তিন দফা দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো অবরোধ চলছে জাবিতে | অন্যদিগন্ত

বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৮:৪৯ পূর্বাহ্ন

তিন দফা দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো অবরোধ চলছে জাবিতে

অন্যদিগন্ত প্রতিনিধি ॥

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ১ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকার অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগের বিচার বিভাগীয় তদন্তসহ তিন দফা দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন অবরোধ করছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের এক পক্ষ। বুধবার ( ৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টায় ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ এর ব্যানারে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ও পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে অবরোধ শুরু করেন তারা। টানা দ্বিতীয় দিনের অবরোধে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা চলছে।

এদিকে চলমান সঙ্কট নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিরা দুই দফা এসে আন্দোলনরতদের সঙ্গে কথা বলেন। কিন্তু একমত না হওয়ায় ফিরে যান তারা।
বুধবার সকাল সোয়া নয়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. আমির হোসেন ও উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) মো. নূরুল আলম আন্দোলনরতদের সঙ্গে কথা বলতে আসেন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থী জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি আশিকুর রহমান বলেন, ‘তারা অফিসিয়ালি আলোচনায় বসার কোনও প্রস্তাব দেননি। আমাদের সুস্পষ্ট তিন দফা দাবির ব্যাপারে তাদের পর্যবেক্ষণ কী, তা জানিয়ে আলোচনায় বসতে হবে।

পরে সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ শেখ মো. মনজুরুল হক ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা আন্দোলনরতদের সঙ্গে কথা বলে আসেন। সেখানে আন্দোলনরতদের নানা প্রশ্নের মুখে পড়েন তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ.স.ম ফিরোজ-উল-হাসান বলেন, ‘চলমান সঙ্কট আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হতে পারে। উপাচার্য মহোদয়ও আলোচনায় বসতে চান। আন্দোলনরতদের আলোচনায় বসার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারা শর্তসাপেক্ষে আলোচনায় বসতে চান। আগেই শর্ত দিলে তো আলোচনায় বসার দরকার নেই।

আন্দোলনরত শিক্ষক পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. জামাল উদ্দিন বলেন, এর আগেও নানা সময় আলোচনায় বসা হয়েছে। তারা যদি আলোচনার আগেই সিদ্ধান্ত ঠিক করে ফেলেন তবে সে আলোচনার কোনও দাম নেই। এরকম আলোচনায় আমাদের আস্থা নেই। আলোচনায় বসতে হলে আন্তরিকতা থাকতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়নের জন্য গত বছরের ২৩ অক্টোবর ১ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকা অনুমোদন দেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (একনেক)। এই প্রকল্পের প্রথম ধাপে ছয়টি আবাসিক হল নির্মাণের জন্য গত ১ মে টেন্ডার আহ্বান করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। হলগুলো নির্মাণে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় প্রায় ৪০০ কোটি টাকা।

সম্প্রতি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, নির্মাণকাজ বাধাহীনভাবে সম্পন্ন করতে গত ৯ আগস্ট উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম ও তার পরিবারের নেতৃত্বে শাখা ছাত্রলীগ ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগকে দুই কোটি টাকা বাটোয়ারা করে দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ২৩ মে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে টেন্ডার শিডিউল ছিনতাইয়ের অভিযোগ ওঠে শাখা ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে।

এছাড়া নির্মিতব্য হলগুলোর জন্য নির্বাচিত স্থানগুলোতে ১১শ’র অধিক গাছ কাটার জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। যার মধ্যে অর্ধেকের বেশি গাছ কাটা পড়েছে।
আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দাবি, প্রকল্প বাস্তবায়নে যে মাস্টারপ্ল্যান অনুসরণ করা হচ্ছে তা অপরিকল্পিত-অস্বচ্ছ।

প্রকল্পে দুর্নীতির বিচার বিভাগীয় তদন্ত, তিনটি ছাত্র হলের বিকল্প স্থান নির্বাচন এবং অস্বচ্ছতা দূর করে বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবিতে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’এর ব্যানারে আন্দোলন করছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একটি পক্ষ।

Please Share This Post in Your Social Media


কপিরাইটঃ ২০১৬ দৈনিক অন্যদিগন্ত এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Design & Developed BY Seskhobor.Com
Shares
CrestaProject