সব অনিয়মে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংশ্লিষ্টতা | অন্যদিগন্ত

রবিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০২:১৬ অপরাহ্ন

সব অনিয়মে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংশ্লিষ্টতা

রিমি সরদার॥
আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, দেশে সব অনিয়মের সঙ্গে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে হিউম্যান রাইটস ফোরাম বাংলাদেশ (এইচআরএফবি) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘বলতে দ্বিধা নেই যে, এমন কোনো অপরাধ নেই যার সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া যায় না। আইনের রক্ষকরাই এর ভক্ষক হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে এমন পরিস্থিতি বিরাজ করছে দেশে।তবে তাই বলে পুলিশ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মধ্যে সৎ কর্মকর্তার অভাব নেইও বলে মন্তব্য করেন তিনি।তিনি যোগ করেন, ‘এ কথা আমরা কখনোই বলি না যে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মধ্যে সৎ কর্মকর্তা নেই। অনেকেই আছেন যারা ইতিমধ্যে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে পুরস্কৃত হচ্ছেন।’
এ ধারা অব্যাহত থাকলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নাম পরিবর্তন করে আইন লঙ্ঘনকারী সংস্থা করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।তবে আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের অনেকেই আইন ভঙ্গ করে নানা অপরাধে জড়িত হচ্ছেন বলে রিপোর্ট পাচ্ছি আমরা।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘আমরা দেখছি, সব ধরনের অনিয়মের সঙ্গে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কোনো না কোনোভাবে যোগাযোগ এবং সংশ্লিষ্টতা, যোগসাজশ, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। কার্যকরভাবে বিষয়টি প্রতিহত না করা হলে আমরা আশঙ্কা করছি যে, একটা সময় চলে আসবে তখন সংস্থাটির নামটা পরিবর্তন করতে হবে।তবে সেই অবস্থা দেখতে চান না জানিয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘আমরা চাই, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কোনো কর্মকর্তা অপরাধে যুক্ত রয়েছেন প্রমাণ মিললে তার বস্তুনিষ্ঠ তদন্ত করে শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।কিন্তু সে তদন্তে ঘাটতি আছে জানিয়ে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘আমরা দেখি বিভাগীয় তদন্ত হয়। তাতে সর্বোচ্চ যে সাজা দেয়া হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ক্লোজড করা হয় অথবা বদলি করা হয়। বড়জোর রিটায়ার্ড করে দেয়া হয়।’ -এমন শাস্তিতে অভিযুক্তকে পুরস্কৃত করা হয় বলে মনে করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘এমন বিচারে তো সমাধান হল না। সমাধানের জন্য বিচার বিভাগীয় তদন্ত হতে হবে।জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী কমিটির সুপারিশের কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিতের দাবিতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) নির্বাহী সদস্য আইনজীবী জেড আই খান পান্নার সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহিনা হক, নাগরিক উদ্যোগের নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন, এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামছুল হুদা, হিউম্যান রাইটস ফোরাম বাংলাদেশের সমন্বয়ক তামান্না হক রিতি প্রমুখ।

Please Share This Post in Your Social Media


কপিরাইটঃ ২০১৬ দৈনিক অন্যদিগন্ত এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Design & Developed BY Seskhobor.Com
Shares
CrestaProject