই রোজার ঈদের সময় বিক্রি হয়েছে ১৮৫০ টাকা কেজি দরে। মাঝারি সাইজের দানা সম্বলিত এলাচ বর্তমান বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২৩০০ টাকা কেজিদরে। খুচরা বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ২৪০০ টাকা কেজিদরে।

এ প্রসঙ্গে কাওরান বাজারের কিচেন মার্কেটের ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা এখন আর ১০০ টাকার থোক গরম মসলা বেচি না, পরিমাণে বেচি। প্রয়োজন হলে ২৫ গ্রাম ওজনে বেচবো, তবুও থোক মসলা বেচি না।

কারণ এতে পরিমাণ কম দেখায় বলে ক্রেতা অসন্তুষ্ট হয়। গরম মসলার প্রতিটি আইটেমের দাম আমদানিকারকরা এমনভাবে বাড়িয়েছেন তাতে হাতের আন্দাজ বা অনুমান ঠিক রাখা কঠিন। এতে আমাদের লোকসান হয়।

তিনি বলেন, গরম মসলার দাম বাড়ানোর কোনও যৌক্তিক কারণ নাই। তারপরেও বেড়েছে। উৎসবকে কেন্দ্র করে পণ্যের দাম বাড়ালে ব্যবসায়ী ও সরকারের বদনাম হয়। তাই নিরিবিলি এক সময় সুযোগমতো দাম বাড়িয়ে বসে থাকলে সবাই ভালো থাকে।’

গরম মসলা ছাড়াও আদা, রসুন, জিরা, লবঙ্গ, আলু বোখারা, গোল মরিচ এবং কিসমিসের বাজারেও একই অবস্থা। বর্তমানে পাইকারি বাজারে পাটনার জিরা (ভালোমানের) বিক্রি হচ্ছে ৩০৮ টাক কেজিদরে। যা খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকা কেজিদরে।

লবঙ্গ পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৮২০ টাকা কেজিদরে। আর খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার টাকা কেজিদরে। আলু বোখারা পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২৮০ টাকা কেজিদরে, যা খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকাদরে।

গোলমরিচ প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকা দরে, যা খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৬০০ টাকা দরে। পাইকারি বাজারে কিসমিস বিক্রি হচ্ছে ২৮০ টাকা কেজিদরে, যা খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৩৬০ টাকা কেজিদরে।

এ প্রসঙ্গে চকবাজারের গরম মসলার আমদানিকারক আবুল বাশার বলেন, বেশি দামে আমদানি করতে হয়েছে বলে দাম বেড়েছে গরম মসলার প্রতিটি আইটেমের। আমরা যেমন দামে কিনি তেমন দামেই বিক্রি করি। বাইরের বাজারে তো আর আমাদের হাত নাই।

গরম মসলার দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মফিজুল ইসলাম বলেন, মসলার আইটেমগুলো আমদানিনির্ভর। ওইসব পণ্যের আমদানি মূল্য যদি বাড়ে, তাহলে পণ্যের দাম বাড়বে এটি স্বাভাবিক।

তবে আন্তর্জাতিক বাজারে যদি গরম মসলার মূল্য না বাড়ে, দেশীয় বাজারে সিন্ডিকেট করে যদি কেউ বাড়তি দাম রাখে, তবে অবশ্যই সে অপরাধী। এক্ষেত্রে সরকার কর্তব্য পালনে পিছপা হবে না।

তিনি আরও বলেন, বাজারে সব ধরনের পণ্যের দাম যাতে কোরবানি উপলক্ষে না বাড়ে সেদিকে মন্ত্রণালয়ের নজর রয়েছে। যদি কারসাজির বিষয়টি ধরা পড়ে, তবে অবশ্যই তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।

Print Friendly, PDF & Email

Please Share This Post in Your Social Media


কপিরাইটঃ ২০১৬ দৈনিক অন্যদিগন্ত এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Design & Developed BY Seskhobor.Com
Shares
CrestaProject