হিন্দু সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ পুজা শারদীয় দূর্গাউতসব: শেষ পর্যায়ে গাইবান্ধায় প্রতিমা তৈরির কাজ | অন্যদিগন্ত

বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৯:২৬ পূর্বাহ্ন

হিন্দু সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ পুজা শারদীয় দূর্গাউতসব: শেষ পর্যায়ে গাইবান্ধায় প্রতিমা তৈরির কাজ

সঞ্জয় সাহা, গাইবান্ধা প্রতিনিধি ॥

আর মাত্র ২৪দিন পর শুরু হবে হিন্দু সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ পুজা শারদীয় দূর্গাউতসব । আর তাই প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে জোর গতিতে। প্রতিমা তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন ভাষকর শিল্পীরা। নিখুত হাতের কারুকার্য দিয়ে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তৈরি করছেন প্রতিমা। পূজার দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই যেন ব্যস্ত সময় পার করতে হচ্ছে প্রতিমা তৈরির শিল্পীদেরকে। ইতিমদ্ধ্যে শহরের ব্রীজরোডস্থ শিব মন্দির, দূর্গাবাড়ী, ডেভিড কোম্পানি পাড়া সহ বিভিন্ন মন্দিরে প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ। এখন বাকি শুধু রঙের কাজ।
প্রতিমা তৈরির শিল্পীরা বলছেন ১ মাস ধরে তারা প্রতিমা তৈরির কাজ করবেন। আর কয়েক দিনের মধ্যেই তৈরির কাজ শেষ হবে। তার পর থেকে শুরু হবে রং তুলির কাজ।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দূর্গাপূজা আগামী ৩রা অক্টোবর মহাপঞ্চমী দেবীর বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে। পরের দিন মহাষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হবে পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা। এবার দেবীর আগমন ঘোড়ায়। প্রস্থান হবে দোলনায় চড়ে। ধূপ, কাশা, ঘণ্টা আর ঢাকের তালে তালে শুরু হবে শারদীয় উৎসব। তাই শেষ সময়ে চলছে মা দেবী দূর্গা প্রতিমা তৈরির কাজ। সুন্দর থেকে সুন্দরতর প্রতিমা তৈরি করতে দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন সনাতন সম্প্রদায়ের মৃৎ শিল্পী ও পালেরা।

সরেজমিনে সদরের কয়েকটি পূজা মন্ডপে গিয়ে দেখা গেছে, শিল্পীরা
প্রতিমা তৈরীতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তারা সকাল থেকে শুরু করে রাত পর্যন্ত কাজ করছেন। তাই পর্যাক্রমে দায়িত্ব পালন করে থাকেন তারা। প্রায় এক মাস আগে থেকেই প্রতিমা তৈরীর কাজ শুরু করছে তারা। এখন কোন কোন মন্ডপে চলছে বাঁশ, খড়, কাঠের ওপর মাটি দেয়ার কাজও এগিয়ে চলছে। অাবার কোন কোন মন্দিরে দূর্গা মা এখনো কাঠামে অাসন পায়নি। তবে শুরু হয়েছে বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে প্রতিমা তৈরির কাজ।

টাঙ্গাইল শহরের তরোটি পাড়া থেকে গাইবান্ধা শহরের ব্রীজরোড দূর্গাবাড়ী মন্দিরে প্রতিমা তৈরি করতে অাসা” শিল্পী ঝন্টু পাল” এর সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, ৬ সেট প্রতিমা তৈরির অর্ডার পেয়েছেন। এর মদ্ধ্যে এই মন্দির সহ গাইবান্ধাতেই দুটা। এগুলোর পুজার ৫ দিন অাগে রঙের কাজ শুরু হবে। বাকি ৪ টা টাঙ্গাইলে। সে জন্য তারা যতদ্রুত সম্ভব একটি মন্দিরের প্রতিমা তৈরি করে অন্য মন্দিরে ছুটছেন প্রতিমা তৈরিতে। সে বলে অামি আকৃতি নির্ধারণ করে দেই। তার সাথে ৩ জন রয়েছে সহ- শিল্পী(সহযোগী)। সহযোগীরা পরে সম্পূর্ণ আকৃতি গড়েন। তবে চূড়ান্ত আকৃতি গড়েন তিনি। মূলত তার হাতেই দেবী মূল আকৃতি লাভ করে। তিনি অারো জানান, একসেট প্রতিমা তৈরি করতে তিনি ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা পারিশ্রমিক নেন। তিনি স্বাধীনতার পর থেকেই এ পেশায় জড়িত। আর এ কাজ করেই তিনি পরিবারের মুখে অন্য যোগায়। আবার তার সহ-কর্মী একই টাঙ্গাইলের ভূয়াপুর এলাকার আসন্ন এস,এসসি পরিক্ষার্থী “পলক কুমার পাল” এর সঙ্গে কথা হলে সে জানায়, পড়ালেখার পাশাপাশি সে গত দুবছর হল প্রতিমা তৈরির কাজে নিয়োজিত। সে পারিশ্রমিক হিসেবে মাসে ১৫ হাজার টাকা এ পেশা থেকে অর্জন করেন।

গাইবান্ধার জেলার ৭ টি উপজেলায় এবার কতটি মন্দিরে দূর্গা পুজা অনুষ্ঠিত হবে এ বিষয়ে জেলা পুজা উদযাপন পরিষদ “গাইবান্ধা জেলা শাখার সভাপতি রণজিৎ বকসী সূর্য” এর সাথে মোবাইলে কথা হলে তিনি সঠিক ভাবে বলতে পারেন নি। অাগামী কয়েকদিনের মদ্ধে তা জানাতে পারবেন। তবে বলেছেন গতবারের চেয়ে এবার ২০ থেকে ৪০টি বেশি মন্দির ও পুজা মন্ডবে দূর্গা পুজা অনুষ্ঠিত হবে। (ক্যাপশন : ছবিটি ১০ সেপ্টেম্বর শহরের ব্রীজরোডস্থ দূর্গা বাড়ি মন্দির থেকে তোলা।

Please Share This Post in Your Social Media


কপিরাইটঃ ২০১৬ দৈনিক অন্যদিগন্ত এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Design & Developed BY Seskhobor.Com
Shares
CrestaProject