তাহেরপুরে রাজা না থাকলেও দুর্গোৎসব রয়েছে : ভারতীয় হাই কমিশনার | অন্যদিগন্ত

শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ০৫:১৮ পূর্বাহ্ন

তাহেরপুরে রাজা না থাকলেও দুর্গোৎসব রয়েছে : ভারতীয় হাই কমিশনার

রাজশাহী প্রতিনিধি॥

রাজা কংস নারায়ন রায় বাহাদুরের শ্রী শ্রী দুর্গামাতা মন্দিরে দুর্গা পূজার মন্দির পরিদর্শন শেষে ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার সঞ্জীব কুমার ভাটী বলেছেন, রাজা না থাকলেও তাঁর ইতিহাস আজও অক্ষুন্ন রেখেছে সনাতন ধর্মবলম্বীরা।

প্রায় সাড়ে পাঁচ শত বছর যাবৎ পালিত হয়ে আসছে শারদীয় দুর্গোৎসব। বাংলাদেশে যেভাবে পালিত হচ্ছে ভারতেও সেভাবে পালিত হচ্ছে দুর্গা পূজা। তিনি আরো বলেন,ধর্ম যার যার উৎসব সবার। এই সত্যকে বুকে ধারণ করতে হবে সকলকে।

এর আগে গতকাল সোমবার উপজেলার তাহেরপুরে দুর্গামাতা মন্দিরে ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার সঞ্জীব কুমার ভাটী সপরিবারে রাজার মন্দিরে অঞ্জলি পূজা করেন। এ সময় বাগমারা আসনের সংসদ সদস্য, সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং একাদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশনে সংসদ কার্যপরিচালনা কমিটির প্যানেল স্পিকার ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক বলেছেন,বাংলাদেশ বিভিন্ন ধর্মের লোক থাকলেও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ব বৃহৎ শারদীয় দুর্গোৎসব এখন সার্বজনীন উৎসবে রুপ নিয়েছে। বাংলাদেশ সাম্প্রদায়ীক সম্প্রীতির দেশ। এ দেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের লোকজন বসবাস করলেও শারদীয় দুর্গোৎসবে ভেদাভেদ ভুলে অনেকেই পূজো দেখতে যান মন্দিরে।

এতে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনারের পত্নী সুনন্দা ভাটী, ভারতীয় দর্শনার্থী চাম্পা দাস, জেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি ও বাগমারা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অনিল কুমার সরকার, তাহেরপুর শ্রী শ্রী দুর্গামাতা মন্দিরের সভাপতি নিশিত কুমার সাহা প্রমুখ।

উল্লেখ্য,১৪৮০ সালে সম্রাট আকবরের রাজত্বকালে বাংলার বারো ভূঁইয়ার অন্যতম রাজা রাজশাহীর কংস নারায়ণ তাহেরপুরের তাহের খানকে যুদ্ধে পরাজিত করেন। যুদ্ধজয়ের স্মৃতি ধরে রাখতে রাজ পুরোহিত রমেশ শাস্ত্রীর পরামর্শে রাজা কংস নারায়ণ দুর্গাপূজার আয়োজন করেন রাজবাড়ির গোবিন্দ মন্দিরে। তার আহ্বানে মা দুর্গা স্বর্গ থেকে সাধারণ্যে আবির্ভূত হন। সেই সময় ৯ লাখ টাকা ব্যয়ে কংস নারায়ণ প্রথম যে দুর্গাপূজার আয়োজন করেন, সেই প্রতিমা ছিল সোনার তৈরি। এরই ধারাবাহিকতায় আজ পর্যন্ত সারা বিশ্বের হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব হিসেবে দুর্গাপূজা স্বীকৃত পায়।

দুর্গাপূজার গোড়ার কথা কালক্রমে যাতে হারিয়ে না যায় সে জন্য তাহেরপুরে রাজা কংস নারায়ণ প্রথম দুর্গাপূজা সৃষ্টি, মন্দির ও জায়গা রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়ন কমিটি গঠিত করেছিল। এ কমিটি লোকজন দুর্গাপূজার উৎপত্তিস্থল তাহেরপুরকে বাঙালী হিন্দুদের শারদীয় উৎসবের পুণ্যস্থান হিসেবে স্বীকৃতি পেতে বিভিন্ন পর্যায়ে বিভিন্ন সময়ে সরকারের কাছে আবেদন করেও স্বীকৃতি আদায়ে ব্যর্থ হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

Please Share This Post in Your Social Media


কপিরাইটঃ ২০১৬ দৈনিক অন্যদিগন্ত এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Design & Developed BY Seskhobor.Com
Shares
CrestaProject