নূহা কসমেটিকস নকল প্রসাধনী কারখানায় অভিযান | অন্যদিগন্ত

বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯, ১০:৩২ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ
পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণে এসেছে, দাবি শিল্পমন্ত্রীর  নারায়ণগঞ্জ টেকনিক্যাল স্কুলের সীমানা প্রাচীর ধসে প্রাণ হানির আতঙ্কে ৩ হাজার মানুষ লালমনিরহাট সদর উপজেলায় স্কুল ছাত্রীকে ৫দিন আটকে রেখে গনধর্ষণ ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সিনেমা ফিরিয়ে দিলেন পরিণীতি ট্রেন দুর্ঘটনায় আহত শিশুটির পরিচয় মিলেছে, নিখোঁজ মা-দাদি বসুন্ধরা পেপারের লেনদেন পূর্ব ৬৯ কোটি টাকার মুনাফা নামল ২৯ কোটিতে ইডেনের ইনডোর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রেন দুর্ঘটনায় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী শোক কসবার ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬, তদন্ত কমিটি শহীদ নুর হোসেনকে নিয়ে রাঙ্গার আপত্তিকর মন্তব্যে প্রতিবাদে ফুসে উঠেছে রংপুরের যুবলীগ

নূহা কসমেটিকস নকল প্রসাধনী কারখানায় অভিযান

সাজু আহমেদ রুবেল, রংপুর প্রতিনিধি॥
রংপুরের বদরগঞ্জ থানা পুলিশ ‘নূহা কসমেটিকস লিমিটেড’ নামে এক নকল প্রসাধনী কারখানায় অভিযান চালিয়েছে। এসময় আটক করা হয় মালিকসহ দু’কর্মচারিকে। এছাড়া কারখানা সিলগালা করার পাশাপাশি জব্দ করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ নকল প্রসাধনী ও কেমিক্যাল। এঘটনায় কারখানা মালিকের এক লাখ টাকা জরিমানা ও এক মাসের কারাদ- এবং অর্থ অনাদায়ে আরো এক মাসের কারাদন্ড প্রদান করা হয়েছে। একই সাথে দু’ কর্মচারির প্রত্যেককে ১০হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে ১৫দিন করে কারাদ- প্রদান করেছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাতে পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পৌরশহরের মুন্সীপাড়ায় অবস্থিত ওই কারখানায় অভিযান চালায়। পুলিশ জানিয়েছে- ২০১৮সালের মার্চ মাসে আব্দুল মালেক নামে অবসরপ্রাপ্ত এক সেনা সদস্যের বাড়ি ভাড়া নেয় দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার খোলাহাটী এলাকার বালাপাড়ার আবুল হোসেনের ছেলে সালাহ উদ্দিন লিটন(৩৩)। এরপর তিনি সেখানে নকল প্রসাধন সামগ্রীর কারখানা গড়ে তোলেন। দিনে বাসাটি তালাবদ্ধ থাকলেও রাতে সেখানে কাজ চলত। তবে রাতেও বাসাটির বাইরের সব লাইট বন্ধ থাকত। রাতভর কাজ করে ভোরেই সেখানকার তৈরি বিভিন্ন নকল প্রসাধন সামগ্রী বাইরে পাঠিয়ে দেয়া হত। এভাবেই এতদিন ওই নকল কারখানার মালিক প্রশাসনসহ সাধারণ মানুষকে ধোকা দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকার লোকজন জানিয়েছেন- ওই বাসায় কি হচ্ছে আগে থেকেই তা’ পুলিশের জানা। কারণ ওই বাসাটি সম্পর্কে তৎকালিণ ওসি আনিছুর রহমানকে অনেকবার বলা হলেও তিনি কোন কার্যকর ভূমিকা রাখেননি। বরং ওই বাড়ি সম্পর্কে তার কাছে যতই নালিশ করেছি ততই ওই বাড়ির লোকজনের সাথে ওই ওসির সম্পর্ক আরো গাঢ় হয়েছে। কারণ ওসি আনিছুর রহমান ওই বাসায় না গেলেও তাকে প্রতিনিয়ত ওই রাস্তার মোড়ে চিহ্নিত লোকজনের সাথে আড্ডা দিতে দেখা গেছে- যা এলাকার লোকজনকে হতবাক করেছে। একারণে এলাকার লোকজন পুলিশকে আর কোন তথ্য দেননি। বদরগঞ্জ থানার ওসি(তদন্ত) আরিফ আলী বলেন, সন্ধ্যা থেকে ওই বাসার লোকজন নজরদারিতে ছিল। রাত ৯টার দিকে লিটন ও তার কর্মচারিরা বাসায় ঢুকলে সেখানে পুলিশী অভিযান শুরু হয়। পুলিশী জিজ্ঞাসাবাদে লিটন জানায় হেয়ার অয়েল তৈরির জন্য তার কাছে অনুমতিপত্র রয়েছে। কিন্তু যে নামে ওই পণ্য তৈরির অনুমোদন রয়েছে কাগজ-কলমে সেটি রংপুরের সাতগাড়ায় অবস্থিত। তিনি বলেন, লিটনের স্বীকারোক্তি থেকে জানা যায় ওই কারখানায় নিয়মিত ১৪টি পণ্য প্যাকেটজাত করা হত। এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ব্র্যা-ের পারফিউম, ট্যালকাম পাউডার, ফেস ওয়াশ, মেহেদী, হেয়ার অয়েল, স্যানিটারি ন্যাপকিন, ভেসিলিন, গ্লিসারিণ, অলিভ অয়েল, হেয়ার রিম্যুভ্যাল ক্রিম। তিনি আরো বলেন, এসব পণ্য নানাভাবে ছড়িয়ে দেয়া হত দেশের নানা স্থানে। অভিযান পরিচালনাকারী রংপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদ হাসান মৃধা সাংবাদিকদের বলেন, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় কেমিক্যাল মজুদ, জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নকল প্রসাধন সামগ্রী তৈরি ও বিতরণের জন্য ভোক্তা অধিকার আইনের ৫২ধারা মোতাবেক কারখানার মালিককে এক লাখ টাকা জরিমানা ও একমাসের কারাদ- এবং অর্থ অনাদায়ে আরো এক মাসের কারাদ- প্রদাণ করা হয়েছে। এছাড়া তাকে সহযোগিতা করার দায়ে দু’জনকে ১০হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে ১৫দিন করে কারাদ- প্রদাণ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি কারখানাটি সিলগালা করা হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

Please Share This Post in Your Social Media


কপিরাইটঃ ২০১৬ দৈনিক অন্যদিগন্ত এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Design & Developed BY Seskhobor.Com
Shares
CrestaProject