চাঁদা দাবিতে ব্যবসায়ীকে মারধর করল আওয়ামীলীগ নেতা  | অন্যদিগন্ত

সোমবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ১০:২৭ পূর্বাহ্ন

চাঁদা দাবিতে ব্যবসায়ীকে মারধর করল আওয়ামীলীগ নেতা 

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

২০ লাখ টাকা চাঁদার দাবিতে ইউছুফ (৪৬) নামে এক ব্যবসায়ীকে আদমজী ইপিজেড থেকে তুলে নাসিক ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলের কার্যালয়ে নিয়ে মারধর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার (২ ডিসেম্বর) বিকাল সাড়ে ৪টায় আদমজী ইপিজেড অভন্তরের টিএনএস বাটন কারখানার সামনে থেকে ঐ ব্যবসায়ীতে তুলে নেওয়া হয়। পরে কাউন্সিলরসহ তার লোকজনসহ ঐ ব্যবসায়ীকে মারধর করে ছেড়ে দেওয়া হয়। এসময় তার মুঠো ফোন ছিনিয়ে নেন কাউন্সিলর নিজে। এ ঘটনায় ব্যবসায়ী ইউছুফ বাদী হয়ে সন্ধ্যায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

তবে অভিযুক্ত নাসিক ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও থানা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক আলী হোসেন আলা দাবী করেছেন তিনি ব্যবসায়ী ইউছুফকে তার লোকজন দিয়ে তুলে এনে সমঝোতা করে ছেড়ে দিয়েছেন। চাঁদা দাবির বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন, সন্ধ্যার পর তাকে আসতে বলা হয়েছে, সে আসলে তার মোবাইল ফোন ফিরিয়ে দেওয়া হবে।

কাউন্সিলর আলী হোসেন আলা দাবী করেন, তিনি দীর্ঘদিন যাবত আদমজী ইপিজেড অভন্তরের টিএনএস বাটন কারখানায় ব্যবসা করে আসছিলেন। কয়েক দিন পূর্বে ইউছুফ ঐ টিএনএস বাটন কারখানায় ব্যবসা করার জন্য কোটেশন দিয়ে আমার ব্যবসা নিয়ে যেতে চাচ্ছে। তাই ইউছুফকে আমার লোকজন তুলে এনে সমঝোতা করে ছেড়ে দেওয়া হয়। ইউছুফ বলেছে টিএনএস বাটন কারখানায় সে আর যাবে না।

এদিকে ব্যবসায়ী ইউছুফ জানান, টিএনএস বাটন কারখানা কর্তৃপক্ষ কোটশেন আহবান করলে তিনি কোটেশন দাখিল করে কাজ পান। কর্তৃপক্ষ তাকে কাজ দিয়েছেন তাই তিনি বৈধ ভাবে ঐ কারখানায় ব্যবসা করে আসছিলেন। হঠাৎ সোমবার বিকালে ঐ কারখানার সামনে থেকে ৩টি মোটরসাইকেলে করে শাহজাহান, হারুন, নজরুলসহ ৬ জন লোক তাকে জোর করে মোটরসাইকেলে করে নাসিক ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলের কার্যালয়ে নিয়ে নিয়ে যান। সেখানে পূর্ব থেকেই অবস্থান করছিলেন কাউন্সিলর আলী হোসেন আলা। এসময় ইউছুফকে কাউন্সিলর আলী হোসেন আলা বলে আমি কাউকে পরোয়া করিনা। ইপিজেডে ব্যবসা করতে হলে আমাকে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে। এ কথা বলেই কাউন্সিলর আলী হোসেন আলা ও তার লোকজন ইউছুফকে এলোপাতারি কিল ঘুষি মেরে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে কথা হলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) মোঃ কামরুল ফারুক বলেন, এক ব্যবসায়ী লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Print Friendly, PDF & Email

Please Share This Post in Your Social Media


কপিরাইটঃ ২০১৬ দৈনিক অন্যদিগন্ত এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Design & Developed BY Seskhobor.Com
Shares
CrestaProject