শুভ জন্মদিন শেখ রাসেল | অন্যদিগন্ত

বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯, ১০:৩৩ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ
পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণে এসেছে, দাবি শিল্পমন্ত্রীর  নারায়ণগঞ্জ টেকনিক্যাল স্কুলের সীমানা প্রাচীর ধসে প্রাণ হানির আতঙ্কে ৩ হাজার মানুষ লালমনিরহাট সদর উপজেলায় স্কুল ছাত্রীকে ৫দিন আটকে রেখে গনধর্ষণ ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সিনেমা ফিরিয়ে দিলেন পরিণীতি ট্রেন দুর্ঘটনায় আহত শিশুটির পরিচয় মিলেছে, নিখোঁজ মা-দাদি বসুন্ধরা পেপারের লেনদেন পূর্ব ৬৯ কোটি টাকার মুনাফা নামল ২৯ কোটিতে ইডেনের ইনডোর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রেন দুর্ঘটনায় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী শোক কসবার ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬, তদন্ত কমিটি শহীদ নুর হোসেনকে নিয়ে রাঙ্গার আপত্তিকর মন্তব্যে প্রতিবাদে ফুসে উঠেছে রংপুরের যুবলীগ

শুভ জন্মদিন শেখ রাসেল

রিমি মরদার॥

শেখ রাসেল, বেঁচে থাকলে যার বয়স হতো আজ ৫৫ বছর। ৫৫ বছরের একজন মানুষ হিসেবে তার তো কত কিছুই করার কথা ছিল। হয়ত পরিবারের বাকি সবার মতই রাজনীতিতে জড়াতেন তিনি, কিংবা বেছে নিতেন অন্য কোন পেশা। হয়তবা তারও একটা পরিবার হতো, কারো স্বামী, কারো বাবা হতেন তিনি। অথচ শেখ রাসেল নামটা শুনলেই পুরো বাঙালি জাতির মনের মাঝে ভেসে ওঠে ১০ বছরের এক বাচ্চার ছবি।
মাত্র ১০ বছর বয়সেই থেমে গিয়েছিল শেখ রাসেলের জীবনগাঁথা, তাও স্বাধীন বাংলাদেশে। যে দেশের মুক্তির জন্য তার বাবা নেতৃত্ব দিয়েছিল, সেই স্বাধীন দেশে, নিজের মানুষের হাতেই প্রাণ দিতে হলো নাবালক রাসেলকে। শুনেছি, মৃত্যুভয়ে ছোট্ট রাসেল জিজ্ঞেস করেছিল, ‘ওরা আমাকে মেরে ফেলবে না তো!’ মিথ্যে অভয় দেয়া হয়েছিল রাসেলকে, আর তার কিচ্ছুক্ষণ পরেই রাসেলকে মেরে ফেলা হয়। কি দোষ ছিল শিশুটির? শেখ পরিবারের সন্তান, শুধু এই পরিচয়ের জন্যেই প্রাণ দিতে হলো এক শিশুকে, থামিয়ে দেয়া হলো অজস্র সম্ভাবনা।

শেখ রাসেলের দেখা হলো না এই স্বাধীন বাংলাদেশের কোনকিছুই। ঘুড়ে বেড়ানো হলো না সবুজ ফসলের মাঠ জুড়ে, দেখা হলো না গ্রাম-বাংলার মানুষের সারল্য, দেখা হলো না বাংলাদেশের অবিরাম সাফল্য, কিছুই তো জানা হলো না শেখ রাসেলের। মাঝে মাঝে মনে হয়, পুরো জাতির উপর অভিমান নিয়ে গাল ফুলিয়ে বসে আছে ছোট্ট রাসেল। দূর থেকে বলছে, কেন মেরে ফেললে আমায়?

শেখ রাসেলের জন্মদিন আজ। ৫৫ বছরের কোন প্রৌঢ়ের জন্মদিন হবার কথা ছিল, কিন্তু রাসেলের বয়স যে আটকে আছে সেই দশেই। যেদিন রাসেলকে মেরে ফেলা হয় তার কিছুদিন পরেই তো ছিল তার ১১ তম জন্মদিন। হয়ত সেই জন্মদিনকে ঘিরে ছোট্ট বাচ্চাটির মনে ছিল অনেক জল্পনা কল্পনা। আজ শেখ রাসেলের জন্মদিনে খুব ভাবতে ইচ্ছে করে কেমন হতো শেখ রাসেলের ১১ তম জন্মদিন। হয়ত ঘুম ভাঙত বাবা-মা এর আলিঙ্গনে। বড় ভাই, ভাবী, অন্যান্য আত্মীয়স্বজনদের খুনসুটিতেই হয়ত কাটত সারাটাদিন। কে জানে হয়ত বড় দু’বোন চলে আসত দেশে; ছোট্ট ভাইটিকে চমকে দিতে। রান্না করা হতো শেখ রাসেলের প্রিয় সব খাবার। সারাদিন শেষে পরিবারের সবাই মিলে গোল হয়ে বসত একসাথে, গল্প আড্ডার ফাঁকেফাঁকে খোলা হতো শেখ রাসেলের জন্মদিনে পাওয়া উপহারগুলো। কিংবা অন্য অনেক ভাবেই পালন করা যেত শেখ রাসেলের জন্মদিন। কিন্তু সত্যি সত্যিই কি হতো তা আর জানা যাবে না কোনদিন।

শেখ রাসেলের নাম শুনলেই ভেসে উঠবে ছোট্ট এক শিশুর ছবি, উসকো-খুশকো চুল, ডাগর-ডাগর চোখ আর তার নিষ্পাপ চাহনি, মায়াকাড়া হাসি। শেখ রাসেলের বয়স বাড়বে না, আধাপাকা চুলে, ছেঁটে রাখা গোফে, চশমা চোখে দেখা হবে না রাসেলকে।

জাতি হিসেবে ছোট্ট রাসেলের মৃত্যুর দায়ভার বয়ে বেড়াতে হবে আমাদের আজীবন। খুজে ফিরতে হবে কোন উপায়, কিভাবে এই পাপমোচন করা যায়। শেখ রাসেলের জন্মদিনে আপাতত আশাবাদী হতে চাই। জানি যেখানে আছে বেশ ভালোই আছে রাসেল। অন্তত বিশ্বাসঘতক এই জাতি থেকে তো দূরে আছে!

শুভ জন্মদিন শেখ রাসেল, যেখানেই থাকো, ভালো থেকো…

Print Friendly, PDF & Email

Please Share This Post in Your Social Media


কপিরাইটঃ ২০১৬ দৈনিক অন্যদিগন্ত এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Design & Developed BY Seskhobor.Com
Shares
CrestaProject