ব্রাহ্মণবাড়ীয়া'র নবীনগরে মৃত ব্যাক্তিকে জীবিত দেখিয়ে পিবিআই ইন্সপেক্টরের ভুতুরে চার্জশীট! | অন্যদিগন্ত

বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৯:৫৩ পূর্বাহ্ন

ব্রাহ্মণবাড়ীয়া’র নবীনগরে মৃত ব্যাক্তিকে জীবিত দেখিয়ে পিবিআই ইন্সপেক্টরের ভুতুরে চার্জশীট!

বিপ্লব নিয়োগী নবীনগর,ব্রাহ্মণবাড়ীয়া প্রতিনিধি॥
২০ লাখ টাকা ঘুষ চেয়ে না পেয়ে মৃত ব্যক্তি, প্রবাসে থাকা লোককে সাক্ষী করে দেয়া হয়েছে হত্যা মামলার সম্পূরক চার্জশীট। আরো ২৪ জন স্বাক্ষী আদালতে প্রদত্ত হলফনামায় বলেন, ‘তারা কোনো সাক্ষ্য না দিলেও তাদের দেখানো হয় সাক্ষী হিসেবে।’ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশনের (পিবিঅাই) ইন্সপেক্টর মো. হারুনুর রশিদ খানের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর এমনি অভিযোগ মিলেছে। সাংবাদিক সম্মেলন করে এমন অভিযোগ করেন চাঞ্চল্যকর আল আমিন হত্যা মামলার আসামী- সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল হান্নান ভুইয়া। ডিআইজিসহ সকল উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে দেয়ার কথা বলে তার কাছে তদন্তকারী কর্মকর্তা এই টাকা দাবী করেন। এছাড়াও দু’বার ঘুষ বাবদ ৬০ হাজার টাকা প্রদানও করেছেন তিনি।

গতকাল রোববার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জেলার নবীনগর উপজেলার বিদ্যাকুট ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান অাবদুল হান্নান ভুইয়া জানান, পিবিআই’র তদন্তকারী কর্মকর্তা মোট ৩৯ জনের জবানবন্দী গ্রহণ করেন এর মধ্যে সাবেক চেয়ারম্যান আবদুর রউফ (৭৩) অন্যতম। বিগত ২০১৮ সালের ২ নভেম্বর আবদুর রউফ ইন্তেকাল করলেও সাক্ষী হিসেবে তার জবানবন্দী নেয়ার তারিখ দেখানো হয় ২০১৯ সালের ৩১ জানুয়ারি। অর্থাৎ মৃত্যুর ২ মাস ২৯ দিন পর। মেরাকুটা গ্রামের অজন্ত কুমার ভদ্র’র (৬৬) সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ উল্লেখ করা হয় ২০১৯ সালের ৩১ জানুয়ারি। কিন্তু তিনি বৈধ পাসপোর্টে ৯ জানুয়ারি- ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভারতে অবস্থান করছিলেন। আরো ২৪ জন সাক্ষী আদালতে এফিডেভিট জমা দিয়ে বলেছেন যে, ‘তারা পিবিআই’র ওই কর্মকর্তার কাছে কোনোরকম সাক্ষ্যই দেননি।’

উল্লেখ্য, বিগত ২০১৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি রাতে পার্শ্ববর্তী শিবপুর ইউনিয়নের বাঘাউড়া গ্রামে আল আমিন চৌধুরী (২২) খুন হয়। এ ঘটনায় নিহতের পিতা কসবা উপজেলার খাড়েরা ইউনিয়নের সোনারগাঁও গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বাদী হয়ে নবীনগর থানায় ১০ জনের নামোল্লেখ এবং ২/৩ জনকে অজ্ঞাত দেখিয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় পাশ্ববর্তী সেমন্তঘর গ্রামের আবদুল হান্নান ভূইয়া, তার পুত্র পলাশ (ইফতেখার মাহমুদ) সহ পাঁচজনকে আসামী করা হয়। মামলাটির সর্বশেষ তদন্ত করে পিবিআই। এর আগে প্রথমে সিআইডি ও পরে গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। উভয় তদন্তেই প্রকাশ পায় আবদুল হান্নান ভুইয়ার সাথে আল আমিনের ভগ্নিপতি জাকির হোসেনের জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধ রয়েছে। আবদুল হান্নানকে শায়েস্তা করতে নিজের শ্যালককে হত্যা করে জাকির হোসেন। এরপর আবদুল হান্নান, তার ছেলেসহ ১০ জনকে হত্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়।

সিঅাইডি ও ডিবি পুলিশের দাখিলকৃত ওই দু’টি অভিযোগপত্রে বলা হয়, ঘটনার আগের দিন ১৩ ফেব্রুয়ারি নিহতের স্ত্রী ইতির নানীর বাড়িতে দাওয়াত খেতে যায় আল আমিনের ভগ্নিপতি জাকির, তার সহযোগী শাওন, বিল্লাল ও মোবারক। খাওয়ার পর জাকির তার স্ত্রী ইতিকে ঘুমের ঔষধ মিশ্রিত খাবার দিয়ে আল আমিনকে নিয়ে পাশের বাড়িতে নাছির ফকিরের মাহফিলে চলে যায়। সেখান থেকে ফেরার পথে অাল অামিনকে হত্যা করা হয়। এরপর লাশ গ্রামের একজনের বাড়িতে ফাঁস দিয়ে ঝুলিয়ে রাখে। দীর্ঘ তদন্ত, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং সাক্ষীদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীর প্রেক্ষিতে সিআইডি এবং গোয়েন্দা পুলিশ জাকির হোসেন (৩৮), তার সহযোগী বিল্লাল (৩৭), শাওন ওরফে রানা (৪২), মোবারক মিয়া (৩৬) এই ঘটনায় জড়িত বলে অভিযোগপত্র দেয়। অন্যদিকে পিবিআই এই চারজনকেই নির্দোষ বলে তাদের অভিযোগপত্রে উল্লেখ করে। এমনকি সিআইডি’র তদন্তে ঘটনায় জড়িত বলে যে ছয়জনের নাম প্রকাশ পায় তাদেরকে সাক্ষী বানিয়ে অভিযোগপত্র দেয় পিবিআই।

সাংবাদিক সম্মেলনে পিবিআই কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ খানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এবং ন্যায় বিচার প্রার্থনা করেন নবীনগর উপজেলার বিদ্যাকুট ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়াম্যান আবদুল হান্নান ভুইয়া।

Please Share This Post in Your Social Media


কপিরাইটঃ ২০১৬ দৈনিক অন্যদিগন্ত এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Design & Developed BY Seskhobor.Com
Shares
CrestaProject