নবীনগর সরকারী হাসপাতালে চিকিৎসা সেবায় জগাখিচুড়ি | অন্যদিগন্ত

বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯, ১১:১৫ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ
পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণে এসেছে, দাবি শিল্পমন্ত্রীর  নারায়ণগঞ্জ টেকনিক্যাল স্কুলের সীমানা প্রাচীর ধসে প্রাণ হানির আতঙ্কে ৩ হাজার মানুষ লালমনিরহাট সদর উপজেলায় স্কুল ছাত্রীকে ৫দিন আটকে রেখে গনধর্ষণ ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সিনেমা ফিরিয়ে দিলেন পরিণীতি ট্রেন দুর্ঘটনায় আহত শিশুটির পরিচয় মিলেছে, নিখোঁজ মা-দাদি বসুন্ধরা পেপারের লেনদেন পূর্ব ৬৯ কোটি টাকার মুনাফা নামল ২৯ কোটিতে ইডেনের ইনডোর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রেন দুর্ঘটনায় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী শোক কসবার ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬, তদন্ত কমিটি শহীদ নুর হোসেনকে নিয়ে রাঙ্গার আপত্তিকর মন্তব্যে প্রতিবাদে ফুসে উঠেছে রংপুরের যুবলীগ

নবীনগর সরকারী হাসপাতালে চিকিৎসা সেবায় জগাখিচুড়ি

বিপ্লব নিয়োগী, নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়ীয়া) প্রতিনিধি ॥

ব্রাহ্মণবাড়ীয়া’র নবীনগর সরকারী হাসপাতালে চিকিৎসা সেবায় চলছে জগাখিচুড়ি অবস্থা।বেড সংকট, চিকিৎসক ও নার্স সল্পতা,ও পর্যপ্ত নিরাপত্বা অভাব সহ নানারকম সংকটে জগাখিচুড়ি অবস্থায় চলছে চিকিৎসার কার্যক্রম।হাসপাতালে বেড সংকটের কারনে ১৯ শয্যার মহিলা ওয়ার্ডে চলছে নারী-পুরুষের একাকার চিকিৎসা সেবা। হাসপাতালের শিশু ও মহিলা ওয়ার্ডের ১৯টি বেডে গাদাগাদি করে প্রায় দ্বিগুণ রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। পাশের বারান্দা ও হাসপাতালের খোলা ছাদেও শুয়ে রয়েছেন কয়েক ডজন রোগী।
এত রোগীর চিকিৎসা সেবা দিতে নার্স রয়েছেন সবেমাত্র দু’জন!সেবা দিতে গিয়ে এরা রীতিমত হিমশিম খাচ্ছেন।এছাড়াও মাত্র ৬ জন চিকিৎসক দিয়ে চলছে চিকিৎসার কার্যক্রম।

হাসপাতালে রয়েছে পর্যাপ্ত নিরাপত্বা’র অভাব শিশু নারী পুরুষ একই ওয়ার্ডে পাশাপাশি অবস্থান করায় টাকাপয়সা মোবাইল সহ মূল্যবান স্বর্ণালংকার খোঁয়া যাচ্ছে রুগীদের।গত বৃহষ্পতিবার পঞ্চাশোর্ধ এক নারীর গলা থেকে অভিনব কায়দায় প্রকাশ্যে দেড় ভরি ওজনের একটি সোনার চেইন চুরি হয়েছে।চুরির ঘটনা ধরা পরে হাসপাতালে সিসি ক্যামেরায়।ভুক্তভোগী ওই নারী উপজেলার জিনোদপুর ইউনিয়নের মালাই মেরকুটা গ্রামের আবদুল ওয়াহেদ মিয়ার স্ত্রী হোসনে আরা (৫৫)।

নবীনগর সরকারী হাসপাতালে চিকিৎসাসেবায় সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, মহিলা ও শিশু ওয়ার্ডে পুরুষ-নারী ও শিশু রোগীরা স্ব স্ব বেডে শুয়ে সমানতালে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন। পাশে থাকা হাসপাতালের ছাদ, বারান্দা ও ১৯ শয্যার এই মহিলা ওয়ার্ডে সব মিলিয়ে মোট ৫৮ জন পুরুষ, মহিলা ও শিশুর চিকিৎসা চলছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এমন অভাবনীয় দৃশ্য চোখে পড়ে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৩১ শয্যা বিশিষ্ট নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি বিগত ২০১১ সালে ৫০ শয্যায় উন্নীত হয়। পরে ২০১৪ সালে হাসপাতালটিতে আধুনিক সুযোগ সুবিধা নিয়ে সম্প্রসারিত তিনতলা বিশিষ্ট নতুন একটি ভবনের উদ্বোধন করা হয়। নতুন এই ভবনের নীচ তলায় চিকিৎসকদের চেম্বার, ইপিআই কেন্দ্র ও স্টোর কক্ষ এবং দ্বিতীয় তলায় প্রশাসনিক কক্ষ, লেবার কক্ষ, অপারেশন থিয়েটারসহ আনুষাঙ্গিক কক্ষ রয়েছে। আর তিন তলায় রোগীদের জন্য তিনটি কেবিন, কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সদের জন্য দুটি কক্ষ এবং ১৯ শয্যার একটি মহিলা ও শিশু ওয়ার্ড রয়েছে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, নতুন ভবনটি চালু হবার পর মারাত্মকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ থাকায় ৩১ শয্যার পুরাতন দ্বিতল ভবনের পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ড দুটির কার্যক্রম চলতি বছরের জুলাই মাসে বন্ধ করে দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পরে দ্বিতল ভবনের ওই দুটি ওয়ার্ডের কার্যক্রম তিন তলা বিশিষ্ট নতুন ভবনে স্থানান্তর করা হয়।

এদিকে চারমাস আগে পরিত্যক্ত দ্বিতল ভবনটিতে থাকা ৩১ শয্যার পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ড দুটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নতুন ভবনের তিন তলায় থাকা মাত্র ১৯ শয্যার একমাত্র শিশু ও মহিলা ওয়ার্ডেই এখন পুরুষ ও মহিলাসহ সব রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে হচ্ছে বলে জানান কর্তৃপক্ষ। আর এ কারণে ১৯ শয্যার মহিলা ওয়ার্ড, বারান্দা ও হাসপাতালটির ছাদে পর্যন্ত রোগীদেরকে এখন চিকিৎসা দিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে রীতিমত হিমশিম খেতে দেখা গেছে।

এদিকে স্থানীয় একাধিক ভুক্তভোগী বলেন, হাসপাতালটিতে আধুনিক সকল সুযোগ সুবিধা থাকার পরও এখন পর্যন্ত দ্বিতীয় তলায় অপারেশন কার্যক্রম (ওটি) চালু হচ্ছে না। ফলে ডেলিভারি রোগীদের প্রচুর অর্থ ব্যয় করে প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা (সিজার) নিতে হচ্ছে।

হাসপাতালটির প্রধান, উপজেলো স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ৩১ শয্যার পুরাতন ভবনটি পরিত্যক্ত হওয়ায় এখন মাত্র ১৯ শয্যার একটি ওয়ার্ডে সব রোগীদের চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। তাই রোগীদের কিছুটা অসুবিধা হচ্ছে।

তিনি আরো জানান,দিনে এখানে অর্ধশতাধিক রোগী ভর্তি থাকে। তাই নিরুপায় হয়েই আমাদেরকে বারান্দা ও পাশে থাকা ছাদেও রোগীদের চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫) এবাদুল করিম বুলবুল মুঠোফোনে বলেন, আগামী সপ্তাহেই আমি হাসপাতালটি পরিদর্শনে যাব। পরিত্যক্ত ভবনের জায়গায় শিগগিরই নতুন ভবনের কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেব। পাশাপাশি খুব দ্রুত হাসপাতালটির ওটির কার্যক্রমও চালু করা হবে।

Print Friendly, PDF & Email

Please Share This Post in Your Social Media


কপিরাইটঃ ২০১৬ দৈনিক অন্যদিগন্ত এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Design & Developed BY Seskhobor.Com
Shares
CrestaProject