কালিগঞ্জ থানার ওসির বিরুদ্ধে হত্যা মামলার এজাহার ছিরে ফেলা ও বাবকে মারধরের অভিযোগ | অন্যদিগন্ত

বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯, ১০:৩৪ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ
পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণে এসেছে, দাবি শিল্পমন্ত্রীর  নারায়ণগঞ্জ টেকনিক্যাল স্কুলের সীমানা প্রাচীর ধসে প্রাণ হানির আতঙ্কে ৩ হাজার মানুষ লালমনিরহাট সদর উপজেলায় স্কুল ছাত্রীকে ৫দিন আটকে রেখে গনধর্ষণ ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সিনেমা ফিরিয়ে দিলেন পরিণীতি ট্রেন দুর্ঘটনায় আহত শিশুটির পরিচয় মিলেছে, নিখোঁজ মা-দাদি বসুন্ধরা পেপারের লেনদেন পূর্ব ৬৯ কোটি টাকার মুনাফা নামল ২৯ কোটিতে ইডেনের ইনডোর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রেন দুর্ঘটনায় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী শোক কসবার ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬, তদন্ত কমিটি শহীদ নুর হোসেনকে নিয়ে রাঙ্গার আপত্তিকর মন্তব্যে প্রতিবাদে ফুসে উঠেছে রংপুরের যুবলীগ

কালিগঞ্জ থানার ওসির বিরুদ্ধে হত্যা মামলার এজাহার ছিরে ফেলা ও বাবকে মারধরের অভিযোগ

চন্ত্র শেখর রায়॥ লালম‌নিরহাট প্র‌তি‌নি‌ধি॥

লালমনিরহাটের কালিগঞ্জ থানার ওসির বিরুদ্ধে হত্যা মামলার এজাহার ছিরে ফেলে জোড়পূর্বক অপমৃত্যুর কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে গলাধাক্কা দিয়ে থানা থেকে বাহির করে দেয়ার অভিযোগ তুলেছেন নিহতের স্বজনরা। জানা গেছে, গত ২৯ জুলাই ১৯ইং রাতে দীপার স্বামী মাদকাসক্ত প্রকাশ রায় তাকে বেপরোয়া মারপিট করেছিল। এতে দীপা সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন। পরে প্রকাশ ও তার পরিবারের লোকজন দীপাকে লাশ বানিয়ে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেয়। এরপর ৩০ জুলাই সকালে পুলিশ নিজের ঘর থেকে দীপার লাশ উদ্ধার করে। শুধু তাই নয়, হত্যার প্রমাণ নষ্ট করতে ময়নাতদন্ত শেষে তড়িঘড়ি করে শ্বশুর বাড়ির লোকজন গৃহবধূ দীপা রানী রায়ের লাশ শ্মশানে নিয়ে দাহ্য করে, যদিও সিভিল সার্জন অফিস থেকে নিহিত দিপাকে কবর বা মাটি চাপাদিতে বলে ছিলেন। নিহতের বাবা-মা তাদের মেয়ের শেষকাজ করতে চাইলেও তাদের তা করতে না দিয়ে উল্টো নেশাখোর হিতেন ডাক্তার ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা এবং প্রকাশের পরিবারের লোকজন ধমক দিয়ে, লালমনিরহাট শহর থেকে
বাহির করেদেয় দিপার পরিবারের লোকদের কে। নিহত গৃহবধূ দীপা কালীগঞ্জ উপজেলার গোড়ল কমলারটারী গ্রামের কাপড় ব্যবসায়ী কোকিলেশ্বর রায়ের একমাত্র মেয়ে। স্বপ্নছিলো মেয়ে কে ডাক্তার বানাবেন ।এলাকাবাসি ও দিপার স্কুলের শিক্ষকরা বলতেছিলো মেয়েটি খুব মেধাবি ছিলো ।
কোকিলেশ্বর রায় অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরা মেয়ের লাশ চেয়েছিলাম, অনুরোধ করেছিলাম কিন্তু মেয়ের শ্বশুর বাড়ির লোকজন তাতে কোন পাত্তাই দেয়নি। বরং আমাদের শাসিয়েছিলেন। পুলিশের সাহায্য চেয়েছিলাম সেটিও পাইনি, শ্বশুরবাড়ীর লোকজন পরিকল্পিতভাবে লাশ শ্মশানে দাহ্য করে প্রমাণকে চিরতরে লোপাট করেছে।’ অারো দুঃখ জনক বিষয় হলো তারাতারি করে দি পার লাশকে দাহ্য করতে গিয়ে ঠিক মতো পুরতেও পারেনী। দিপার দুই পা এখনো স্বশানের কোনায় মাটির নীচে লুকিয়ে রাখছে । গত ৩০ জুলাই সকালে দীপার স্বামীর বাড়ি উপজেলার শিয়ালখোয়া গ্রামের ঘর থেকে ফাঁসিতে ঝুলন্ত অবস্থায় কালীগঞ্জ থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। সেদিনই ময়নাতদন্তের জন্য লালমনিরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে পুলিশ। সেই ঘটনার জেরে গত ১৪ আগস্ট জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় উত্থাপন হলে জেলা পুলিশ সুপার এসএম রশিদুল হক পিপিএম-সেবা বলেন, পুলিশ অবশ্যই সঠিক তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিবেন। তার আগে ৪ আগস্ট দীপার গ্রামের লোকজন লালমনিরহাট-বুড়িমারী আঞ্চলিক মহাসড়কে পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সামনে সঠিক তদন্ত ও খুনিদের গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন। প্রকাশ চন্দ্র রায় একজন মাদকাসক্ত দাবি দীপার বাবা কোকিলেশ্বর বলেন, ২৯ জুলাই রাতে দীপাকে তার স্বামী বেপরোয়া মারপিট করেছিল। এতে দীপা সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েছিল। দীপা প্রতিবাদ করেছিল তাই তাকে মরতে হয়েছে। দীপাকে প্রকাশ হত্যা করেছে। তার পরিবারের লোকজন দীপার লাশ পরিকল্পিতভাবে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেয়। এনিয়ে থানায় হত্যা মামলা দিয়েছিলাম কিন্তু কালীগঞ্জ থানার ওসি আমাদের সামনেই মামলার কাগজ ছিঁড়ে ফেলে দেয়। আর জোড়পূর্বক আমার কাছ থেকে অপমৃত্যুর কাগজে স্বাক্ষর নেয়। তিনি আরো অভিযোগ করেন, পুলিশের কোন সহযোগিতা তো পাইনি বরং পুলিশ হত্যাকারীর পরিবারকে সহযোগিতা দিয়ে আসছে।একারনে প্রকাশ চন্দ্র রায় প্রকাশে বলে বেরাচ্ছে, ” দুই জন ইউ পি চেয়ারম্যাকে কিনেছি ৪+৪=৮লাখ টাকা দিয়ে, সমাজ কল্যাণ মন্ত্রীর ছেলে রাকিবকে দিয়েছি অাট লাখ, ওসি সাহেবকে দিয়েছি ৩ লাখ। ওসি এখন অামার পকেটে, ইত্যাদি, ইত্যাদি । এলাকাবাসি দিন দিন পুলিশের উপর অাস্থা হারিয়ে ফেলছে । কুকিলেশ্বর রায় বলেন, তিনি খুব তারাতারি মাননীয় প্রধান মন্ত্রী মহোদয়ের সাথে যোগাযোগ কবেন।
দীপার মা প্রতিমা রানী রায় বলেন, ‘দীপাকে হত্যা করে প্রকাশ ও তার লোকজন মোটরসাইকেলে চড়ে বাড়ির সামনে সদম্ভে মহড়া দিচ্ছে। আমরা কাঁদছি আর তারা হাসছে। তিনি কেঁদে কেঁদে বলেন, প্রকাশ একটি রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় চলছে।’

এব্যাপারে দীপার স্বামী শিয়ালখোয়া গ্রামের যাদুরাম রায়ের ছেলে মাতাল প্রকাশ বলেন, তাঁর স্ত্রী আত্মহত্যা করেছে কিন্তু কেন আত্মহত্যা করেছে এমন প্রশ্নের কোন উত্তর দিতে পারেননি তিনি। দুই বছর আগে তিনি দীপাকে ভালোবেসে বিয়ে করে হঠাৎ করে তার বাবার বাড়ি থেকে ১০ লাখ টাকা অানতে বলেন । দিপা প্রকাশকে বলে, অামি তোমাকে ভলোবেসে বাড়ি থেকে পালিয়ে এসে বিয়ে করেছি, এখন অামি ঐ বাড়ি ক্যামন করে যাবো । অামি পারবো না । সে দিন থেকেই শুরু হয় অত্যাচার। প্রায় প্রতি দিন রাত ১০ টার পর প্রকাশের বাড়িতে বসতো মদের অা সর। ঘটনারদিন বাড়িতে মদ খাইতে নিশেধ করায় ডাঃ হিতেনের মাইন্ডেহিট লেগে যায় । হিতেন প্র কাশ কে বলে, তোর বউ অামাদের অপমান করলো । প্রকাশ হিতেনের কথার গরমে দিপার বুক, স্তন, সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে বেধরক মারডাং করে, তখন দিপা সজ্ঞা হীন হয়ে বিছানায় পড়ে যায় । কিছুক্ষন পর তার মৃত হয় । তখন ডাঃহিতেন তারাতারি দিপাকে ফাসে তুলতে বলে কেটে পড়ে । কথা গুলো বলেছে, নাম প্রকাশে অনইচ্ছুক ঐ দিনের মদের অা সরের একজন সদস্য ।

এঘটনায়, স্থানীয় গ্রাম্য চিকিৎসক হিতেন চন্দ্র রায় (৪৬), গ্রাম্য চিকিৎসক বকুলপরী রায় (৫২) ও প্রকাশের নিকট আত্মীয় মিনতি রানীকে পুলিশ থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে কোনো তথ্য জানাতে অপারগতা জানিয়েছে পুলিশ।

ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা কালীগঞ্জ থানার এস আই মাইনুল ইসলাম বলেন, ওসি স্যার তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন আর এটি তদন্তের বিষয় হওয়ায় প্রকাশ করা যাবে না। দীপার ভিসারা রিপোর্ট ঢাকার মহাখালীতে পাঠিয়েছি ৩ সেপ্টেম্বর এবং খুব শিঘ্রই ভিসারা রিপোর্ট পেলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো বলে জানালেন পুলিশের এই কর্মকর্তা। এলাকাসির দাবি দিপার মৃত হয় ২৯ জুলাই দিবাগত রাতে অার তদন্তকারী কর্মকর্তা মঈনুল মহাখালিতে রিপোর্ট পাঠায় ৩সেপ্টেম্বর । মাঝে ১মাস ৪দিন রিপোট দেরিতে পাঠানোর কারন কি ? এলাকাবাসি জানতে চায় ।

এদিকে কালীগঞ্জ থানার ওসি সাজ্জাদ হোসেন মামলার কাগজ ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘এ ঘটনায় থানায় একটি ইউডি মামলা হয়েছে। পুলিশ ঘটনার সঠিক তদন্ত করছেন এবং ভিসারা রিপোর্ট পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রয়োজনী ব্যবস্থা নেবে। UD মামলা, কখন হয় এবং অাপনি কেমন করে ডাঃ রিপোর্ট ছাড়াই এটাকে UD মামলা বলে চালিয়ে দিলেন, এই প্রশ্ন করেছেন দিপার বাবা কুকিলেশ্বর রায়।

এনিয়ে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার শিয়ালখোয়া গ্রামের গৃহবধূ দীপা নিহতের ঘটনায় এলাকায় চলছে চরম উত্তেজনা।

Print Friendly, PDF & Email

Please Share This Post in Your Social Media


কপিরাইটঃ ২০১৬ দৈনিক অন্যদিগন্ত এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Design & Developed BY Seskhobor.Com
Shares
CrestaProject