হাটহাজারীতে প্রশাসনের নাকের ডগায় মাদকের আখড়া | অন্যদিগন্ত

বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৮:৫৩ পূর্বাহ্ন

হাটহাজারীতে প্রশাসনের নাকের ডগায় মাদকের আখড়া

মাহমুদ আল আজাদ, হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি ॥

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে মাদক বিক্রির অভয়রণ্য হিসেবে পরিচিত আব্বাছিয়ার পুল এলাকা। দীর্ঘ এক যুগেরও বেশী সময় এই এলাকাতে মাদকের রাজ্যে পরিনত করেছে বিজলী(৪৫) নামের এক মহিলা।

পৌরসভার আব্বাছিয়ার পুল এলাকার একটি ছড়ার পাশে সরকারী খাস জায়গা অবৈধ ভাবে দখল করে বসতঘর তৈরী করে। সেখান থেকে দেশীয় চোলাই মদ, গাঁজা, ইয়াবার মত মরণব্যাধি ট্যাবলেট বিক্রয় করে।অথচ স্থানীয় প্রশাসনের নাকের ডগায় বিজলী নামের এই মহিলা মাদক বিক্রয় করলেও তাদের নজরে পড়েনা। যুুব সমাজকে ধ্বংসের পথে ঠেঁলে দিচ্ছে এই মহিলা। স্থানীয়দের অভিযোগ থানার কিছু সোর্স তার কাছ থেকে মাসোহারাও নেয়।

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা বলে জানা যায়, বিজলী দুই মেয়ে নিয়ে দখলকৃত জায়গাতে বসবাস করে। প্রতিদিন সন্ধ্যা হওয়া মাত্র মাদক ক্রয়কৃত ব্যক্তিরা বিভিন্ন ছদ্ম বেশে আসে। তবে ঘরের মধ্যে এসব মাদক রাখেনা। বিজলীর মেয়েদের মাধ্যমে ঐই ব্যক্তিদের কাছে মাদক পৌছায় বিভিন্ন কৌশলে যেন কেউ বুঝতে না পারে। বিজলীর রয়েছে মাদক বিক্রয়ের বড় একটি সিন্টিকেট।যার কারনে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে এ অপরাধ মুলক কাজ করতে পারে।
গত কয়েকদিন আগেও মাদবদ্রব্য অফিসের কর্মকর্তারা রাতে তল্লাশী করার সময় বাকবিতন্ডা সৃষ্টি হয়। কিন্তু কোন কিছু পাইনি।কেননা এখানে কিছুই রাখেনা। শুধু টাকা লেনদেন হয় ওই ঘরে।

এদিকে গত কিছুদিন আগেও রাত আটটার দিকে গাজাঁ ক্রয় করতে আসা এক ব্যক্তিকে গাজাঁর পুরিয়া সহ আটক করে স্থানীয় জনগন।এমন সময় বিজলীর মেয়ে কৌশলে সটকে পড়ে।সে তখন সবার কাছে বিজলী থেকে গাঁজার পুরিয়া কিনেছে বলে স্বীকার করেন।পরে কান ধরিয়ে ছেড়ে দেয় তাকে। জনগনের দাবী বিজলীর নিজের বসতঘর থাকার পরেও সরকারী জায়গা দখল করে সড়কের পাশে থাকে। সেখান থেকে ওই মহিলা মাদক বিক্রয় করে তার মেয়েদের দিয়ে। জড়িত আছে লাকি নামের আরেক মহিলাও। লাকি মাদক সম্রাট বলেও পরিচিত। স্থানীয়দের অভিযোগ পুলিশ মাঝে মধ্যে অভিযানে আসলে সড়কে সাধারন লোকদের তল্লাশী করে। কিন্তু আসল মাদক বিক্রেতার ধরতে পারেনা।তাই প্রশাসনের কাছে জোর দাবি বিজলীর অবৈধ দখলকৃত জায়গাটি উচ্ছেদ করলে মাদকের আঁকখা বন্ধ হবে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, মাদকের টাকা আগে ওই ঘরে দিতে হয়। কিছুক্ষণ পরে কোন এক স্থান থেকে মাদক এনে দেয়। তার এই কৌশলের জন্য ধরা পড়েনা। কিন্তু পুলিশ প্রশাসনও জানে বিজলী একজন মাদক বিক্রেতা।

বিজলী নিয়মিত বিভিন্ন এলাকাতেও মাদক পাচার করে তার মেয়েদের দিয়ে। বিভিন্ন সময় আইন শৃংখলা বাহিনী তল্লাশী করলেও ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকে সে। তার অভিনব পদ্ধতিতে জমজমাট মাদক ব্যবসা দীর্ঘ দেড় যুগের বেশী পার হচ্ছে বলেও স্থানীয় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক ব্যক্তিরা জানান। স্থানীয় প্রশাসনের কাছে দাবি জানান তার দখলকৃত জায়গা থেকে উচ্ছেদ করে মাদকমুক্ত পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে।

হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মাসুম জানান, বিষয়টি আমাদের জানা ছিলনা। অতি দ্রুত মাদকের আকড়া উচ্ছেদ করে বিক্রেতাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media


কপিরাইটঃ ২০১৬ দৈনিক অন্যদিগন্ত এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Design & Developed BY Seskhobor.Com