সত্যিই জিনিয়াস | অন্যদিগন্ত

রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৬:৪৬ পূর্বাহ্ন

সত্যিই জিনিয়াস

॥ মোহাম্মদ মাসুদ ॥

‘আমি আপনার বুকে মাথা রাখবো, আপনাকে আদরে সোহাগে মন ভরে দেবো, আপনার সেবা করবো যত বিপদ হোক না কেন আমি আপনার পাশে থাকবো, আপনি আমার একজন ভালো বন্ধু। আপনার জন্য আমার কষ্ট হয়, মায়া লাগে আমি বুঝাতে পারবো না যে, এ বুকে কত কষ্ট। বুক ছিরে যদি দেখাতে পারতাম, আপনাকে না দেখে থাকতে পারবো না। আমার বিয়ে হয়ে গেলেও আমি আপনার পাশে বন্ধু হয়ে থাকবো সারাটি জীবন’ এই মধুর কথাগুলো অবলিলায় বলছিলো অবনিতা তা আবার সাজিদের বুকে মাথা রেখেই, তখন রাত পেরিয়ে প্রায় ভোর। অবনিতা সেই পল্লী গ্রামের এক অবলা, সহজ সরলা মেয়ে, দুনিয়াটা ভালো করেও দেখেনি। পেটের দায়ে নয় নিজের পায়ে দাঁড়াবে বলে ঢাকাতে আসে, আবার শুরু করে লেখা পড়া, পাশাপাশি সরকারি চাকরির জন্য চেষ্টা করতে থাকে। এদেশে সরকারি চাকরি যেন সোনার হরিণ। পাওয়া কি যায় তা সহজে। এই শহরে কতদিন চলবে বাবা মায়ের টাকায়। মেসে থাকে, মাস গেলেই ৫ হাজার টাকার ধাক্কা সে কারণে একটা ছোট খাটো চাকরি যে তাকে করতেই হবে। এক লোকের মাধ্যমে তার একটা চাকরি হয়ে যায় মাত্র ৭ হাজার টাকা বেতনে, তা আবার একটি প্রতিষ্ঠানের প্রশাসন বিভাগে। হাসি খুশি অবনিতা প্রথম দিনেই মালিকের মন জয় করে নেয়, আর সেই মালিক হলেন সাজিদ। মাস পেরুতে পারেনি অবনিতার ভালোবাসার কাছে নিজেকে সোপর্দ করে। মালিক সাজিদ আদর আর ভালোবাসায় মন জয় করে নেয় অবনিতা। কেন না তার মাঝে ছিলো না কোনো স্বার্থ সে কারণেই আরো ভালো লাগে তাকে। সবাই যে সাজিদকে ঠকিয়েছে, মা-বাবা থেকে শুরু করে এমন কেউ নেই যে, স্বার্থের জন্য সাজিদের কাছে আসেনি। কিন্তু অবনিতা এক ব্যতিক্রম সাজিদের জীবনে। তার কারণে অবনিতাই সাজিদের জীবনে এক আশীর্বাদ। অবনিতাও সব কিছুতে সাজিদের খেয়াল রাখে। আগলে রাখে সবসময়। সাজিদ যে একজন অভাগা মানুষ সব কিছু থেকেও বড় একা- সে কারণে সাজিদ অবনিতার ওপর নির্ভর হয়ে পরে। কিন্তু সেটা যে ক্ষণিকের তা ভুলেও বুঝতে পারেনি সাজিদ, কেন না সে মনপ্রাণ দিয়ে চেয়েছে অবনিতাকে। সাজিদ বিবাহিত একটা সন্তানও রয়েছে তার কিন্তু মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে সে আগেই, তাই অবনিতার আদর মাখা ছোঁয়ায় সে ভুলে যায় তার জীবনের সব দুঃখ কষ্টগুলো সে কারণে অবনিতাকে নিয়ে নতুন করে বাঁচতে চায়। কিন্তু বাঁচতে চাইলেই কি আর বাঁচা যায়। আদরমাখা ভালোবাসা-খেয়াল রাখা সব বিষয়ে কেয়ার সেটাত আর ভালোবাসা নয়, কেন না অবনিতার জীবনে সাজিদ নয় রয়েছে অন্য কেউ আর সে হলো তাকসিন। এক বছর ধরে তাদের সম্পর্ক। আকাশ ভেঙে পরে সাজিদের মাথায়, থমকে দাঁড়ায় সাজিদের জীবন, ছন্নছাড়া জীবন আবার এলোমেলো হয়ে পড়ে। কোনোভাবেই নিজেকে বুঝাতে পারেনি। কেন এমন হলো তার জীবনে ? কেন মানুষগুলো এমন করে সাজিদের সাথে কেন তার মন নিয়ে খেলা করে- কেন কেন এ প্রশ্ন সাজিদের। কিন্তু সব প্রশ্নের উত্তরতো আর হয় না। বিধাতার লীলা-খেলা বোঝা বড় দায়! সাজিদ ছিলো সবার থেকে আলাদা কতই না খেয়াল রাখত অবনিতার, অফিসের সবাই তা বুঝতে পারত সে কারণে সবাই বলত কোনো পুরুষ কি পারে একটা মেয়ের জন্য এমন করতে ? সবাই অবনিতাকে বুঝাতে চেষ্টা করে কিন্তু- কে শুনে কার কথা তাকসিন ছাড়া যে অবনিতা অন্যকিছু ভাবতে পারে না। অবনিতা মনে করেছিলো বড় অফিসের বসরা মনে হয় এমটাই হয়। নারী দেহ নিয়ে স্ফূর্তি করে টিস্যু পেপারের মতো ছুড়ে ফেলে দেয়, কিন্তু সাজিদ এমনটা নয়। অবনিতা তা বুঝে সে জন্য অবনিতার ভাষায় ‘সাজিদ একজন ভালো মানুষ এবং জিনিয়াস।’ সে সবার মতো নয় সে কারণে তাকে সারাটি জীবন বুকে আগলে রাখতে চায় বন্ধু হিসেবে কিন্তু বিয়ে করে নয়। মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে সাজিদ। কোনো কিছুতেই তার মন বসে না অফিসের কাজ কর্ম শেষে সবাই অবনিতাকে দোষ দিতে শুরু করে, একদিন রাত ৯ টায় হঠাৎ অবনিতা অজ্ঞান হয়ে পড়ে যায় অফিসে। ভাগ্য ভালো ২ টা মেয়ে ছাড়া আর কেউ ছিলো না। কী করবে সাজিদ এটা ভেবে পাগলের মতো করতে থাকে, কী করে অবনিতাকে সারিয়ে তোলা যায়- সে সারা শরীরে গরম তৈল মাখতে থাকে। অন্য মেয়েগুলো দেখে হতবাগ, কী করে একটা পুরুষ মানুষ একটা মেয়ের শরীরে এমন করে তৈল মাখতে পারে। আদর করতে পারে- বুকে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে থাকে। তখন অবনিতাও সাজিদকে বুকে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে করতে অবলীলায় এক নিঃশ্বাসে বলতে থাকে সাজিদ আমি আপনাকে ঠকাতে চাইনি। আমি ছলনা করিনি, আমি বেঈমান নই আরো কত কী কী….।
অবনিতার শরীর খারাপ থাকার কারণে এ রাতটা অফিসে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় সেই মেয়েগুলোসহ। সাজিদ ওষুধ খাইয়ে সেবাযতœ করে কিছুটা সুস্থ করে তোলে অবনিতাকে রাত তখন ২ টা। অন্য মেয়েগুলো ঘুমে বিভোর তখনো অবনিতা সাজিদের বুকে মাথা রেখে ঘুমাচ্ছে দুটি দেহ এক হয়ে যায় স্বর্গসুখে ভাসতে থাকে দুজনে। এসময় সাজিদের চোখে পড়লো চাঁদের আলোর মতো অবনিতার বুকের ডান পাশে ও পিঠের বাম পাশে দুটো কালো তিলক। তিলক দুটো যেন তার সৌন্দর্য আরো বৃদ্ধি করেছে। সাজিদ মনে করে এই রাত যদি কখনো শেষ না হতো। অবনিতার ভাষায় বলতে হয় ‘রাত যত গভীর হয় ভোর তত নিকটে।’ কিন্তু এত ভালোবাসে সাজিদ অবনিতাকে তবে কেন তাকসিন ছাড়া অবনিতা কাউকে ভালোবাসতে পারে না। কী আছে সেই রহস্য জানতে চায় সাজিদ। সাজিদের সাথে গভীর সম্পর্কটা করার পরও কেন সে তাকসিনের জন্য তার মন কাঁদে ? অনেক জোর করার পর বলতে থাকে তার জীবনের সেই মর্মস্পর্শী কাহিনী…। আজ অবনিতা পরিপূর্ণ একটি যুবতি বিএ’র ছাত্রী কিন্তু তার সেই ছেলে বেলাটা নষ্ট করে দিয়েছিলো শিক্ষক নামের এক অমানুষ অবনিতা তখন ৫ম শ্রেণির ছাত্রী। গ্রামের সেই বয়সের মেয়েরা ফ্রক পরেই স্কুলে আসা যাওয়া করে, কিন্তু সেই নরপিশাচ সিমুলের চোখ পড়ে অবনিতার ওপর। পড়ানোর ছলে তাকে আদর করতে থাকে এভাবে ৮ শ্রেণি পর্যন্ত উঠতেও পারেনি। বিয়ের পিরিতে বসতে হয় তাকে সহপাঠি ২ বন্ধুকে নিয়ে বিয়ে বিয়ে খেলায় মেতে উঠে। আসলে বিয়েটা দেখানো মাত্র- আসল কারণ শারীরিক সম্পর্ক কিন্তু ছোট্ট শিশু এ আর কী বুঝে? সেই নরপিশাচ সিমুলের ঘরে স্ত্রী সন্তান থাকার পরেও অবনিতাকে ছলনার ভালোবাসায় জড়িয়ে ফেলে কত কিছুই না করেছে অবনিতকাকে পেতে বাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে থেকে বিষ খেয়ে মরে যাবেসহ কত নাটকই করেছে ছোট সেই অবনিতা সেটাকে সত্যিকারের ভালোবাসা মনে করে, আগলে ধরে সিমুলকে, বাবা-মার অমতেই বাধ্য হয়ে বিয়ে করে। ৯ম শ্রেণিতে পড়াকালীনই তার সাথে সংসার শুরু করে তখন সেই নরপিশাচ সরকারি চাকরি হয়ে যায় চলে যেতে হয় কুষ্টিয়াতে সেখানে কত নির্যাতনই করেছে অবনিতার সাথে, তখন সিমুল ৩৮ এর কোটায় বয়স আর সেই ১২/১৩ বছরের অবনিতা। বিয়ের ৩ মাস পরেই সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেয় অবনিতাকে দিয়ে যেন কখনো যদি চলে যায় অবনিতা তখন যেন তাকে ফাসাতে না পারে। এর পর সিমুল বদলি হয় এই ঢাকা শহরে। গ্রামে সিমুলের স্ত্রী সন্তান ভালোভাবেই বসবাস করলেও অবনিতাকে নিয়ে আসে এই ঢাকা শহরের তারাব এলাকায় কিছু দিন একটি ঘরে আটকিয়ে রেখে নির্যাতন চালায় ছোট্ট মেয়ে অবনিতা সহ্য করতে না পেরে সে বাড়ি ফিরে যায়। কিছু দিন পর আবারো নাটক শুরু করে কাঁদার। সিমুল ভুলিয়ে ভালিয়ে নিয়ে যায় অবনিতাকে রাখতে থাকে গ্রামের আলাদা বাড়িতে। কেন না সরকারি চাকরির করাকালীন সিমুল বনে যায় অনেক টাকার মালিক এবং সেই টাকায় গড়ে তুলে হাসপাতাল আর এই হাসপাতালের ২য় তলায় রাখা হয় অবনিতাকে কয়েকদিন শারীরিক সম্পর্ক করার পর আর ভালো লাগে না। সে কারণে সিমুল নার্স থেকে শুরু করে কাজের মেয়েদের সাথেও শারীরিক সম্পর্কে জড়ায় প্রতিনিয়ত। কিন্তু ছোট মেয়ে অবনিতার সামনেই এসব ঘটনাগুলো দিনের পর দিন ঘটতে থাকে। এই অনৈতিক কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করার কারণে সিমুল অবনিতাকে তালাক দেয়। অবনিতার অজান্তে তখন সে সিমুলের বাসায় ছিলো এই কাগজ পেয়ে অবনিতার মাথার উপর আকাশ ভেঙে পরে। তখন সন্ধ্যা ঘনিয়ে- সে সময় অবনিতা বাবার বাড়ি চলে যায়, কিন্তু থাকতে পারেনি। ১ ঘণ্টা পরই আবার ফিরে যায় সিমুলের কাছে, কিন্তু রাত পেরোতে পারেনি শারীরিক নির্যাতন শুরু করে আবার। একদিন এক ডাক্তার সব কিছু দেখিয়ে অবনিতাকে বুঝিয়ে দেয়- এটা সংসার নয় সিমুল যে অবনিতাকে নিয়ে খেলায় মেতে উঠেছে দিনে দিনে তা বুঝতে পারে অবনিতা। সব ভুল ভাঙে অবনিতার, সব ফেলে এক কাপড়ে চলে আসে কিন্তু দুষ্ট সিমুল আবার সেই সাদা স্ট্যাম্প এ স্বাক্ষর রাখা স্ট্যাম্পগুলো দিয়ে আইনের বেড়াজালে ফাঁসাতে চায় অবনিতাকে।
সে নাকি নগদ ২ লাখ টাকা আর স্বর্ণালংকার নিয়ে চলে আসে। এই অভিযোগ তুলে তার বাবার বাড়িতে পুলিশ পাঠায়- কিন্তু পুলিশ সত্য কথাগুলো যখন শুনে তখন তাদের চোখে পানি এসে যায়, সে কারণে অবনিতার সাথে আর পেড়ে উঠেনি সিমুল। সে কারণেই অবনিতা কোনো বিবাহিত পুরুষকে পছন্দ করে না সে মরে গেলেও কোনো বিবাহিত পুরুষকে বিয়ে করবে না। এতে তার যত ক্ষতিই হোক না কেন। সাজিদ এত ভালোবাসে তবুও? কেন না সিমুল ভালোবাসার নামে যত নাটক করেছে তা মনে হলে মন কেঁদে উঠে অবনিতার। সেভাবে হয়ত যদি আবারো তার জীবনটা আগরে মত হয়ে উঠে সে কারণে বিবাহিত পুরুষদের ঘৃণা করে। অবনিতার সব তাকসিন সে অন্য কাউকে ভাবতে পারে না। কেননা একসময় সে খোদার কাছে চেয়েছে তাকে যেন কেউ উদ্ধার করে নিয়ে যায়। বিধাতা তার ফরিয়াদ শুনেছেন তার অতিত সব কিছু জেনে শুনেই তাকে কাছে টেনেছে তাকসিন। বলা চলে তাকসিনও তার শিক্ষক ছিলো কম্পিউটারের। অবনিতার প্রতি অনেক দুর্বল হয়ে পরে তাকসিন- যখন শুনে যে তার অতিতের কথা সে সময়টা থেকে ফিরে আসার সুযোগ হয়নি। তাই তাকসিনও অবনিতাকে নিয়ে বাঁচতে চায়। সিমুলকে অনেক ভালোবাসত অবনিতা কিন্তু তাকসিনকে পেয়ে সে সিমুলকে ভুলে থাকার চেষ্টা করে। এভাবে বছর পেরিয়ে যায়, কিন্তু অবনিতার জীবনে সাজিদ জড়ানোর কারণে সন্দেহের চোখে দেখে তাকসিন, খারাপ আচরণ করতে থাকে প্রতিনিয়ত। অফিসে বার বার ফোন করে বিরক্ত করে। এই আচরণের কারণে সাজিদ কষ্ট পায় দিনের পর দিন। কারণ সে যে, ভালোবাসে অবনিতাকে তার মন খারাপ থাকলেও কষ্ট পায় সাজিদ। মেনে নিতে পারে না অনেক কিছুই সে কারণে দিনের পর দিন কষ্ট পাচ্ছে। কিন্তু অবনিতাকে বুঝানো যাচেছ না। তাকসিন ছাড়া অবনিতা কাউকে ভাবতে পারে না। সাজিদও চেয়েছিলো অবনিতার জীবনে সুখের প্রদিপ জ্বালাতে, কিন্তু জ্বলবে কি সেই প্রদ্বীপ? তা কারো জানা নেই, তবে সাজিদের বিশ্বাস অবনিতা একদিনের জন্য হলেও সাজিদের হবে- আজ নয় কাল- নয় কিন্তু কোনো একদিন। সাজিদের কাছে আশ্রয় খুঁজবে।
অবনিতাকে কোনভাবেই হারাতে পারবে না বলে অফিসেই রেখে দেয় সাজিদ। তার সামনে থাকলেত তার মনটা ভালো থাকবে, তাকে আগলে রাখতে পারবে অবনিতার যেন কোনো ক্ষতি না হয় সে কারণে। অবনিতাকে সাজিদের চাকরি করতে দেবে না তাকসিন, কিন্তু অবনিতা চায় এখানে চাকরি করবে। সাজিদকে ছাড়া যে তার ভালো লাগে না। মায়া হয় সাজিদের জন্য কষ্ট হয়, বুকে আগলে রাখতে চায় বন্ধু করে- বিয়ে করে নয়। অফিস থেকে বের হবার সময় অবনিতা সাজিদের ঠোটে চুমু দেয়। অবনিতার কথায় সাজিদ নামাজ পড়ে ৫ ওয়াক্ত এবং নামাজ শেষে অবনিতা কপালে চুমু দেয় সাজিদের এভাবেই চলছে দিনগুলো। সাজিদকে কেউ করুনা করুক সেটা অপছন্দ সেটাকে সে ঘৃণা করে। কিন্তু সাজিদ অবনতিার করুনা নিয়ে হলেও বেঁচে থাকতে চায় কিন্তু সেটাও তার কপালে নেই। অবনিতা বলেই দিয়েছে যেকোনো কারণে যদি সাজিদ তাকে বিয়ে করে তাহলে তার শরীরটাই পাবে কিন্তু মনটা পাবে না। কিন্তু সাজিদতো আগেই অবনিতার শরীরটা পেয়েছে তাহলে?-: গানের ভাষায়:- ‘তুমি বন্ধু আমার চির সুখে থাকো/ আমি একা সুখে দুঃখে হেসে যাব/ বকুলের মত জরিয়া মরনা/ তুমি বন্ধু আমার চির সুখে থাকো ॥ আমি প্রেমেরও বাগিচার মালি হয়ে/ মালা গেঁথেছিলাম তুমায় পরাব বলে/ সেই মালা খানি হাতে রয়ে গেল/ তুমি বন্ধু আমার চির সুখে থাকো ॥ কাগজের ফুলে কভু ভ্রমর আসে না/ মরা গাছে কখনো ফুল ফুটেনা/ কলমের কালি যদি ফুরিয়ে যায়/ জীবনের খাতা শূন্য থেকে যায় ॥ আমি লিখব কোথায় ভালোবাসা যদি মিছে হয়/ ভরসা আশা নিয়ে থাকা হল শুধু দূরাশা/ জীবনের মাঁয়া ছেরে যদি চলে যাই/ প্রেমের সমাধি ঘরে দিয়ে বলে যাই ॥’ হয়ত সাজিদের ভবিষ্যৎ এমনই হবে কারণ তার মনটা এমন করেই ভেঙে গেছে কতদিন টিকবে সেটাই দেখার বিষয়। সে বলে তার মত আর কারো জীবনে এমন যানি না হয়। কেউ যেন না কাঁদে আর সুখে-দুঃখে মরতে না হয়। অবনিতা ছাড়া সাজিদ বড় অসহায় হয়ে পরে দিনের পর দিন- কান্নায় দিন চলে যায় তার, কিন্তু কী পরিনতি তাতো কারো জানা নেই। কী করবে সাজিদ, কী করবে তাকসিন, কী হবে অবনিতার কে পাবে তাকে …? এ কাহিনীর শেষ কোথায় ? ভবিষ্যতে এক নতুন গল্পে জানা যাবে এর উত্তর।

Print Friendly, PDF & Email

Please Share This Post in Your Social Media


কপিরাইটঃ ২০১৬ দৈনিক অন্যদিগন্ত এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Design & Developed BY Seskhobor.Com
Shares
CrestaProject