নবীগঞ্জে মাকে বাড়ী আনতে গিয়ে লাশ হয়ে ফিরলেন হাফেজ মোজাক্কির, বেপরোয়া বাস কেড়ে নিল তার প্রান | অন্যদিগন্ত

সোমবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ১০:৫০ পূর্বাহ্ন

নবীগঞ্জে মাকে বাড়ী আনতে গিয়ে লাশ হয়ে ফিরলেন হাফেজ মোজাক্কির, বেপরোয়া বাস কেড়ে নিল তার প্রান

এম,এ মুহিত.নবীগঞ্জ(হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি।।

বাবা মোবাশ্বির হোসেন সৌদি আরব প্রবাসী। মা ঝরণা বেগম গৃহিনী। সকালে মা ঝরনা বেগম ব্যক্তিগত কাজে নবীগঞ্জ থানা সদরে আসেন, বিকেলে বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে সিএনজি যোগে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পার্শ্ববর্তী আইনগাঁও সিএনজি স্ট্যান্ডে পৌঁছান। সেখান থেকে মা ঝরণা বেগম পুত্র মোজাক্কির হোসেনকে মোবাইল ফোনে জানান আইনগাঁও থেকে তাঁকে নিয়ে যাওয়ার জন্য। মায়ের কথা মতো একটি সিএনজি নিয়ে আইনগাঁও যান পুত্র মুজাক্কির। সেখান থেকে পুনরায় অপর একটি সিএনজি যোগে নিজ বাড়ি গজনাইপুরের ফিরছিলেন মা-পুত্র। কিন্তু মা বাড়ি ফিরলেও তাঁর প্রিয় সন্তান হাফেজ মোজাক্কির হোসেন ফিরেছেন লাশ হয়ে। এ ঘটনায় হতভম্ব দিনারপুরবাসী।
২২ বছরের টগবগে যুবক হাফেজ মুজাক্কির এভাবে অকালে সবাইকে ছেড়ে চলে যাবেন কেউই ভাবতে পারেনি। মৃত্যু চরম সত্য এ কথা আবারো প্রমাণিত হল মোজাক্কিরের চলে যাওয়ার মধ্য দিয়ে। নবীগঞ্জ উপজেলার গজনাইপুর ইউনিয়নের গজনাইপুর গ্রামের সৌদিআরব প্রবাসী মোবাশ্বির হোসেনের পুত্র মোজাক্কির হোসেন প্রায় দুই বছর পূর্বে স্থানীয় গজনাইপুর জামেয়া ইসলামীয়া ফুরকানিয়া মাদ্রাসা থেকে কোরআনে হাফেজ হিসেবে সনদপত্র গ্রহণ করেন। কোরআনে হাফেজ হলেও তিনি পেশা হিসেবে বেচে নেন ব্যবসাকে। জনতার বাজারে খুলেন একটি লাইব্রেরী দোকান। ব্যবসাও চলছিল ভালোই। কিন্তু দুর্ভাগ্য তার ও তার পরিবারের। গত শুক্রবার বিকেলে মাকে নিয়ে সিএনজি যোগে বাড়ি ফেরার পথে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার জনতার বাজার নামক স্থানে দ্রুতগতির বেপরোয়া অজ্ঞাত বাসের চাপায় দুমড়ে-মুছড়ে যায় তাদের বহনকারী সিএনজিটি। এতে গুরুতর আহত হন হাফেজ মোজাক্কির হোসেন (২২)। দ্রুত তাকে নেয়া হয় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগে। চিকিৎসাও চলছিল দ্রুতগতিতে। অতিরিক্ত রক্তকরণের কারণে প্রয়োজন দেখা দেয় রক্তের। রক্তের জন্য আত্মীয়-স্বজন বন্ধুবান্ধব চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন অবিরত।
কিন্তু শেষ রক্ষা হলনা মুজাক্কিরের। অবশেষে রাত ৮টার দিকে হাসপাতালের বেডে চিরনিদ্রায় চলে যান হাফেজ মোজাক্কির। এদিকে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে দিনারপুরে নেমে আসে শোকের ছায়া। রাত সাড়ে ৯ টায় মোজাক্কির এর মরদেহ নিয়ে লাশবাহী এ্যাম্বুলেন্স বাড়িতে পৌঁছালে এক হৃদয়বৃদারক দৃশ্যের অবতারন হয়। কান্নায় বার বার মুর্চা যাচ্ছিলেন মা ঝরনা বেগমসহ অন্যান্য আত্মীয়-স্বজন।শনিবার সকাল ১১টায় দক্ষিণ গজনাইপুর জামে-মসজিদ মাঠ প্রাঙ্গণে জানাযার নামাজ শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

Please Share This Post in Your Social Media


কপিরাইটঃ ২০১৬ দৈনিক অন্যদিগন্ত এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Design & Developed BY Seskhobor.Com
Shares
CrestaProject