ওসিসহ পাঁচ পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা | অন্যদিগন্ত

মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, ০২:২০ অপরাহ্ন

ওসিসহ পাঁচ পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা

অন্যদিগন্ত ডেস্ক ॥

খুলনা জিআরপি থানা হাজতে গণ ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার ছয় দিন পর মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে শুক্রবার জিআরপি থানায় দায়ের করা হয় মামলাটি। ভিকটিম নিজেই বাদী হয়ে ওসিসহ পাঁচ পুলিশ সদস্যকে আসামি করে মামলা করেছেন।

পাকশি থেকে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান ফিরোজ আহমেদ এ মামলার বিষয়টি নিশ্চিত কর বলেন, আদালতের নির্দেশে এবং জেল গেট থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।

মামলায় জিআরপি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি), ঘটনার রাতের ডিউটি অফিসার এবং অজ্ঞাত আরও তিন পুলিশকে আসামি করা হয়েছে। এ মামলার তদন্তকারী অফিসার পাকশি এসপি অফিস থেকে নির্ধারণ করা হবে।

তিনি জানান, নির্যাতন হেফাজতে মৃত্যু নিবারণ আইন ২০১৩ এর ১৫ ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং ৩, তারিখ ০৯.০৮.১৯. খুলনা জিআরপি থানা।

উল্লেখ্য, গত ২ আগস্ট যশোর থেকে ট্রেনে খুলনায় আসার পথে খুলনা রেলস্টেশনে কর্তব্যরত জিআরপি পুলিশের সদস্যরা ওই গৃবধূকে মোবাইল চুরির অভিযোগে আটক করে।

পরদিন শনিবার তাকে পাঁচ বোতল ফেনসিডিলসহ একটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে খুলনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত ফুলতলায় পাঠানো হয়। ৪ আগস্ট আদালতে জামিন শুনানিকালে বিচারককে ওই নারী জানান, জিআরপি থানায় নির্যাতন ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন তিনি।

থানা হাজতে ওসি উছমান গণি পাঠানসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য তাকে ধর্ষণ করে। এরপর আদালতের নির্দেশে সোমবার (৫ আগস্ট) তার ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। এ ঘটনায় পাকশী রেলওয়ে জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের নির্দেশে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটির প্রধান হলেন কুষ্টিয়া রেলওয়ে সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার ফিরোজ আহমেদ এবং সদস্যরা হলেন কুষ্টিয়া রেলওয়ে সার্কেলের ডিআইও-১ পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) শ ম কামাল হোসেইন ও দর্শনা রেলওয়ে ইমিগ্রেশন ক্যাম্পের পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. বাহারুল ইসলাম।

এ তদন্ত কমিটি গত মঙ্গলবার তদন্ত শুরু করে এবং ৮ আগস্ট জেল গেটে ভিকটিমের জবানবন্দি গ্রহণ করে।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উছমান গণি পাঠান ও এসআই নাজমুল হককে বুধবার (৭ আগস্ট) জিআরপি থানা থেকে ক্লোজ করে পাকশি জেলা রেলওয়ে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।

তদন্ত কমিটির প্রধান সহকারী পুলিশ সুপার ফিরোজ আহমেদ বলেন, তদন্তকালে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের কারণে পুলিশ বাহিনীর সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়া এবং তাদের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা ও গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেছে।

Print Friendly, PDF & Email

Please Share This Post in Your Social Media


কপিরাইটঃ ২০১৬ দৈনিক অন্যদিগন্ত এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Design & Developed BY Seskhobor.Com
Shares
CrestaProject