স্ত্রী হত্যার অভিযােগে পুলিশ কনস্টেবল | অন্যদিগন্ত

বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯, ০৪:৫৬ অপরাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ
প্রকৃ‌তিক দূ‌র্যো‌গে নয়, সরকারী ঘু‌র্ণিঝ‌রে নি‌শ্চিন্ন দিনাজপু‌রের বিরামপুর লালমনিরহাটে ৪০১ বোতল ফেন্সিডিল আটক,পলাতক মুলহোতা ফারুক একই উপ‌জেলায় ২ জন ইউ‌পি চেয়ারম্যান,একজন স্বর্ন পদক অন্য জন মহাত্নাগান্ধী পদক, তবুও অন্যায় কেন ? বড় ভাই প্রধানমন্ত্রী, ছোট ভাই প্রেসিডেন্ট শিখা অনির্বাণে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা পরিবহন ধর্মঘট স্থগিত, যান চলাচল শুরু দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় রাজধানী মার্কেটের আগুন নিয়ন্ত্রণে নতুন সড়ক পরিবহন আইন বাতিলের দাবিতে চলছে পরিবহন শ্রমিকদের ধর্মঘট লবণের দাম বৃদ্ধি!গুজবে আটক ১৩৩। গুজবে কান না দেওয়ার জন্য আহবান মন্ত্রণালয়ের চাল ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে যা বললেন খাদ্যমন্ত্রী 

স্ত্রী হত্যার অভিযােগে পুলিশ কনস্টেবল

অন্যদিগন্ত প্রতিনিধি ॥

ভোলা সদরের এক গৃহবধূ ২ সন্তানের জননীকে তার স্বামী পুলিশের এক কনস্টেবল হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ধামা চাপা দিয়ে ৫ লাখ টাকা ও সম্পত্তির বিনিময় শালিশ করে নিহতের ময়নাতদন্ত ছাড়াই আজ শনিবার সকালে তরিগরি করে লাশ দাফন করা হয়েছে। তবে নিহতের স্বামীর দাবী তার স্ত্রী নিজেই পেটে ছুরিকাঘাতে মারা যায়। প্রশ্ন উঠেছে, যদি আত্মহত্যা র ঘটনা ঘটলেও কেন ময়নাতদন্ত হলো না এবং কেন শালিশ করে ৫ লাখ টাকা দেয়া হবে মর্মে চুক্তি হয়।

স্থানীয়রা জানান, ভোলা সদর উপজেলার ইলিাশা ইউনিয়নের সরদার বাড়ির নাছির হাওলাদারের কন্যা জেসমিনের সাথে প্রায় ১২ বছর আগে ভোলা ইলিশা বিশ্ব রোড এলাকার পুলিশের কনষ্টবল মো: মাকসুদের সাথে বিয়ে হয়। তাদের ২ সন্তান রয়েছে। নিহতের স্বামী ঢাকায় পুলিশের কনষ্টবল হিসাবে কর্মরত।

গত ১৮ তারিখ রাতে জেসমিন (২৫) ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়। তার পর তাকে ঢাকার দুটি হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার তার মৃত্যু হয়। অভিযোগ রয়েছে, স্বামীর সাথে পরনারীর কথাবলা ও ঘরে আসা যাওয়া নিয়ে দাম্পত্ত কলহ হয়। তার জের ধরে পেটে ছুরি দিয়ে হত্যা করা হয়। ভোলা ইলিশা ইউনিয়নের মানিক বাঘা জানান, নিহত জেসমিনের পরিবারে পক্ষ অভিযোগ করেন জেসমিনকে মারা হয়েছে আর ছেলে পক্ষ বলেন, জেসমিনের স্ত্রী নিজেই পেটে ছুড়ি দেয়। এ নিয়ে শালিশ হয়। তাতে সিদ্বান্ত হয় নিহত জেসমিনের ২ সন্তানের নামে ৫ লাখ টাকা ডিপোজিট করা হবে। এছাড়াও ওই পুলিশের যে জমি রয়েছে তা অর্ধেক লিখে দিবে। মেয়ে পক্ষে হক ও ভাই সালাউদ্দিন এবং ছেলে পক্ষের চাচা উপস্থিত ছিলেন। মানিক বাঘা আরো জানান, লিখিত চুক্তি নামা ষ্ট্যাম্পে উল্লেখ্য করা হয় জেসমিন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে গেলে তারা মৃত্যু হয়। ওই ষ্ট্যাম্প তার কাছে রয়েছে বলেও তিনি স্বীকার করেন।

অপরদিকে সমঝোতার পরে আজ শনিবার ভোলায় মেয়ের বাড়ির কাছে ইলিশায় তাকে দাফন করা হয়। এ ব্যাপারে নিহতের পরিবারের সদস্যরা রহস্যজনক কারনে মুখ খুলতে নারাজ। নিহতের ২ ভাই নাজিম ও সালাউদ্দিন এড়িয়ে যান। তবে নাম প্রকাশে এলাকার অনেকেই এই হত্যাকেন্ডর প্রতিবাদ জানান। বাড়ির বহু নারী পুরুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তবে নিহতের স্বামী বলেন, তার স্ত্রী ভাইদের চেয়েও জেসমিন খুব উশৃংখল ছিলো। তার স্ত্রী গত ৪ বছর দুপুরের রান্না করে দিতো। ঘটনার দিন রাতের রান্নাও তার ভাইয়ের বউ লুৎফা করেন। তার স্ত্রীর ভাইয়ের বউকে নিয়ে আমাকে সন্দেহ করতো। তিনি স্ত্রীকে হত্যা করেনি বলে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, গত ১৮ আগষ্ট রাত ১০ টার দিকে তার স্ত্রী নিজেই ছুরি দিয়ে পেটে আঘাত করে। তাকে দ্রুত প্রথমে মুগদা হাসপাতালে নেয়া হয়। তার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিওতে ছিলো। শুক্রবার হাসপাতালে মারা যায়। এদিকে খবর পেয়ে সকলে পুলিশ ঘটনা স্থলে গেলেও এ রির্পাট লেখা পর্যন্ত কাউকে আটক করেনি। তবে ভোলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাফিন মাহামুদ জানান, ঘটনাটি ঘটেছে ৪/৫ দিন আগে ঢাকার মুগদা এলাকায়। এখানে কিছুই নাই। তদন্ত সব ঢাকায় হবে। যদি অভিযোগ হয় ঢাকায় হবে। তবে এ ব্যাপারে ভোলা নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইবুনাল আদালতের পিপি এ্যাডভোকেট গোলাম মোর্শেদ কিরন তালুকদার জানান, ভোলার পুলিশ এ ঘটনা জেনে থাকলে আইনগত ভাবে ব্যবস্থা নিতে পারে।

Print Friendly, PDF & Email

Please Share This Post in Your Social Media


কপিরাইটঃ ২০১৬ দৈনিক অন্যদিগন্ত এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Design & Developed BY Seskhobor.Com
Shares
CrestaProject