প্রতারকের প্রতারণার ফাঁদ-১ | অন্যদিগন্ত

শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ০৬:০৩ পূর্বাহ্ন

প্রতারকের প্রতারণার ফাঁদ-১

বার্তা প্রধান,চট্টগ্রামঃ-
এলাকার দুষ্টু লোকজন বলে,”বাপকা বেটা,সীপাহীও কি ঘোড়া”-যেমন বাপ,তেমন ছেলে। খোঁজ নিতে গিয়ে উঠে আসে বাপ,ব্যাটার বহু অজানা কুকীর্তির।এলাকার বিভিন্ন শ্রেণী পেশার লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায় তাদের এমন অজানা,অসংখ্য অপরাধের কথা।কর্ণফুলী থানার অন্তর্গত খোঁয়াজনগরের সাবেক মেম্বার ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নুরুন্নবী মেম্বার প্রকাশ নুরুন্নবী নামীয় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও তার সহযোগী গুনধর! পুত্রদের নানা কুকীর্তির ব্যাপারে সরেজমিনে খোঁজ নিতে গিয়ে উঠে আসে না জানা আরো অনেক কুকীর্তির গল্প। খোঁয়াজনগরের বাসিন্দারা পারতপক্ষে এই ধূর্তের ছায়াও মাড়াতে চায়না।বাইরের অবয়বে সাক্ষাৎ ফেরেশতা ভেবে ফেলা মোটেও আশ্চর্যের বিষয় না।সুত্রে জানা যায়,একদা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নুরুন্নবী ধূর্ত প্রকৃতির লোক।তার ধূর্ততার নমুনা তার নিজের করা বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের দ্বারা একেবারে স্পষ্ট। একেবারে জিরো থেকে বিলিয়নারে পরিণিত হওয়া মূলতঃ নিজের ধূর্ততার দরুন সম্ভবপর করতে পেরেছে। তবে,এই ধূর্ততার দরুন নিজে উপরে উঠে গেলেও প্রতারিত হয়েছেন অসংখ্য মানুষ। হাতেখড়ি মূলতঃ ইউপি নির্বাচনে মেম্বার পদে নির্বাচন করে মেম্বার বনে যাওয়ার পর হতে।সুযোগ বুঝে কোপ,প্রয়াত নগর পিতা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক আছে,এমন একটি গুজব ছড়িয়ে শুরু করল নানা রকম ফন্দি ফিকিরের মাধ্যমে ফায়দা লুটা।মেম্বার বনে যাওয়ার পর নামে-বেনামে,বিভিন্ন কুট-কৌশলে এলাকার বিরোধপূর্ণ কিংবা অসহায়,গরীব মানুষদের বহু জায়গা-জমি জবর দখল করতে শুরু করল।কপাল ফের কাকে বলে,মেম্বার হিসেবে জয়ী হওয়ার পর সেই সময়কার চেয়ারম্যান অকালে মারা গেলেন।সুযোগ হাতছাড়া করতে ভূল হয়নি এই ধূর্তের লোকের।ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বনে গেলেন। চট্টগ্রামের প্রয়াত নগরপিতা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী ছিলেন চট্টগ্রামের দলমত নির্বিশেষে সকলের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য মানুষ।তার এই জনপ্রিয়তার প্রধান কারণ ছিল,তিনি ছিলেন অসম্ভব উদার প্রকৃতির মানুষ।আর,তার এই উদারতার সুযোগকে পুরোপুরি কাজে লাগিয়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করে তার নিকট নিয়মিত যাওয়া শুরু করলেন।ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে যে ক’দিন দায়িত্বপালন করেছেন,তার সদ্ব্যবহার করে সামান্য দীনহীন,অভাবী ব্যক্তি হয়ে উঠলেন এলাকার সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিতে।আলাদ্দীনের চেরাগ পাওয়ার মত ক’দিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেয়ে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়ে গেলেন।সুত্রে আরো জানা যায়,ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হয়ে মইজ্যারটেকের মত গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সরকারি খাস জমি সম্পূর্ণ অনিয়ম দূর্নীতির মাধ্যমে নিজে জবর দখল করে ভূঁয়া কাগজপত্র তৈরি করে বিশাল এলাকা নিয়ে মার্কেট নির্মান করে ফেলেন এই ব্যক্তি।এছাড়াও পুরনো বসতভিটির প্রায় ১২ শতকের মত জমি এক অসহায় গরীব লোকের নিকট হইতে জোর পূর্বক দখল করে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে এই ধূর্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে।এই ব্যক্তির খপ্পরে পড়ে কত অসহায় মানুষ সর্বশ্রান্ত হয়েছেন,তার হিসাব নাই-এলাকার অধিকাংশ মানুষ এই ব্যাপারটিই বারবার অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে নিয়ে আসছেন।অল্প সময়ের জন্য ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হলেও নিজের নামের অংশ হিসেবে চেয়ারম্যান শব্দটা লিখতেই স্বচ্ছন্দবোধ করেন বলে অনেকেই জানান।এমনকি,আইয়ুব বিবি স্কুলের সামনে যে নতুন বাড়িটি তৈরি করেছেন,সেটিও ,”চেয়ারম্যান বাড়ি” হিসেবেই পরিচয় দিতেই তার পরিবারের সবাই অভ্যস্ত।এলাকাবাসীরা আশা করছেন,অচিরেই,দেশে চলমান দূর্নীতি বিরোধী অভিযানে এই ধূর্ত,ধুরন্ধর ব্যক্তির সকল অবৈধ কুকর্মের শাস্তি জনসম্মুখে প্রকাশ করে,তার দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি হোক। আড়ালে অনেকেই তাকে সমকামী’ই বলেন।এই ধুর্ত ব্যক্তির মতই তার সুযোগ্য পুত্রগন।তবে,পিতার অনুসরণে অন্যভাইদের ছেয়ে অনেকধাপ মাহমুদুন্নবী হেলাল নামীয় তার গুণধর পুত্র।এই পরিবারের বিরুদ্ধে ভূমিদস্যুতা,প্রতারণা,জুলুমবাজ ও অন্যের হক সুকৌশলে হাতিয়ে নেওয়া সহ একাধিক অভিযোগ করেন খোঁয়াজনগরের বাসিন্দারা।এছাড়াও মহান মুক্তিযুদ্ধে এই সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধারের অভিযোগও তুলেছেন অনেকেই।নিজের গুনধর! পুত্ররা পিতার মূল সহযোগী হিসেবে যথেষ্ট আস্থা প্রদর্শন করে নজিরবিহীন সুনাম! কুঁড়িয়েছেন বলে অনেকেই মজা করতেও ভূলেননি।যার মধ্যে পিতার নির্ভরযোগ্য পুত্র হিসেবে মাহমুদুন্নবী হেলাল এর কথা সর্বাগ্রেই বলেছে অনেকেই।এমনকি বাপ কা ব্যাটা তার কুকীর্তিতে তার হঠাৎ সুযোগে চেয়ার বসে যাওয়া-ভারপ্রাপ্ত..!!পিতাকেও ছাড়িয়ে গেছেন এমন কথাও শুনা গিয়েছে অনেকের মুখে।আগামী পর্বে সেই বাপকা ব্যাটার কীর্তি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। …..ক্রমশ।

Print Friendly, PDF & Email

Please Share This Post in Your Social Media


কপিরাইটঃ ২০১৬ দৈনিক অন্যদিগন্ত এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Design & Developed BY Seskhobor.Com
Shares
CrestaProject